‘আম আদমি’ রাঘব চাড্ডার বিজেপিতে যোগ

দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলেন রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadha)। একসময় আমি আদমি পার্টির অন্যতম মুখ এবং রাজ্যসভায় দলের ডেপুটি লিডার হিসেবে পরিচিত রাঘব আর “আম আদমি”-র অংশ নন এই ঘোষণা তিনি নিজেই করেছেন। শুধু দল ছাড়াই নয়, সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেওয়ার কথাও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, যা ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্রের খবর, এই ঘটনার সূচনা অনেক আগে থেকেই। আচমকাই রাঘব চাড্ডাকে রাজ্যসভায় সহকারী দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেয় আপ নেতৃত্ব। তাঁর পরিবর্তে ওই পদে মনোনীত করা হয় অশোক মিত্তলকে। এই সিদ্ধান্ত দলীয় অন্দরে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করেছিলেন, এটি শুধুমাত্র সাংগঠনিক রদবদল নয়, বরং দলের ভিতরে ক্রমবর্ধমান মতবিরোধেরই বহিঃপ্রকাশ।

   

আরও দেখুনঃ জিনিয়াস স্পোর্টস বৈঠকে অনুপস্থিত মোহনবাগান, বিতর্কে আইএসএল কমার্শিয়াল চুক্তি

এরপর থেকেই রাঘবকে দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকতে দেখা যায়। রাজনৈতিক মহলে তখন থেকেই জল্পনা শুরু হয় তবে কি তিনি দল ছাড়তে চলেছেন? সেই জল্পনা আরও জোরদার হয় যখন জানা যায়, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও রাঘব তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। এই ঘটনাকে অনেকেই দুই নেতার সম্পর্কের অবনতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন।

পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন রাঘব নিজেই একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দলের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন। যদিও সরাসরি সবকিছু খোলসা করেননি, তবুও তাঁর বক্তব্যে দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট। সেই সময় থেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ঘুরপাক খেতে থাকে।

অবশেষে শুক্রবার সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আপ থেকে ইস্তফা দেন রাঘব চাড্ডা। একইসঙ্গে ঘোষণা করেন, তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, রাঘব একা নন। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে আপের আরও দুই রাজ্যসভা সাংসদ সন্দীপ পাঠক এবং অশোক মিত্তলও দল ছাড়তে পারেন বা ইতিমধ্যেই দূরত্ব তৈরি করেছেন। যদিও এর আগে আপ নেতা সঞ্জয় সিং এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি কিন্তু ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাকে শুধুমাত্র দলবদল হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বরং এটি আপের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং বিরোধী রাজনীতির দুর্বলতারই প্রতিফলন। একদিকে যখন আপ জাতীয় স্তরে নিজেদের শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সরে যাওয়া তাদের অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।