ইউজিসি-র নয়া গাইডলাইন ঘিরে চরম সংঘাত! কী বলা হয়েছে তাতে?

নয়াদিল্লি: দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে জাতিগত বৈষম্য রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবিসি, এসসি, এসটি এবং সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের সুরক্ষা নিশ্চিত…

UGC New Guidelines

নয়াদিল্লি: দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে জাতিগত বৈষম্য রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ওবিসি, এসসি, এসটি এবং সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নতুন গাইডলাইন জারি করা হয়েছে। তবে এই নিয়ম ঘিরেই দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। বিশেষ করে উত্তর ভারতে জেনারেল ক্যাটেগরির পড়ুয়া ও বিজেপি নেতাদের একাংশের মধ্যে এই নিয়ে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

কী রয়েছে ইউজিসি-র নতুন গাইডলাইনে?

ইউজিসি-র প্রস্তাবিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ইক্যুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার’ (EOC) তৈরি করা বাধ্যতামূলক। এই সেন্টারের অধীনে থাকবে একটি শক্তিশালী ‘ইক্যুইটি কমিটি’। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিজে এই কমিটির সভাপতিত্ব করবেন। সদস্য হিসেবে থাকবেন ওবিসি, এসসি, এসটি, মহিলা এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের প্রতিনিধিরা। শিক্ষাঙ্গনে জাতপাত সংক্রান্ত যে কোনও অভিযোগের তদন্ত ও সমাধান করবে এই কমিটি। নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ইউজিসি স্বীকৃতি বাতিল হতে পারে, এমনকি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে সরকারি ফান্ড।

   

কেন বাড়ছে বিতর্ক? UGC New Guidelines

এই নতুন নিয়ম ঘিরেই উত্তরপ্রদেশ-সহ উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। জেনারেল ক্যাটেগরির পড়ুয়া এবং শিক্ষকদের বড় অংশ আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে৷

প্রথমত, একতরফা নিয়ম- সমালোচকদের দাবি, এই গাইডলাইনটি ‘এক শ্রেণি শোষিত এবং অন্য শ্রেণি শোষক’, এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

দ্বিতীয়ত, মিথ্যা মামলার ভয়- সাধারণ শ্রেণির পড়ুয়াদের আশঙ্কা, এই কমিটির মাধ্যমে তাঁদের মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হতে পারে।

তৃতীয়ত, জরিমানার অভাব- অভিযোগকারীদের জন্য কোনও শাস্তির বিধান না থাকায় এই আইনের অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলে দাবি করা হচ্ছে।

বিজেপির অন্দরেই বিদ্রোহ, গণ-পদত্যাগ

ইউজিসি-র এই নয়া নিয়মকে কেন্দ্র করে খোদ শাসক দল বিজেপির অন্দরেই ফাটল ধরেছে। সোমবার লখনউতে ১১ জন বিজেপি আধিকারিক দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। নয়ডায় বিজেপি যুব মোর্চার সহ-সভাপতি রাজু পণ্ডিত পদত্যাগ করে এই নিয়মকে ‘কালো আইন’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ সঞ্জয় সিং-ও এই গাইডলাইন নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জৌনপুরে ‘ধর্ম রক্ষা আন্দোলন’-এর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে দাবি করা হয়েছে, এই আইন সংবিধানের মূল ভাবনার পরিপন্থী।