কলকাতা: নির্বাচনী আবহে পশ্চিমবঙ্গে সফরে এসে শুক্রবার সকালটা একেবারেই ভিন্নভাবে শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। (Narendra Modi)কলকাতার বুকে বয়ে চলা হুগলী নদীর ধারে গিয়ে তিনি শুধু সময় কাটাননি, বরং নৌকায় চড়ে নদীর বুকে এক ঘণ্টার মতো ঘুরে বেড়িয়েছেন। আর এই অনানুষ্ঠানিক মুহূর্তই এখন রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রে। স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ শেখ ইফতিকারের নৌকোয় চড়েই মোদী দিলেন ঐক্যের বার্তা। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলের একাংশ মন্তব্য করছে দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে শুধু হিন্দু নয় সংখ্যালঘু ভোট টানার ক্ষেত্রে বড় বার্তা দিয়ে রাখলেন প্রধানমন্ত্রী।
সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ হুগলি জেলার বাসিন্দা গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের নৌকায় ওঠেন প্রধানমন্ত্রী। গৌরাঙ্গবাবুর কথায়, “হঠাৎ করেই প্রধানমন্ত্রী এসে নৌকা ভাড়া নিলেন। আমরা তো প্রথমে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।” যদিও খুব বেশি কথা হয়নি, তবুও নিজের নাম জিজ্ঞেস করেন প্রধানমন্ত্রী এবং ঘাটে ফিরে এসে তাঁকে আলিঙ্গনও করেন। এই মানবিক আচরণ স্বাভাবিকভাবেই উপস্থিত মানুষের মধ্যে আলাদা ছাপ ফেলেছে।
আরও দেখুনঃ প্রদীপ নিভলেও আলো থাকবে, পানিহাটি থেকে জয়ের বার্তা মোদীর
গৌরাঙ্গ বিশ্বাস জানান, প্রায় এক ঘণ্টা নৌকাভ্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেষে ১০০০ টাকা ভাড়া মিটিয়ে নিজের ক্যামেরায় কিছু ছবিও তোলেন। এই পুরো ঘটনাটাই যেন ছিল একেবারে সাধারণ মানুষের জীবনের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা। এদিন আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ শেখ ইফতেকার জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে পানিঘাট এলাকায় পৌঁছে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন। তারপর মোট সাতটি নৌকা ভাড়া করে নদীতে যান। ফেরার পর উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং সুখে থাকার বার্তাও দেন তিনি। রাজনৈতিক প্রচারের মাঝেও এমন বার্তা অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।
এরপর এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, আগের দিন হাওড়া থেকে কলকাতা পর্যন্ত দীর্ঘ রোডশোর সময় হাওড়া ব্রিজের ওপর দিয়ে গিয়েছিলেন, আর এদিন সকালে সেই একই সেতুকে দেখলেন হুগলি নদীর বুক থেকে। এই দুই ভিন্ন অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে বিশেষ স্মরণীয় হয়ে উঠেছে বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি, গঙ্গার প্রতি নিজের শ্রদ্ধা ও আবেগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “প্রত্যেক বাঙালির জীবনে গঙ্গার একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। বলা যায়, গঙ্গা বাংলার আত্মার মধ্য দিয়েই প্রবাহিত।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই নদী কেবল জলধারা নয়, বরং একটি প্রাচীন সভ্যতার চিরন্তন চেতনাকে বহন করে চলেছে।
নদীর ধারে সময় কাটানোর পাশাপাশি মাঝিদের সঙ্গে কথোপকথন এবং সকালের হাঁটাহাঁটি করা মানুষদের সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেন তিনি। এই সময় তিনি পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন এবং বাঙালির সমৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগে এই সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে জনসংযোগ বাড়ানো, অন্যদিকে আবেগের জায়গায় পৌঁছনোর চেষ্টা এই দুইয়ের মিশেল হিসেবেই অনেকেই দেখছেন এই সকালের সফরকে।




















