বাংলায় চুরি! ৪ বছরে রেকর্ড সরকারি চাকরি দিয়ে শিরোনামে গেরুয়া রাজ্য

কলকাতা: বাংলায় যেখানে কর্ম সংস্থানের কোনও খবর নেই। (Uttarakhand)সরকারি চাকরি পাওয়া তো দূরস্থান। পাওয়া চাকরিও হাতছাড়া হয়ে গিয়ে বেকার স্কুল শিক্ষক শিক্ষিকারা। এই ঘটনারই বিপরীত…

uttarakhand-record-government-jobs-dhami

কলকাতা: বাংলায় যেখানে কর্ম সংস্থানের কোনও খবর নেই। (Uttarakhand)সরকারি চাকরি পাওয়া তো দূরস্থান। পাওয়া চাকরিও হাতছাড়া হয়ে গিয়ে বেকার স্কুল শিক্ষক শিক্ষিকারা। এই ঘটনারই বিপরীত ছবি দেখা গেল উত্তরাখণ্ডে, ধামির ডবল ইঞ্জিন সরকারের জমানায়। উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুস্কর সিং ধামি একটি জনসভায় বলেছেন সম্প্রতি তিনি ১০০০ র বেশি শিক্ষককে নিয়োগপত্র হস্তান্তর করেছেন।

এই নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা করেন যে গত চার বছরে রাজ্যে ২৮,০০০-এর বেশি সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে যা রাজ্য গঠনের পর থেকে আগের সমস্ত সরকারের মোট নিয়োগের চেয়ে অনেক বেশি। এই নিয়োগপত্র প্রধানত সহকারী শিক্ষক (এলটি গ্রেড), প্রাইমারি টিচার ও অন্যান্য শিক্ষা বিভাগের পদে দেওয়া হয়েছে।

   

পাখির চোখ ’২৬-এর বিধাসভা ! মোদীর পর দু’দিনের সফরে রাজ্যে আসছে অমিত শাহ

মুখ্যমন্ত্রী তার বিবৃতিতে বলেছে যে তিনি এবং তার সরকার শিক্ষা ব্যাবস্থায় বিশেষ ভূমিকা নিতে চান। তিনি আরো বলেন নতুন শিক্ষকরা গ্রামীণ ও পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াবেন।” রাজ্যের শিক্ষা বিভাগে এই নিয়োগ শিক্ষক-শূন্যতা পূরণে বড় ভূমিকা নেবে। উত্তরাখণ্ডে অনেক স্কুলে শিক্ষকের অভাব ছিল, এখন সেই সমস্যা কমবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত উত্তরাখণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউকেপিএসসি), সাবর্ডিনেট সার্ভিসেস সিলেকশন কমিশন (ইউকেএসএসএসসি) ও মেডিক্যাল সার্ভিসেস সিলেকশন কমিশনের মাধ্যমে এই নিয়োগ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ধামী বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, পেপার লিক ও ঘুষের রাজত্ব ছিল। আমরা কঠোর অ্যান্টি-চিটিং আইন প্রণয়ন করে স্বচ্ছতা এনেছি। যোগ্য প্রার্থীরা এখন মেধার ভিত্তিতে চাকরি পাচ্ছেন।” তিনি দাবি করেন, এই চার বছরে নিয়োগের সংখ্যা পূর্ববর্তী সব সরকারের যোগফলের দ্বিগুণেরও বেশি।

এই ঘোষণার পরেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে বাংলার সঙ্গে উত্তরাখণ্ডের তুলনা চলছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ দাবি করেছেন যে উত্তরাখন্ড সরকারের যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা প্রশংসা যোগ্য। কিন্তু পাশাপাশি বাংলায় কি চলছে। ২০২১ র বিধানসভা নির্বাচনে জেতার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছিলেন ডবল ডবল চাকরি হবে। কিন্তু চাকরি তো দূরস্থান ২৬০০০ শিক্ষক শিক্ষিকার চাকরি চলে গিয়েছে।

তারা বলেছেন শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতির জেরে ২০১৬ র পুরি প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিত গঙ্গোপাধ্যায়। সেই ঘটনার পরে কিভাবে উত্তাল হয়েছিল বাংলা তা সবাই দেখেছে। কিন্তু উত্তরাখণ্ডের মত জায়গায় যেখানে এত চ্যালেঞ্জ সেখানে দাঁড়িয়ে সরকারের যে পদক্ষেপ তা কুর্নিশের দাবি রাখে।