নয়াদিল্লি: দেশে জ্বালানি সঙ্কটের মুখোমুখি সাধারণ মানুষ। গৃহস্থালি থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ ব্যবসা, জ্বালানি সংকটে মার খাচ্ছে (Fuel crisis India)। এই আবহেই সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাগরিকা ঘোষ সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে বলেন, “গত তিন সপ্তাহ ধরে সরকার বলে এসেছে সব ঠিক আছে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। এখন হঠাৎ করেই এক্সাইজ ডিউটি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা প্রমাণ করে সরকার আগেই সমস্যার কথা জানত, কিন্তু ব্যবস্থা নিতে দেরি করেছে।” তিনি আরও বলেন ‘এই প্রধানমন্ত্রী শুধু গ্যাসে ভরা কিন্তু মানুষ গ্যাসের কষ্টে ভুগছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, পেট্রোলের উপর এক্সাইজ ডিউটি ১৩ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ টাকায় নামানো হয়েছে এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে তা ১০ টাকা থেকে শূন্যে নামানো হয়েছে। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি, বরং এটি “জরুরি পরিস্থিতির ইঙ্গিত”। সাগরিকা ঘোষের অভিযোগ, দেশের বহু জায়গায় মানুষ গ্যাসের অভাবে সমস্যায় পড়ছেন। গৃহস্থালি রান্না থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসা, বিশেষ করে রেস্তোরাঁ শিল্প সবখানেই প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, “এই সরকার কেবল তখনই পদক্ষেপ নেয়, যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সাধারণ মানুষের কষ্ট তারা আগে থেকে বুঝতে পারে না বা বুঝলেও গুরুত্ব দেয় না।”
আরও দেখুনঃ ভোটকর্মীদের ট্রেনিংয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রচার! প্রতিবাদ করায় মাথা ফাটল কর্মীর
অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এই মন্তব্যের সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জ্বালানি ইস্যু আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যখন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, তখন এই ধরনের অভিযোগ সরকারকে চাপে ফেলতে পারে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা, সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে জ্বালানি পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে। ফলে পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম এবং সরবরাহ দুটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিরোধীদের মতে , জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু কর কমিয়ে সাময়িক স্বস্তি দেওয়া সম্ভব হলেও, স্থায়ী সমাধানের জন্য বিকল্প জ্বালানি, আমদানি নীতি এবং মজুত ব্যবস্থার উন্নতি জরুরি। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবির সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সরকারও পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জ্বালানির সহজলভ্যতা এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা।



















