মহারাষ্ট্র: মহারাষ্ট্র সরকার এসসি/এসটি (SC ST Act) অ্যাক্ট, ১৯৮৯-এর প্রয়োগে গুরুতর পরিবর্তন এনেছে। নতুন নির্দেশিকা অনুসারে, অ্যাক্টের অধীনে কোনো অভিযোগ দায়ের হলে আর তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করা যাবে না। প্রত্যেক অভিযোগ প্রথমে একটি বিশেষ কমিটির তদন্তের মুখোমুখি হবে। কমিটি যদি অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমাণিত করে, তাহলে এফআইআর বাতিল করে দেওয়া হবে।
এই পরিবর্তন অ্যাক্টের অপব্যবহার রোধ করতে এবং নির্দোষ মানুষকে অযথা হয়রানি থেকে বাঁচাতে আনা হয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।এই নতুন নিয়ম মহারাষ্ট্র সরকারের সামাজিক ন্যায় বিভাগের গাইডলাইনের অংশ। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর পুলিশ সরাসরি এফআইআর নথিভুক্ত করার আগে বিশেষ কমিটির রিপোর্টের অপেক্ষা করবে। কমিটিতে সাধারণত সিনিয়র পুলিশ অফিসার, সামাজিক কর্মী এবং এসসি/এসটি প্রতিনিধি থাকবেন।
আরও দেখুনঃ ইজ্জেজারির গোল, প্রথমার্ধের শেষে ১-০ গোলে এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রমাণ সংগ্রহ। যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন বা মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে এফআইআর নথিভুক্ত না করে বাতিল করা যাবে। এতে অ্যাক্টের অধীনে মিথ্যা মামলার সংখ্যা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।এই পরিবর্তনের পেছনে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে যে, এসসি/এসটি অ্যাক্টকে ব্যক্তিগত শত্রুতা, জমি-জমা বিরোধ বা রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার করা হচ্ছে।
মহারাষ্ট্রে গত কয়েক বছরে এমন অনেক মামলা দেখা গেছে যেখানে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, কিন্তু অভিযুক্তদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সরকার বলছে, এই নিয়ম অ্যাক্টের মূল উদ্দেশ্য দলিত ও আদিবাসীদের সুরক্ষা বজায় রেখে নির্দোষদের রক্ষা করবে।তবে এই পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে। দলিত সংগঠনগুলো বলছে, এতে অভিযোগকারীদের ভয় দেখানো হবে এবং প্রকৃত অত্যাচারের শিকাররা এগিয়ে আসতে দ্বিধা করবে। অ্যাক্টের অধীনে তাৎক্ষণিক গ্রেফতার ও অ্যান্টিসিপেটরি বেলের নিষেধাজ্ঞা ছিল দুর্বলদের শক্তি।
এখন তদন্তের নামে বিলম্ব হলে ন্যায়বিচার দেরি হবে। কিছু নেতা বলছেন, এটা সুপ্রিম কোর্টের ২০১৮ সালের রায়ের (সুভাষ কাশীনাথ মাহাজন কেস) প্রভাব, যেখানে প্রিলিমিনারি ইনকোয়ারির নির্দেশ ছিল, কিন্তু পরে পার্লামেন্ট অ্যামেন্ডমেন্ট করে তা বাতিল করেছিল। মহারাষ্ট্র সরকার এখন সেই ধারণাকেই রাজ্য স্তরে প্রয়োগ করছে।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কমিটির তদন্ত দ্রুত (সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে) সম্পন্ন হবে।
যদি অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে তাৎক্ষণিক এফআইআর ও গ্রেফতার হবে। মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে। এতে অ্যাক্টের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে এবং প্রকৃত ভুক্তভোগীরা আরও নিরাপদ বোধ করবেন।এই নিয়ম মহারাষ্ট্রে অ্যাক্টের অধীনে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা ও প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করবে। রাজ্যে এসসি/এসটি জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য, এবং অত্যাচারের ঘটনা প্রায়ই সামনে আসে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে দেখা যাবে এতে অপব্যবহার কমে কি না, নাকি দুর্বলদের সুরক্ষা কমে যায়।



















