নয়াদিল্লি: বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ব্যক্তিগত উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি আবেদন দায়ের করা হয়েছে। ওই আবেদনে দাবি করা হয়েছে, একজন কর্মরত মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের ব্যক্তিগত হাজিরা “সাংবিধানিকভাবে অনুপযুক্ত” এবং “আইনত অগ্রহণযোগ্য”।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রথম কোনও কর্মরত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে সরাসরি সওয়াল করেন। তিনি শীর্ষ আদালতের কাছে পশ্চিমবঙ্গে চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের আবেদন জানান এবং অভিযোগ করেন যে রাজ্যকে লক্ষ্য করে ভোটারদের হয়রানি করা হচ্ছে।
এই মামলাসহ এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক আবেদনের শুনানি সোমবার সুপ্রিম কোর্টে হওয়ার কথা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই বেঞ্চের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়াও।
মুখ্যমন্ত্রীর হাজিরা নিয়ে আপত্তি তুলে আবেদনটি করেছেন অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার প্রাক্তন সহ-সভাপতি সতীশ কুমার আগরওয়াল। তিনি আদালতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা আবেদনে পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়টি কোনও ব্যক্তিগত বিরোধ নয়। এটি রাজ্য প্রশাসনের কার্যকারিতা এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই এই ধরনের মামলায় মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত পরিচয়ে হাজির হওয়া যুক্তিসংগত নয়।
আবেদনকারীর যুক্তি, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ইতিমধ্যেই তার নিযুক্ত আইনজীবীদের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে প্রতিনিধিত্ব করছে। সেই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উপস্থিতি বিচারিক প্রথা ও আদালতের প্রতিষ্ঠিত রীতিনীতির পরিপন্থী। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের উপস্থিতি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত এবং বিচারিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
উল্লেখ্য, ৪ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তাকে নোটিস জারি করে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেয়। তার আগেই, ১৯ জানুয়ারি আদালত নির্দেশ দিয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ হয় এবং সাধারণ ভোটারদের কোনও অসুবিধার মুখে পড়তে না হয়।
এই নতুন আবেদনের ফলে এসআইআর মামলা ঘিরে আইনি ও সাংবিধানিক বিতর্ক আরও গভীর হতে পারে বলেই মনে করছে আইন মহল।




















