বাড়িতে ডেকে অশ্লীল আচরণ! দল ছেড়েই কেজরির কান্ড ফাঁস আপ সাংসদের

swati-maliwal-quits-aap-allegations-against-kejriwal

নয়াদিল্লি: আপের রাজ্যসভা সাংসদ স্বাতী মালিওয়াল (Swati Maliwal)শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে আম আদমি পার্টি (এএপি) ছেড়ে দিয়েছেন। দল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বে চলা দলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। দুর্নীতি, নারীর উপর হামলা, গুন্ডামি প্রশ্রয় এবং পঞ্জাবে বিশ্বাসঘাতকতা ও লুটপাট এসবই তার অভিযোগের মূল বিষয়। স্বাতী মালিওয়াল জানিয়েছেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা নীতি ও মূল্যবোধ থেকে কেজরিওয়াল সম্পূর্ণ সরে গেছেন।

তিনি লিখেছেন, “যথেষ্ট হয়েছে। আর নয়।”সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে স্বাতী মালিওয়াল বলেন, “২০০৬ সালে চাকরি ছেড়ে জাতীয় সেবার পথ বেছে নিয়েছিলাম। আরটিআই আন্দোলন, আন্না আন্দোলন, আম আদমি পার্টি গঠন এবং দিল্লি মহিলা কমিশনে আট বছরের নিষ্ঠাপূর্ণ কাজ সবকিছুতেই সততার সঙ্গে অবদান রেখেছি। কিন্তু আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, যে নীতি, মূল্যবোধ ও সৎ রাজনীতির প্রতিশ্রুতি নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম, আরবিন্দ কেজরিওয়ালজি এবং তার নির্দেশে গোটা আম আদমি পার্টি তা থেকে সম্পূর্ণ সরে গেছে।”

   

তিনি আরও লেখেন, “কেজরিওয়ালের পৃষ্ঠপোষকতায় আম আদমি পার্টিতে অবাধ দুর্নীতি বেড়ে চলেছে, নারীর উপর হামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে, গুন্ডা উপাদানদের প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে এবং পাঞ্জাবে বিশ্বাসঘাতকতা ও লুটপাট চলছে। এসব দেখে আমি আজ দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”স্বাতী মালিওয়ালের এই সিদ্ধান্তের পেছনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কেজরিওয়ালের বাসভবনে তার উপর নৃশংস শারীরিক হামলা হয়েছিল।

আরও দেখুনঃ এবার কার ঝুলিতে ফুরফুরার ভোট? ফাঁস করলেন ত্বহা সিদ্দিকী

তিনি বলেন, “তার বাড়িতে তার ইশারায় আমাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং অশ্লীল আচরণ করা হয়। তার গুন্ডাকে বাঁচাতে তিনি সবকিছু করেছেন এবং তাকে উচ্চপদে পুরস্কৃতও করেছেন। আমাকে ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং সবরকম চেষ্টা চালানো হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পরও তিনি দু’বছর দলের ভিতর থেকে পরিস্থিতি সংশোধনের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এই ঘটনা এএপির জন্য বড় ধাক্কা। একই দিনে রাঘব চাড্ডা সহ সাতজন রাজ্যসভা সাংসদ দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। স্বাতী মালিওয়ালও বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। দলের ভিতরে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়া, স্বচ্ছতার অভাব এবং প্রতিষ্ঠাতা আদর্শ থেকে সরে যাওয়া এসব নিয়ে আগেও অনেক নেতা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। স্বাতী মালিওয়াল দিল্লি মহিলা কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন হিসেবে নারী অধিকার নিয়ে সরব ছিলেন। তার অভিযোগে নারী নিরাপত্তা ও দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।