রাহুলের বৈঠকে টানা তিনবার অনুপস্থিত থেকে হ্যাটট্রিক থারুরের

দিল্লি: কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে আবারও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে শশী থারুর (Shashi Tharoor skips Congress meeting)। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে শুক্রবার অনুষ্ঠিত লোকসভা সাংসদদের কৌশলগত বৈঠকে টানা তৃতীয়বার অনুপস্থিত ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
shashi-tharoor-misses-congress-meetings-controversy

দিল্লি: কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে আবারও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে শশী থারুর (Shashi Tharoor skips Congress meeting)। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে শুক্রবার অনুষ্ঠিত লোকসভা সাংসদদের কৌশলগত বৈঠকে টানা তৃতীয়বার অনুপস্থিত রইলেন তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ। প্রায় তিন সপ্তাহে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক—একটিতেও তাঁর দেখা মিলল না। এরপর থেকেই দলের ভেতরে-বাইরে জল্পনা তীব্র হয়েছে, আদৌ কি কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ছে?

শুক্রবারের বৈঠক ছিল শীতকালীন অধিবেশনের শেষ সপ্তাহের আগে কৌশল নির্ধারণের উদ্দেশ্যে। ১৯ ডিসেম্বর অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে বিজেপিকে আক্রমণের নতুন রণকৌশল তৈরির জন্য দলীয় ৯৯ জন সাংসদকে রাহুল গান্ধী ‘হাডলে’ ডাকেন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত ছিলেন না থারুর। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দেখা গেছে, তিনি কলকাতায় তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী জন কোশির বিয়েতে যোগ দিচ্ছেন এবং বোন স্মিতা থারুরের জন্মদিন পালন করছেন।

   

কফ সিরাপ দুর্নীতিতে ৩ রাজ্যে ইডি অভিযান

এমন নয় যে এটি প্রথম বা দ্বিতীয়বার। নভেম্বরেই দুই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক এড়িয়েছিলেন তিনি। প্রথমটি ৩০ নভেম্বর, সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে দলের কৌশলগত মিটিং। এ বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল, কারণ ২০২০-র আগস্টে ‘জি-২৩’-এর অংশ হিসেবে থারুর সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সে বৈঠক এড়ানোর কারণ হিসেবে তিনি জানান সেদিন তিনি কেরল থেকে দিল্লির পথে বিমানে ছিলেন, মায়ের সঙ্গে ভ্রমণ করার কারণে পরিকল্পনা বদলাতে পারেননি।

দ্বিতীয় অনুপস্থিতির ঘটনা ঘটে ১৮ নভেম্বর, বিতর্কিত ‘Special Intensive Revision’ বা ভোটার রি-ভেরিফিকেশন ইস্যুতে দলীয় বৈঠকের সময়। রাহুল ও খাড়গে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সেই বৈঠকেও। থারুর জানান, তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাজির হতে পারেননি।

কিন্তু তার আগের দিনই তিনি একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভাষণ দেন। মোদীর বক্তব্যের প্রশংসা করে তাঁর করা একটি পোস্ট কংগ্রেসের দুই নেতা সুপ্রিয়া শ্রীনেঠে ও সন্দীপ দিক্ষিতের তীব্র প্রতিক্রিয়া জন্ম দেয়। দীক্ষিত তো এমনকি পরামর্শ দিয়েছিলেন—যদি মোদীর প্রতি এতই প্রশংসা থাকে, তবে থারুর চাইলে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন।

সমালোচনার জবাবে থারুর পাল্টা জানান, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সরকারের মধ্যে মতভেদ থাকলেও জনস্বার্থে রাজনৈতিক শালীনতা ও সহযোগিতা বজায় রাখা উচিত। তিনি স্পষ্ট করেন, তাঁর মন্তব্যের সঙ্গে দলত্যাগের কোনও সম্পর্ক নেই।

এদিকে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, থারুর শেষবার দলের কোনও বড় বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন অক্টোবরে কংগ্রেসের কেরালা ইউনিটের ছয় ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনায়। সেই বৈঠকে রাহুল, খাড়গে ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও উপস্থিত ছিলেন, রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়ে।

রাহুল গান্ধীর শুক্রবারের বৈঠকে অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। কারণ বৈঠকে রাহুল ভরসা দিয়েছেন দলের সাংসদদের, বলেছেন তাঁদের আক্রমণে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্টতই অস্বস্তিতে পড়েছে। এমনকি তিনি দাবি করেছেন, “গতকাল অমিত শাহজির হাত কাঁপছিল, তিনি প্রচণ্ড চাপে ছিলেন।” এই রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই থারুরের ধারাবাহিক অনুপস্থিতি নতুন করে কংগ্রেসের ভেতরের অস্বস্তি সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি সত্যিই কি দলে ‘অন দ্য এজ’, নাকি এটি নিছক সময়সূচির গোলযোগ এ নিয়ে এখন জোর জল্পনা।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google