পালাবদলেই খুলছে ভাগ্য? বাংলায় বিনোয়োগে আগ্রহী গুগল

google-investment-west-bengal-ai-infrastructure
Major Boost for Candidates, Age Relaxation Announced in Government Jobs

কলকাতা: ভারতে প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI খাতে দ্রুত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে গুগল (Google investment)। আর সেই আবহেই নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে গুগলের সম্ভাব্য বিনিয়োগ ঘিরে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও সাম্প্রতিক কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া রিপোর্ট এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি ঘিরে রাজ্যের শিল্প ও প্রযুক্তি মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

খবর অনুযায়ী, গুগল সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা করেছে। এই আলোচনায় কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানা যাচ্ছে। সূত্রের দাবি, ভারত সরকার গুগলকে অনুরোধ করেছে যাতে তারা ভবিষ্যতে ভারতে বড় প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গকেও গুরুত্ব দেয়।

   

বর্তমানে গোটা বিশ্বে AI প্রযুক্তিকে ঘিরে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। আমেরিকা, ইউরোপ থেকে শুরু করে ভারত প্রত্যেক দেশই AI অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার এবং আধুনিক সার্ভার প্রযুক্তিতে বড়সড় বিনিয়োগ টানার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে গুগলের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থার নজর ভারতের দিকে থাকাটা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও দেখুনঃ টোলপ্লাজায় UPI পেমেন্ট! চন্দ্রনাথ খুনে ব্যাঙ্ক ডিটেইলস সূত্র

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সম্প্রতি জানিয়েছেন, গুগল ভারতে AI পরিকাঠামো গড়ে তোলা, উন্নত সার্ভার স্থাপন এবং ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে। এর ফলে আগামী কয়েক বছরে ভারতে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।

ইতিমধ্যেই বিশাখাপত্তনমে একটি বিশাল AI হাব তৈরির জন্য প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে গুগল। এই প্রকল্পকে ভারতের প্রযুক্তি খাতের অন্যতম বড় বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে পশ্চিমবঙ্গও কি ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের অংশ হতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান, দক্ষ মানবসম্পদ এবং কলকাতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আইটি পরিকাঠামো গুগলের মতো সংস্থার কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে। কলকাতা এবং নিউ টাউনে ইতিমধ্যেই একাধিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা কাজ করছে। এছাড়াও পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলার কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

তবে বিনিয়োগের পথে কিছু বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব আগেই জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প জমি অধিগ্রহণ সমস্যার কারণে আটকে রয়েছে। রেল ও অবকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্পেও এই সমস্যা দেখা গিয়েছে। শিল্পমহলের একাংশের মতে, বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আগে প্রশাসনিক স্থিরতা, দ্রুত অনুমোদন এবং জমি সংক্রান্ত স্বচ্ছতা বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়।

যদিও এখনও পর্যন্ত গুগলের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ নিয়ে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবুও বিষয়টি ঘিরে কৌতূহল বাড়ছে। বিশেষ করে বাংলার তরুণ প্রজন্ম এবং প্রযুক্তিখাতের কর্মীদের মধ্যে এই সম্ভাবনা নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশও মনে করছে, যদি সত্যিই গুগল পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করে, তাহলে তা রাজ্যের শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় ইতিবাচক বার্তা হতে পারে। AI, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডেটা সেন্টারভিত্তিক শিল্প ভবিষ্যতের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হতে চলেছে। ফলে এই ধরনের বিনিয়োগ বাংলাকে নতুন প্রযুক্তিগত মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ে যেতে পারে।