তিরুবনন্তপুরমে: বাম রাজ্য কেরলে ক্রমেই শক্তি বাড়াচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (Transgender Community)। কেরলের বৃহন্নলা সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন সদস্য ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিলেন। এই যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেরল বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর। তিরুবনন্তপুরমে এই ইভেন্টটি দলের জন্য একটা বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ কেরলে বিজেপির ঘাঁটি মজবুত করার চেষ্টায় এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
কেরল সবসময়ই সমাজের প্রান্তিক অংশের অধিকারের জন্য অগ্রগামী। ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য প্রথম রাজ্য নীতি এখানেই চালু হয়েছে, অনেক সরকারি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এই সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ কম ছিল। এখন বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ট্রান্সজেন্ডার সদস্যরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস’ নীতিতে তারা বিশ্বাস করেন। তারা মনে করেন, বিজেপি সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক দল, যেখানে ধর্ম, লিঙ্গ, জাতি নির্বিশেষে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়া হয়।
আরও দেখুন: বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক! নীতীশ দিল্লিতে, বিহারের মসনদে গেরুয়া শিবির?
রাজীব চন্দ্রশেখর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সবাইকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, “এটা শুধু যোগদান নয়, এটা বিশ্বাসের প্রকাশ। বিজেপি সবার জন্য দরজা খোলা রাখে। কেরলে আমরা সব সম্প্রদায়কে একসঙ্গে নিয়ে এগোতে চাই।” এই ঘটনা দলের জন্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ কেরলে বিজেপির ভোট শেয়ার এখনও কম। লোকসভা নির্বাচনে তিরুবনন্তপুরমে রাজীব চন্দ্রশেখর নিজে লড়াই করেছেন, দলের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
এখন ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের যোগদান দলকে নতুন ভোটার বেস তৈরি করতে সাহায্য করবে।কেরলে ট্রান্সজেন্ডারদের সংখ্যা খুব বেশি নয়, কিন্তু তারা সক্রিয়। অনেকে সমাজে লড়াই করে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন। এই যোগদানকে অনেকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। একজন যোগদানকারী বলেন, “আমরা চাই আমাদের সমস্যা চাকরি, স্বাস্থ্য, সম্মান সরকারের কাছে পৌঁছাক। বিজেপির নীতি আমাদের আশা জাগিয়েছে।”
অন্যদিকে, বিরোধীরা এটাকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ বলে সমালোচনা করছেন। তারা বলছেন, বিজেপি কেরলে ভিত্তি বাড়ানোর জন্য সবাইকে টানছে, কিন্তু আসল সমস্যা সমাধান করবে কি না সন্দেহ।রাজীব চন্দ্রশেখরের নেতৃত্বে কেরল বিজেপি নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। তিনি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা তাঁর আধুনিক ছবি দলকে নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলছে। সম্প্রতি মুনাম্বামের বাসিন্দাদের যোগদান, অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেদের আকর্ষণ সব মিলিয়ে দলের প্রচেষ্টা বাড়ছে।
ট্রান্সজেন্ডারদের এই পদক্ষেপ দলের ‘সবকা সাথ’ স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা।কেরলের রাজনীতি সবসময়ই বাম-কংগ্রেসের দখলে ছিল। বিজেপি এখানে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে। এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে দল শুধু হিন্দু ভোটার নয়, সবাইকে নিয়ে এগোতে চায়। ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের যোগদান অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীকেও অনুপ্রাণিত করতে পারে। রাজ্যে নির্বাচন এগোচ্ছে, এমন সময়ে এটা দলের জন্য মনোবল বাড়ানোর মতো।



















