জলঙ্গিতে তৃণমূলের ধাক্কা, ইস্তফা আবদুর রাজ্জাকের

tmc-in-west-bengal-big-defector-joinings-before-2026-elections
TMC Faces Setback as Abdur Razzak Steps Down from Party

জলঙ্গি বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক আবদুর রাজ্জাকের তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকা এই নেতার হঠাৎ দলছাড়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনীতিতে এর প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।

আবদুর রাজ্জাক জলঙ্গি কেন্দ্রের এক পরিচিত মুখ। স্থানীয় স্তরে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসংযোগের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব করার সময় তিনি একাধিক উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছিল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।

   

দলত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর আবদুর রাজ্জাক সরাসরি খুব বেশি কিছু না বললেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “দীর্ঘদিন একটি দলের সঙ্গে থাকার পর অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে, কিন্তু কিছু পরিস্থিতি এমন আসে, যখন নতুন করে ভাবতে হয়।” তাঁর এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, দলীয় অভ্যন্তরে কোনও না কোনও অসন্তোষ কাজ করছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য এই ঘটনাকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের জন্য কেউ দল ছাড়তেই পারেন, এতে সংগঠনের ওপর বড় কোনও প্রভাব পড়বে না। তবে বিরোধী দলগুলি এই সুযোগকে কাজে লাগাতে শুরু করেছে। তাদের মতে, তৃণমূলের ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে, এবং আবদুর রাজ্জাকের দলত্যাগ তারই প্রতিফলন।

জলঙ্গি বিধানসভা এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, রাজ্জাকের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হতে চলেছে। তিনি কি অন্য কোনও দলে যোগ দেবেন, নাকি কিছুদিন রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকবেন এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।