সম্ভল: যোগী আদিত্যনাথের ‘বুলডোজার অভিযান’ এবার আরও শক্তিশালী। (Mosque Demolition)সম্ভল জেলায় সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত একটি মসজিদ ও ইমামবাড়ার প্রায় ৫০ ফুট উঁচু মিনার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারী যন্ত্রপাতি ও বুলডোজারের সাহায্যে পুরো কাঠামো মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্টেবুলারি (পিএসি) মোতায়েন করা হয়েছিল।জেলা প্রশাসনের দাবি, ওই মসজিদ ও ইমামবাড়া সরকারি জমিতে অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছিল।
মিনারটি প্রায় ৫০ ফুট উঁচু ছিল এবং হাইড্রা ক্রেন ও বুলডোজার ব্যবহার করে একে ধ্বংস করা হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, এই জমি চারণভূমি বা সারের গর্তের জন্য সংরক্ষিত ছিল। স্থানীয় গ্রাম সভার জমি দখল করে ধর্মীয় স্থাপনা তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও অবৈধ নির্মাণ সরানো না হওয়ায় প্রশাসন বাধ্য হয়ে অভিযান চালায়।ঘটনার সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ভিড় সামলাতে কড়া ব্যবস্থা নেয় এবং জনসাধারণকে দূরে রাখে।
আরও দেখুনঃ আপনার আধার কি ১০ বছরের পুরনো? বিনামূল্যে আপডেট করা যাবে ১৪ই জুন পর্যন্ত
প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনো ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান নয়, বরং অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ। যোগী সরকারের ‘বুলডোজার মডেল’ অনুসারে সরকারি জমি উদ্ধারের এই অভিযান চলছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।সম্ভল জেলায় এ ধরনের অভিযান নতুন নয়। গত কয়েক মাসে একাধিকবার অবৈধ মাদ্রাসা, মসজিদ ও অন্যান্য স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এসব ক্ষেত্রে নোটিশ দেওয়া হয় এবং স্বেচ্ছায় না সরালে বুলডোজার ব্যবহার করা হয়।
কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় গ্রামবাসীরাও অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তবে এই অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে।সমালোচকরা বলছেন, যোগী সরকারের এই অভিযান একপেশে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। তারা দাবি করেন, ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতারা বলছেন, আইন সবার জন্য সমান। সরকারি জমি যে কেউ দখল করে ধর্মীয় স্থাপনা তৈরি করতে পারবে না।
এটি ‘ভূমি জিহাদ’-এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ।স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বলছেন, সরকারি জমি জনকল্যাণে ব্যবহার করা উচিত। অন্যদিকে কিছু মানুষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বলছেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসন জোর দিয়ে বলেছে, অভিযান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।




















