অন্ধকে চক্ষু দান করে মৌলবাদীদের হাতে নিগৃহীত রাবেয়া বিবির পরিবার

কৃষ্ণনগর: নদিয়ার কৃষ্ণনগরে ঘটে গেল একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। (Rabeya Bibi)যে ঘটনা আজকের দিনেও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে বার্ধক্যজন্য ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
rabeya-bibi-eye-donation-attack-krishnanagar

কৃষ্ণনগর: নদিয়ার কৃষ্ণনগরে ঘটে গেল একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। (Rabeya Bibi)যে ঘটনা আজকের দিনেও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে বার্ধক্যজন্য কারণে মারা যান সেনপুর শ্যামনগর পাড়ার বাসিন্দা রাবেয়া বিবি (৬৩)। তিনি ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর কলকাতার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘গণদর্পণ’-এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে চোখ দানের অঙ্গীকার করেছিলেন।

মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে স্কুল শিক্ষক আমির চাঁদ শেখ সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসকদের ডেকে আনেন। প্রোটোকল অনুসারে রাবেয়া বিবির কর্নিয়া সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে দু’জন অন্ধ ব্যক্তির দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।কিন্তু এই মানবিক কাজটিই পরিবারের জন্য বিপদ ডেকে আনে। প্রতিবেশীদের একাংশ এবং মৌলবাদীরা দাবি করেন ইসলামে অঙ্গদান অধার্মিক।

   

দেশে পাকিস্তানী ওষুধ নিষিদ্ধ করে ভারতের হাত ধরল তালিবান সরকার

রাবেয়া বিবির পরিবার সেই কটাক্ষে কান না দিলে তারা অভিযোগ করেন যে পরিবারের সদস্যরা মায়ের চোখ ও অন্যান্য অঙ্গ বিক্রি করে দিয়েছেন অর্থের লোভে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার পুলিশ সোমবার আমির চাঁদ শেখসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আমির চাঁদ শেখ জানিয়েছেন, “আমার মা নিজে চক্ষুদানের অঙ্গীকার করেছিলেন।

আমরা সবাই সম্মতি দিয়েছি। এখানে কোনো অবৈধ কাজ হয়নি। প্রতিবেশীরা আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।” তিনি আরও বলেন যে পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই গ্রেফতার করেছে, যা শোকের সময়ে পরিবারের ওপর অত্যাচারের মতো।এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গণদর্পণের সম্পাদক মনীশ সরকার বলেছেন, “এটি পুলিশের সম্পূর্ণ অশিক্ষিত মনোভাবের পরিচয়।

রাবেয়া বিবির অঙ্গীকারপত্র রয়েছে, পরিবারের সম্মতি ছিল। পুলিশের উচিত ছিল পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সম্মান জানানো, গ্রেফতার করা নয়।” পশ্চিমবঙ্গ ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া বলেছেন, “যদি কেউ স্বেচ্ছায় অঙ্গ দানের অঙ্গীকার করে, তাহলে ইসলামে তা বন্ধ করার কোনো বিধান নেই। শোকের সময়ে পরিবারকে গ্রেফতার করা অন্যায়।”

পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনা নদিয়া জেলায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং রাজ্যের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছে। পরিবারের সদস্যরা এখন জেলে, শোক পালন করতে পারছেন না। এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল যে মানবিক কাজের পথে কীভাবে গুজব ও ভুল বোঝাবুঝি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সকল পক্ষের দায়িত্বশীলতা ও সত্যের তদন্তই এখন জরুরি।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google