কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই রাজ্যের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার (Ashok Kirtania)একটি মন্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। রবিবার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া নয়। তার পরিবর্তে তাঁদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
VIDEO | West Bengal: Minister Ashok Kirtania says, “We will not implement the Foreigners Act on anyone, infiltrators will be caught and pushed back to Bangladesh.”
(Full video available on PTI Videos – https://t.co/n147TvrpG7) pic.twitter.com/E70U2Nnc4b
— Press Trust of India (@PTI_News) May 31, 2026
অশোক কীর্তনিয়া দাবি করেন, রাজ্য সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনের লক্ষ্য হলো অবৈধভাবে বসবাসকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তিনি বলেন, “আমরা কারও ওপর ফরেনার্স অ্যাক্ট প্রয়োগ করব না, অনুপ্রবেশকারীদের ধরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।” মন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
আরও দেখুনঃ পুলিশের গাড়িতে হামলার অভিযোগ! গ্রেফতার ভাটপাড়া পুরসভার কাউন্সিলার মনোজ পান্ডে
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সীমান্তবর্তী এলাকায় জনসংখ্যার পরিবর্তন, ভোটার তালিকা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পরস্পরকে আক্রমণ করছে। এই প্রেক্ষাপটে অশোক কীর্তনিয়ার বক্তব্যকে অনেকেই সরকারের কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার বিরোধীরা একে রাজনৈতিক প্রচারের অংশ বলেও দাবি করছে।
মন্ত্রী আরও জানান, অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করার জন্য প্রশাসনিক পর্যায়ে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট” নীতির মাধ্যমে সন্দেহভাজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা হবে। এরপর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদিও এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ এবং আইনি কাঠামো নিয়ে এখনও নানা প্রশ্ন উঠছে।
সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতেও এই ইস্যুর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক এলাকায় প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পরিচয়পত্র এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের কাজও জোরদার করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর কথাও বলেন অশোক কীর্তনিয়া। তাঁর বক্তব্য, সীমান্ত সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং জমি হস্তান্তরের বিষয়েও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রোধে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হবে বলেও তিনি জানান।
মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থান প্রয়োজন। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, নাগরিকত্ব এবং অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এই ধরনের মন্তব্য সামাজিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তাঁদের মতে, যে কোনও পদক্ষেপ অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক বিধান মেনেই হওয়া উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুপ্রবেশ ইস্যু আগামী দিনেও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে। সীমান্তবর্তী রাজ্য হওয়ার কারণে এই প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলির অবস্থান এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ সবসময়ই জনমনে প্রভাব ফেলে। অশোক কীর্তনিয়ার সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। এখন নজর থাকবে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং এই বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে।




















