
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা (Raju Bista)। অবৈধ দখল ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে উত্তরপ্রদেশ থেকে ২৪টি জেসিবি (JCB) মেশিন আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এই খবর সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। অনেকেই মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে এবার আরও বৃহৎ পরিসরে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’-এর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
রাজু বিস্তা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ এবং ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম পরিচিত মুখ। তিনি শুধু সাংসদ নন, বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র হিসেবেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। ২০১৯ সালে প্রথমবার দার্জিলিং থেকে লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনেও বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ফের সংসদে যান। পাহাড় এবং উত্তরবঙ্গ রাজনীতিতে বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবেই তাঁকে দেখা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে বেআইনি নির্মাণ, দখলদারি এবং অবৈধ সম্পত্তি নিয়ে প্রশাসনের কড়া অবস্থান বারবার সামনে এসেছে। কলকাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় অবৈধ বহুতল, দখল করা সরকারি জমি এবং বেআইনি বাজারের বিরুদ্ধে বুলডোজার অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যেই রাজু বিস্তার এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশ থেকে আনা ২৪টি JCB মূলত বড় আকারের উচ্ছেদ অভিযানের জন্য ব্যবহার করা হতে পারে। বিজেপি সূত্রে দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দখল, বেআইনি নির্মাণ এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠছিল। নতুন প্রশাসনিক উদ্যোগে এবার সেই সব জায়গায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। যদিও সরকারি স্তরে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক মহলের মতে, এই উদ্যোগ রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক নীতির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের আমলে যেভাবে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘বুলডোজার মডেল’ সামনে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি সেই কৌশল প্রয়োগ করতে চাইছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে বেআইনি নির্মাণ ঘিরে একাধিক দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের পর সাধারণ মানুষের মধ্যেও কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
তবে এই সম্ভাব্য অভিযানকে ঘিরে বিরোধীদের সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির একাংশের দাবি, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার চেষ্টা হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, বেছে বেছে কিছু এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও বিজেপির দাবি, এই অভিযান সম্পূর্ণ আইন মেনেই হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য। রাজু বিস্তা নিজেও দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড় ও উত্তরবঙ্গে উন্নয়ন, পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দাবি তুলে আসছেন। বিজেপি কর্মীদের মতে, অবৈধ দখলদারি ও বেআইনি নির্মাণ সরিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতেই এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

