নাসার চন্দ্রাভিযানের সময় নভোচারীদের হাতে থাকবে বিশেষ ব্যান্ড

নাসার (NASA) আর্টেমিস ২ মিশন সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এসেছে, যা এটিকে শুধু একটি মহাকাশ অভিযানই নয়, বরং মানব আচরণ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি প্রধান গবেষণা প্রকল্পে পরিণত ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
NASA band

নাসার (NASA) আর্টেমিস ২ মিশন সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এসেছে, যা এটিকে শুধু একটি মহাকাশ অভিযানই নয়, বরং মানব আচরণ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি প্রধান গবেষণা প্রকল্পে পরিণত করেছে। অ্যাপোলোর পর এই প্রথমবার মানুষ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ ছাড়িয়ে গভীর মহাকাশে যাত্রা করবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এবার নভোচারীদের ওপর একটি বিশেষ গবেষণা চালানো হবে, যেখানে তাদের ঘুমের ধরণ, মানসিক চাপ এবং দলগত কাজের ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখা হবে। এটি করার জন্য, চারজন নভোচারীকেই রিস্টব্যান্ড পরানো হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই রিস্টব্যান্ডগুলো কীভাবে কাজ করবে।

নাসা ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল, ভারতীয় সময় ভোর ৩:৫৪ মিনিটে আর্টেমিস ২ অভিযান উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অভিযানে চারজন মহাকাশচারী একটি ওরিয়ন ক্যাপসুলে করে চাঁদের চারপাশে ভ্রমণ করবেন এবং প্রায় ১০ দিন মহাকাশে অবস্থান করবেন। এই অভিযানটিকে চাঁদে মানুষের প্রত্যাবর্তনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

   

এই অভিযান চলাকালীন “আর্চার” নামে একটি বিশেষ গবেষণা পরিচালিত হবে, যার পুরো নাম হলো আর্টেমিস রিসার্চ ফর ক্রু হেলথ অ্যান্ড রেডিনেস। এই কর্মসূচির অধীনে, সকল নভোচারী বিশেষ রিস্টব্যান্ড পরবেন যা তাদের ঘুম, মানসিক চাপের মাত্রা, নড়াচড়া এবং আচরণের রিয়েল-টাইম ডেটা রেকর্ড করবে। সংস্থাটির মতে, এই ডেটা বুঝতে সাহায্য করবে যে গভীর মহাকাশের বিচ্ছিন্ন পরিবেশ মানুষকে কীভাবে প্রভাবিত করে।

এই অভিযানে নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। তাদের জ্ঞানীয় কর্মক্ষমতা, আচরণ এবং দলগত কাজ আরও ভালোভাবে বোঝার জন্য অভিযানের আগে, চলাকালীন এবং পরে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের অভিযানের চেয়ে গভীর মহাকাশের অভিযানগুলো দীর্ঘতর ও অধিকতর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, এবং এতে মানসিক চাপ ও বিচ্ছিন্নতাও বেশি থাকে। এই গবেষণাটি ভবিষ্যৎ অভিযান, বিশেষ করে মঙ্গল অভিযানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হতে পারে।
নাসার মানব গবেষণা কর্মসূচির অধীনে সংগৃহীত এই তথ্য ভবিষ্যতে নভোচারীদের নিরাপত্তা ও কর্মক্ষমতা উন্নত করার জন্য নতুন প্রযুক্তি, প্রোটোকল এবং সিস্টেম তৈরিতে সাহায্য করবে। নাসার মনোবিজ্ঞানী সুজান বেলের মতে, এই গবেষণাটি বুঝতে সাহায্য করবে যে নভোচারীরা কীভাবে দলবদ্ধভাবে কাজ করেন এবং মিশন কন্ট্রোলের সাথে কীভাবে সমন্বয় করেন।

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।