
থানে: মুম্বরার এআইএমআইএম কর্পোরেটর সাহার শেখ। (Sahar Shaikh)যিনি সিভিক নির্বাচনে জয়ের পর পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশ্য করে “কৈসা হারায়া” বলে হাসতে হাসতে বিদ্রূপ করেছিলেন।তারপর সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। এক সময় আসাদুদ্দিন ওআইসি মন্তব্য করেছিলেন তিনি নাকি দেশের প্রথম হিজাবি প্রধানমন্ত্রী হবেন। এখন সেই সাহার শেখ বড় ধরনের বিপাকে পড়েছেন। থানে তহশিলদারের অফিস তাঁর বাবা ইউনুস ইকবাল শেখের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে এফআইআর নথিভুক্ত করার সুপারিশ করেছে।
অভিযোগ, সাহার শেখের মনোনয়নপত্রে ব্যবহৃত অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC) জাতি শংসাপত্রটি জাল ছিল।তদন্তে দেখা গেছে, শংসাপত্রের ফরম্যাট, স্বাক্ষর এবং সংযুক্ত নথিপত্রে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখন ওই সব শংসাপত্র অবিলম্বে বাতিল করার সুপারিশ করেছে। এর ফলে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাহার শেখের বাবা ইউনুস শেখ উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের বাসিন্দা ছিলেন এবং পরে মহারাষ্ট্রে চলে আসেন।
আরও দেখুনঃ চাঁদে বাড়ি তৈরির প্ল্যান প্রকাশ, ৭৩টি অবতরণ, খরচ বিলিয়ন ডলার, সফল হবে নাসা?
অভিযোগ উঠেছে, তিনি ওবিসি শংসাপত্র পাওয়ার জন্য ভুল ফর্ম ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করেছিলেন। এর ভিত্তিতেই তাঁর মেয়ে সাহারও শংসাপত্র সংগ্রহ করেন এবং নির্বাচনে লড়াই করে জয়ী হন।নির্বাচনের পর সাহার শেখের “কৈসা হারায়া” বলে হাসির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বিজয় উদযাপন করতে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্দেশ্য করে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি থানেকে “সবুজ” রঙে রাঙিয়ে দেওয়ার বড় বড় কথা বলেছিলেন।
কিন্তু এখন সেই গর্বের কথাগুলো ঝুলন্ত অবস্থায় পড়েছে। তাঁর কর্পোরেটর পদ অস্বীকৃত (disqualification) হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে।স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকে বলছেন, নির্বাচনে জাতি শংসাপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি জাল করা গুরুতর অপরাধ। এতে সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে অন্যায়ভাবে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
সাহার শেখের পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা একজন ব্যক্তি মহারাষ্ট্রের ওবিসি শংসাপত্র পাওয়ার জন্য নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। তদন্তে যদি এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে শুধু এফআইআর নয়, সাহার শেখের নির্বাচনী জয়ও বাতিল হতে পারে।এআইএমআইএম দলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
সাহার শেখ নিজেও বর্তমানে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো এই ঘটনাকে তুলে ধরে বলছে, নির্বাচনে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রবেশ করা প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। থানে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নির্বাচনে এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় সংরক্ষিত আসন ও শংসাপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

