বিট্টু দত্ত, কলকাতা: বাংলার ফুটবল মানেই আবেগ, উন্মাদনা আর পরিচয়ের লড়াই। সেই আবেগের সবচেয়ে বড় কেন্দ্রগুলোর একটি মোহনবাগান। সবুজ-মেরুন জার্সিকে ঘিরে আজও অগণিত সমর্থকের ভালোবাসা, আশা আর স্বপ্ন জড়িয়ে আছে। ম্যাচের দিন স্টেডিয়ামে সমর্থকদের ঢল নামে, জয়ের জন্য প্রার্থনা চলে সর্বত্র। এই আবেগের বিস্ফোরণের সঙ্গে খুব ভালোভাবেই পরিচিত মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা।
কারণ তাঁর হাত ধরেই সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাবটি একের পর এক সাফল্যের মুখ দেখেছে। তবে ফুটবলে যে সাফল্যের স্বাদ তিনি পেয়েছেন, ক্রিকেটে এখনও তা অধরাই রয়ে গেছে। আইপিএলে তাঁর মালিকানাধীন লখনউ সুপার জায়ান্টস এখনও প্রত্যাশা অনুযায়ী ধারাবাহিক সাফল্য পায়নি। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই বিষয়েই মুখ খুলেছেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। সেখানে মোহনবাগানের সাফল্য এবং লখনউয়ের ব্যর্থতার তুলনা উঠে আসে। গোয়েঙ্কা স্পষ্টই জানিয়েছেন, ফুটবলে তাঁদের পরিকল্পনা অনেক বেশি পরিণত এবং কার্যকর। তিনি বলেন, মোহনবাগানে এখন তাঁরা বুঝে গিয়েছেন কখন কী সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কোথায় দলকে শক্তিশালী করতে হবে এবং কোন সময়ে কোন পরিবর্তন প্রয়োজন। সেই সঠিক পরিকল্পনাই ক্লাবকে সাফল্যের পথে এগিয়ে দিয়েছে।
কিন্তু ক্রিকেটে সেই জায়গায় এখনও পৌঁছতে পারেনি লখনউ সুপার জায়ান্টস। গোয়েঙ্কার মতে, ক্রিকেটে এখনও সেই নির্ভুল সাফল্যের ফর্মুলা খুঁজে পাওয়া যায়নি। যদি তা পাওয়া যেত, তাহলে এতদিনে নিশ্চয়ই কাজে লাগানো হত। তাঁর এই মন্তব্য থেকেই পরিষ্কার, ফুটবলের মতো ক্রিকেটেও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল পরিকল্পনা গড়ে তুলতে চাইছে ফ্র্যাঞ্চাইজি, কিন্তু এখনও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। গত মরশুমে লখনউয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল বোলিং বিভাগ। সেই দুর্বলতা দূর করতে এবারের নিলামে দল যথেষ্ট চেষ্টা করেছে বলেও জানান তিনি। নতুন বোলার নেওয়া হয়েছে, স্কোয়াডকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাটিং বিভাগও প্রায় একই রাখা হয়েছে, কারণ সেখানে সম্ভাবনা ছিল। তবে সমস্যার জায়গা এবার অন্যত্র। গোয়েঙ্কার মতে, এ মরশুমে ব্যাটাররা প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে পারছেন না। বড় ম্যাচে রান না পাওয়া, ধারাবাহিকতার অভাব এবং চাপের মুহূর্তে ব্যর্থতাই দলের পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ। ফলে শক্তিশালী দল গড়েও সাফল্য আসছে না।
অন্যদিকে মোহনবাগানের চিত্র একেবারেই আলাদা। সঞ্জীব গোয়েঙ্কার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ক্লাবটি ভারতীয় ফুটবলে অন্যতম শক্তিশালী দল হয়ে উঠেছে। গত দু’বছর আইএসএল লিগ শিল্ড জিতেছে তারা। গতবার শিল্ডের পাশাপাশি কাপও জিতেছিল। এবারও আবার শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। লখনউ সুপার জায়ান্টস আইপিএলে প্রথম দু’বছর প্লে-অফে উঠলেও পরের দু’মরশুমে সপ্তম স্থানে শেষ করেছে। এবারের শুরুও খুব একটা ভালো হয়নি। তাই ফুটবলের সাফল্যকে ক্রিকেটে রূপান্তর করাই এখন সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।




















