সম্প্রতি ভারত সফরে এসেছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (Saudi Arabia)রাষ্ট্রপতি শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ। ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, এলএনজি সরবরাহ এবং এমনকি উন্নত নিউক্লিয়ার প্রযুক্তিতে সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে ভারত সফর শেষ করেই পাক রাজধানী ইসলামাবাদে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের প্রকল্প থেকে আগ্রহ হারিয়েছে সৌদি। এই ঘটনা ভূ রাজনৈতিক মানচিত্রে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন কূটনীতিকরা। তাদের মতে এই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ানো পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউজিসি-র নয়া গাইডলাইন ঘিরে চরম সংঘাত! কী বলা হয়েছে তাতে?
এবং সবচেয়ে বড় কথা ভারত সফরের পরেই এই ধরণের সিদ্ধান্তকে অনেকেই ভারতের প্রভাব বলে উল্লেখ করেছেন। ভারতে এই সফরের পরই সৌদি ভারতের সঙ্গে তার কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করার সিদ্ধান্ত নেয়, যার মধ্যে ৯০০ ভারতীয় বন্দির মুক্তিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই ঘটনাগুলোকে অনেক বিশ্লেষক পাকিস্তানের জন্য একটা পরোক্ষ চাপ হিসেবে দেখছেন।
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এমনিতেই নিম্নগামী। বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্বল ব্যবস্থাপনা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং বিশাল লোকসান চলছে। গত বছর পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ)-কে বেসরকারিকরণ করেছে, যা ছিল একটা বড় পদক্ষেপ। ইসলামাবাদ বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা ইউএই-এর হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাটি ছিল বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের আরেকটা প্রচেষ্টা। সৌদির অভিজ্ঞতা আফগানিস্তানের মতো চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে বিমানবন্দর চালানোর ক্ষেত্রে প্রমাণিত।
তবু তারা এই প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ায় পাকিস্তানের আস্থা হারানোর একটা স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক কারণও লুকিয়ে থাকতে পারে। পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে গভীর প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে এবং তুরস্ককে নিয়ে একটা ‘ইসলামিক ন্যাটো’ গড়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব ও ইউএই-এর মধ্যে ইয়েমেনে বিভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধ চলছে।
ইউএই ভারতের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে, যা পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী গাল্ফ অংশীদারিত্বের ওপর প্রশ্ন তুলেছে। অতীতে ইউএই ছিল পাকিস্তানের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং রেমিট্যান্সের উৎস। হাজার হাজার পাকিস্তানি সেখানে কাজ করতেন। কিন্তু এখন সম্পর্কের গতিপথ বদলাচ্ছে। পাকিস্তান সরকার এখন ইসলামাবাদ বিমানবন্দরকে পুরোপুরি বেসরকারিকরণের তালিকায় নিয়ে এসেছে।
কিন্তু ইউএই-এর মতো শক্তিশালী অংশীদার না থাকায় এই প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিমানবন্দরের পরিকাঠামো, নিরাপত্তা এবং আধুনিকীকরণের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ জরুরি ছিল। এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।




















