দিনহাটায় বহিষ্কারের ঘণ্টাখানেকেই বিজেপিতে সঞ্জিত, বাড়ল রাজনৈতিক চাঞ্চল্য

কোচবিহার: দিনহাটায় রাজনৈতিক নাটকের এক নতুন অধ্যায় দেখা গেল। সোমবার সকালে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হন দলের অঞ্চল সভাপতি সঞ্জিত বর্মন। আর বিকেলেই বিজেপির রাজ্য…

sanjit-barman-joins-bjp-after-tmc-expulsion-dinhata-political-shift

কোচবিহার: দিনহাটায় রাজনৈতিক নাটকের এক নতুন অধ্যায় দেখা গেল। সোমবার সকালে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হন দলের অঞ্চল সভাপতি সঞ্জিত বর্মন। আর বিকেলেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।

তৃণমূল থেকে বহিষ্কারের পরপরই বিজেপিতে যোগদান

সঞ্জিত বর্মন যোগদানের পর সাংবাদিকদের বলেন, “বহুদিন আগে থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে আমার দূরত্ব বাড়ছিল। তারা আমাকে কোনও মিটিং বা মিছিলে ডাকত না, আমিও যেতাম না।”

   

তিনি আরও গুরুতর অভিযোগ করে বলেন, “দলেরই মদতে পুলিশ দিয়ে আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এমন জায়গায় রাখা হয় যেখানে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতেও দেওয়া হয়নি।” এরপর থেকেই তাঁর মনে ক্ষোভ জমতে থাকে এবং তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

একসঙ্গে যোগ দিলেন প্রায় ২০০ জন

দিনহাটা বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী অজয় রায় জানান, শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে শুধু সঞ্জিত বর্মনই নয়, পাঁচজন পঞ্চায়েত সদস্যসহ প্রায় ২০০ জন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

অজয় রায় আরও বলেন, “তৃণমূল আগে থেকেই জানতে পেরেছিল যে সঞ্জিত বর্মন আমাদের দলে যোগ দিতে চলেছেন। তাই তারা তড়িঘড়ি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।”

রাজনৈতিক তাৎপর্য

এই ঘটনা বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিনহাটা এলাকায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। একজন অঞ্চল সভাপতির এভাবে দল বদল এবং সঙ্গে প্রায় ২০০ জনের যোগদান বিজেপির জন্য একটি বড় প্রচার হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সঞ্জিত বর্মনের অভিযোগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পুলিশের অপব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের তরফে এই বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

দিনহাটায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে

দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্র ইতিমধ্যেই সংবেদনশীল। কয়েকদিন আগেই বিজেপির রোড শোয়ের সময় তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে স্লোগানযুদ্ধ হয়। তার রেশ এখনও কাটেনি। এর মধ্যে এই বড় যোগদানের ঘটনা এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল করে তুলেছে।

বিজেপি নেতারা বলছেন, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও দলত্যাগের স্রোতের শুরু মাত্র। অন্যদিকে তৃণমূল শিবির এখনও চুপ থাকলেও, দলের ভেতরে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অবশ্য এসব ঘটনায় উদ্বিগ্ন। অনেকে বলছেন, “নির্বাচন যত এগোচ্ছে, রাজনৈতিক উত্তেজনা তত বাড়ছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চাই।”

শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে এই যোগদান অনুষ্ঠানটি বিজেপির জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা হয়ে উঠেছে। দলীয় কর্মীরা এটিকে ‘তৃণমূলের ভাঙনের শুরু’ হিসেবে দেখছেন।

এই ঘটনার পর দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রে নজর আরও বেড়েছে। আগামী দিনে এখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।