নয়াদিল্লি/কলকাতা: দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে দলবদলের ‘পারিতোষিক’-এর চর্চা। জোড়াফুল শিবির ত্যাগ করে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দিয়েছেন ২০ জন বিক্ষুব্ধ সাংসদ। এই বিপুল সংখ্যক যোগদানের ফলে একধাক্কায় এনডিএ (NDA) জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দলের তকমা পেতে চলেছে তারা। আর এই রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরেই আসন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদলে বাংলা থেকে বড়সড় চমক পাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। (Twenty TMC MPs join NCPI ahead of NDA cabinet reshuffle)
শিকে ছিঁড়তে পারে কাদের?
রাজনৈতিক মহলের মতে, মোদী মন্ত্রিসভার এই রদবদলে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর একাধিক নেতাকে পুরস্কৃত করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়ের নামও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে খবর। শুধু তাই নয়, এই রদবদলে রাজ্য বিজেপি থেকেও কোনও এক শীর্ষ নেতা পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
দিদির প্রতি ‘সম্মান’, অথচ পূর্বতন সরকারের তীব্র সমালোচনা
অন্যদিকে, দলত্যাগ এবং নয়া রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে এবার লোকসভার সচিবালয়ে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য গঠিত জোটের সমর্থন-পত্রে স্বাক্ষর করে প্রাক্তন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন ঠিকই, কিন্তু গত দেড় দশকে রাজ্যের থমকে থাকা উন্নয়ন নিয়ে নিজের তীব্র ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন।
বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজের ঢালাও প্রশংসা করে রচনা বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা সকলেই সম্মান করি, তৃণমূল মানেই দিদি। কিন্তু শুধুমাত্র তো সম্মান দিয়ে মানুষের কাজ করা যায় না! আমি মানুষের কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের ভোট পেয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে পদে পদে বাধা পাচ্ছিলাম।” তিনি আরও যোগ করেন, রাজ্যের দ্রুত উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে মসৃণ সমন্বয় বা ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের অত্যন্ত প্রয়োজন।
জুলাইয়ের মধ্যেই মিটবে আইনি প্রক্রিয়া
সংযুক্তিকরণের গোটা রূপরেখা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি জানিয়েছেন, এনসিপিআই-এর সঙ্গে সংযুক্তিকরণের প্রথম পর্যায়ের আলোচনা ইতিমধ্যেই সফলভাবে সারা হয়ে গিয়েছে। হাইকম্যান্ডের তলব পেলে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হবে। তিনি আরও আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী ২০ জুলাই সংসদে বাদল অধিবেশন বসার আগেই জোট ও দলবদলের এই সম্পূর্ণ আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াটি পাকাপাকিভাবে শেষ হয়ে যাবে।
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকাশ্য অবস্থান বদল, শতাব্দী রায়কে ঘিরে মন্ত্রিত্বের জল্পনা এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া সময়সীমা, সব মিলিয়ে বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণ যে অভাবনীয় দ্রুততায় বদলে যাচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।



