ওয়াশিংটন: দীর্ঘ পাঁচ দশকের অপেক্ষা শেষ! একুশ শতকে চাঁদের কাছে প্রথম মানব-অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করল নাসা। ইতিহাস গড়ে পৃথিবীতে নিরাপদে ফিরে এলেন আর্টেমিস ২ (Artemis II) মিশনের চার মহাকাশচারী। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে চরম তাপমাত্রার ‘অগ্নিপরীক্ষা’ পেরিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে সফলভাবে অবতরণ করল ওরিয়ন মহাকাশযান।
৪ লক্ষ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ইতিহাস
পৃথিবী থেকে ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৭৭৮ কিলোমিটার দূরে পাড়ি দিয়েছিলেন চার মহাকাশচারী- কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ ও জেরেমি হ্যানসেন। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এর আগে কোনও মানুষ পৃথিবী থেকে এত দূরে যাননি। চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে ১০ দিনের এই রুদ্ধশ্বাস মিশন শেষে হাসিমুখে পৃথিবীতে ফিরেছেন তাঁরা। নাসা ও নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী দল দ্রুত তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করে।
আগুনের গোলা পেরিয়ে পৃথিবীতে ফেরা
এই মিশনের সবচেয়ে কঠিন পর্যায় ছিল পৃথিবীতে ফিরে আসা। ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি গতিবেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ওরিয়ন ক্যাপসুল। প্রচণ্ড তাপ ও ঘর্ষণে যানটি কার্যত আগুনের গোলায় পরিণত হলেও, ওরিয়নের অত্যাধুনিক হিট শিল্ড সেই চরম তাপমাত্রা সফলভাবে মোকাবিলা করে। শেষে প্যারাশুট খুলে প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে নেমে আসে মহাকাশযানটি।
লক্ষ্য এবার চাঁদের মাটি ও মঙ্গল গ্রহ
অ্যাপোলো মিশনের পর এই প্রথম মানুষ চাঁদের এত কাছাকাছি পৌঁছল। এই সফরে মহাকাশচারীরা চাঁদের অনবদ্য কিছু ছবি তুলেছেন এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও লাইফ-সাপোর্ট সিস্টেম পরীক্ষা করেছেন। আর্টেমিস ২-এর এই বিপুল সাফল্য আসলে পরবর্তী মিশন ‘আর্টেমিস ৩’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করল, যার লক্ষ্য চাঁদের মাটিতে ফের মানুষকে নামানো। নাসার দাবি, এই যুগান্তকারী মিশন শুধু চাঁদে নয়, আগামী দিনে মঙ্গল গ্রহে মানব-অভিযানের রাস্তাও প্রশস্ত করল।




















