বর্ধমান দক্ষিণে রাস্তায় তৃণমূল প্রার্থীর পোস্টারের উপর দিয়েই চলছে গাড়ি-জনস্রোত

khokon-das-viral-poster-video-bardhaman

কলকাতা: সরকার থেকে সরতেই বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল কর্মী এবং প্রার্থীদের উপর ক্ষোভের ছবি এখন রোজনামচা। (Khokon Das)সেই আবহই এবার চোখে পড়ল দক্ষিণ বর্ধমানে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে রাস্তার উপর বিছিয়ে রাখা হয়েছে খোকন দাসের নির্বাচনী পোস্টার। সেই পোস্টারের ওপর দিয়েই স্বাভাবিকভাবে হেঁটে যাচ্ছেন পথচারীরা, চলাচল করছে মোটরবাইক, গাড়ি-সহ বিভিন্ন যানবাহন। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

   

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে বর্ধমান দক্ষিণ এলাকায় তোলা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, রাস্তার পিচের উপর একাধিক নির্বাচনী পোস্টার এমনভাবে বিছিয়ে রাখা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন তার উপর দিয়েই চলাচল করে। পোস্টারগুলিতে খোকন দাসের ছবি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকও দেখা যাচ্ছে।

আরও দেখুনঃ দ্রুততম ছক্কার সেঞ্চুরি বিস্ময় বালক বৈভবের দখলে

ঘটনাটি সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন, এটি সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আবার কেউ মনে করছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা এবং কে বা কারা পোস্টারগুলি রাস্তার উপর ফেলেছিল, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। যদিও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এই ধরণের ঘটনা বা ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন কর্মীদের।

স্থানীয় সূত্রে দাবি, নির্বাচনী প্রচারের আবহে বর্ধমান দক্ষিণে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছিল। সেই পরিস্থিতিতেই এই ভিডিও সামনে আসে। অনেকের মতে, সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ থেকেই এই ধরনের প্রতিবাদ হতে পারে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, খোকন দাস এর আগেও একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছেন। ২০২১ সালে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল যেখানে দেখা যায়, তাঁর দুই কর্মী তাঁকে জুতো পরিয়ে দিচ্ছেন। সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছিল যে, জনপ্রতিনিধির আচরণ সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে প্রবল রাজনৈতিক চাপানউতোরও হয়েছিল।

এছাড়াও অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীদের দাবি ছিল, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেই বিভিন্ন জায়গায় প্রচার সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগগুলির অনেক ক্ষেত্রেই আইনি বা প্রশাসনিকভাবে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে আসেনি।