বীরভূমে এক রাজনৈতিক জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে লক্ষ্য করে একাধিক তীব্র মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গ, রাজনৈতিক সংঘর্ষ, এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, আগামী দিনে বাংলায় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে এবং সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বিজেপির নেতৃত্বে সম্ভাব্য সরকার গঠন।
অমিত শাহ বলেন, “বাংলায় ৪ মে-র পরে ডবল ইঞ্জিন সরকার হবে। বাংলার ভিতরে বিকাশের নতুন সময় শুরু হবে।” তাঁর এই মন্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন যে কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে উন্নয়ন আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে হবে। বিজেপি শিবিরে “ডবল ইঞ্জিন সরকার” বলতে সাধারণত কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের শাসনকে বোঝানো হয়, যেখানে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয় সহজ হয় বলে দাবি করা হয়। সভামঞ্চ থেকেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ময়ূরেশ্বর এলাকার পরিস্থিতির প্রসঙ্গ। তিনি দাবি করেন, “তৃণমূল ময়ূরেশ্বরকে বোমা বারুদের খাদান বানিয়ে দিয়েছে।” এই মন্তব্যে তিনি ওই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অভিযোগ করেন যে সেখানে রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অমিত শাহ আরও বলেন, ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিজেপি কর্মীদের উপর ব্যাপক অত্যাচার হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সেই সময় রাজ্যে বিরোধী দলের কর্মীদের উপর রাজনৈতিক চাপ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সঠিকভাবে বজায় ছিল না বলে তিনি মনে করেন।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি তৃণমূলের “গুন্ডা”দের উদ্দেশ্যে সরাসরি হুঁশিয়ারিও দেন। তিনি বলেন, “আমি আজ তৃণমূলের গুন্ডাদের বলে যাই, ২৩ এপ্রিল ঘরে বন্দি হয়ে থাকো। না হলে ৫ মে চুন চুনকে জেলের পিছনে পাঠানো হবে।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বিরোধী শিবির এই ধরনের ভাষাকে উসকানিমূলক বলে সমালোচনা করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।




















