জেলাশাসকদের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ! নির্বাচন কমিশনে নন্দিনীকে তলব

কলকাতা: বাংলায় SIR প্রক্রিয়া ঘিরে অশান্তির মেঘ যেন কাটছেই না। (Election Commission)এর মধ্যেই ফের একবার SIR প্রক্রিয়ায় জেল শাসকদের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ জ্ঞানেশ কুমার। তাই বাংলার…

nandini-chakraborty-summoned-election-commission-sir-west-bengal

কলকাতা: বাংলায় SIR প্রক্রিয়া ঘিরে অশান্তির মেঘ যেন কাটছেই না। (Election Commission)এর মধ্যেই ফের একবার SIR প্রক্রিয়ায় জেল শাসকদের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ জ্ঞানেশ কুমার। তাই বাংলার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে নির্বাচন কমিশনে তলব করা হয়েছে। এছাড়াও জ্ঞানেশ কুমার একটি ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন মূল ভোটার তালিকাতে কোনও বৈধ ভোটারকে বাদ দেওয়া যাবে না ঠিক তেমনই থাকবে না কোনও বিদেশির নামও।

শুক্রবার বিকেল ৩টের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নন্দিনী চক্রবর্তী দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। এই তলব SIR প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা ও নির্দেশ অমান্যের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে।SIR প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে গত ডিসেম্বর থেকে। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। কিন্তু প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, অপ্রাসঙ্গিক নথি আপলোড, জেলাশাসকদের গাফিলতি নিয়ে কমিশন বারবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

Advertisements

আরও দেখুন: নির্বাচনের আগেই মমতা মডেল ফলো করে চমক স্ট্যালিনের

উচ্চ পর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, জেলাশাসকরা (যারা ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ERO) যদি গাফিলতি করেন, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো জেলায় SIR-এর অগ্রগতি ‘সবচেয়ে খারাপ’ বলে ভর্ৎসনা করেছেন।জ্ঞানেশ কুমার একটি ভিডিও বার্তায় আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন: মূল ভোটার তালিকায় কোনো বৈধ ভোটারকে বাদ দেওয়া যাবে না, ঠিক তেমনই কোনো বিদেশির নামও থাকবে না।

তিনি বলেন, “যথাযথ ভোটার তালিকা গণতন্ত্রের ভিত্তি। কোনো ভারতীয় নাগরিককে বাদ দেওয়া যাবে না, আর কোনো বিদেশি নাগরিকের নাম অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না।” এই বার্তা SIR-এর মূল উদ্দেশ্যকে তুলে ধরে ভোটার তালিকাকে বিশুদ্ধ ও নিরপেক্ষ করা। কমিশনের নির্দেশ অনুসারে, অপ্রাসঙ্গিক তথ্য আপলোড করা যাবে না, শুনানি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা SIR-কে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে অভিযোগ করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দিল্লিতে গিয়ে কমিশনের সঙ্গে দেখা করেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে বিজেপি ও শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করছেন, TMC ও I-PAC মিলে SIR প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছে, ভোটারদের হয়রানি করছে।

এই তলবের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। নন্দিনী চক্রবর্তী রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যসচিব। তাঁকে তলব করা হয়েছে SIR-এর অগ্রগতি, জেলাশাসকদের ভূমিকা, নির্দেশ অমান্য, অফিসার ট্রান্সফার ইস্যু নিয়ে। কমিশনের চিঠিতে একাধিক অ-সম্মতি (non-compliance) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বৈঠকে নন্দিনীকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

SIR প্রক্রিয়া ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের লক্ষ্য বিশুদ্ধ তালিকা তৈরি করা, যাতে কোনো অবৈধ ভোটার না থাকে। কিন্তু রাজ্য-কেন্দ্রের এই টানাপোড়েনে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেক বৈধ ভোটার শুনানিতে ডাক পড়ায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কমিশনের কড়া অবস্থানে রাজ্য প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ছে।