কলকাতা: ২০২১ র নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় খুন হয়েছিলেন বাগুইহাটি অঞ্চলের বিজেপি কর্মী প্রসেনজিত দাস। (Prasenjit Das)নিজের বাড়ির বাইরেই ঝুলন্ত অবস্থায় তার দেহ মিলেছিল। ঘটনার CBI তদন্ত চললেও এখনও মেলেনি বিচার। এই আবহেই এবার নিহত প্রসেনজিতের মাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ছড়াল চাঞ্চল্য। রাজারহাট গোপালপুরের বাসিন্দা প্রসেনজিতের পরিবারের দাবি শাসক দল তৃণমূলের তরফ থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
২০২১ সালের নির্বাচনের পরবর্তী হিংসায় নির্মমভাবে খুন করা হয়েছিল প্রসেনজিৎকে। আজ তার মা যখন বিচার পাওয়ার আশায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন, তখনও তাঁকে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে—এটাই বর্তমান বাস্তবতা।
গতকাল কয়েকজন এসে সরাসরি হুমকি দিয়ে গেছে—“দাদার নামে কিছু বললে, তোকেও তোর ছেলের… pic.twitter.com/xDf2WEJ4XE
— Tarunjyoti Tewari (@tjt4002) April 20, 2026
ঘটনার জল আরও গড়ায় যখন সলমন নামে এক দুষ্কৃতী প্রকাশ্যে প্রসেনজিতের মাকে হুমকি দেয়। ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেন রাজারহাট গোপালপুরের বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। খবর পেয়েই ঘটনাস্থল থেকে সলমনের কলার ধরে তাকে নিয়ে বাগুইহাটি থানায় পৌঁছে যান তরুণজ্যোতি।
আরও দেখুন:ভারতের হয়ে খেলার প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন রশিদ খান, আত্মজীবনীতে বড় প্রকাশ
পরিবারের দাবি, সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি এসে সরাসরি হুমকি দিয়ে যায় প্রসেনজিতের মৃত্যুর বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বললে তাঁর মাকেও একই পরিণতির মুখে পড়তে হবে। এই হুমকির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এক তৃণমূল কর্মী ‘সলমন’, যিনি নাকি গতকাল সন্ধ্যায় প্রসেনজিতের মায়ের সঙ্গে অসভ্য আচরণ করেন এবং ভোটের পর “দেখে নেওয়ার” হুমকি দেন। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা স্থানীয় নেতৃত্বকে ফোন করেন। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়।
এই ঘটনায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যায় বিজেপি নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারিকে। তিনিই উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তকে কলার ধরে বাগুইহাটি থানায় নিয়ে যান এবং তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। শুধু ওই ব্যক্তি নয়, তাঁর সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রসেনজিত দাসের মৃত্যুর ঘটনা ২০২১ সালের নির্বাচনের পরবর্তী হিংসার অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল। নিজের বাড়ির বাইরে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বিজেপির অভিযোগ ছিল, এটি রাজনৈতিক খুন। যদিও শাসকদল সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন রাজারহাট গোপালপুরে কোনো গুন্ডামি চলবে না। তিনি আরও বলেছেন, প্রত্যেক সন্ত্রাসের জবাব আইনের মাধ্যমেই দেওয়া হবে। রাজারহাট গোপালপুরের স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনায় তুলেছেন নিন্দার ঝড় এবং বলেছেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতারা ধমক চমক দিয়ে রাজনীতি করে চলেছেন এই হিংসা বন্ধ হতে হবে।




















