কেরলের রাজনীতিতে আবারও কেন্দ্রীয় আলোচনায় উঠে এসেছে এঝাভা সম্প্রদায়। (Ezhava vote)দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থীদের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত এই বৃহত্তম হিন্দু সম্প্রদায় এখন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ থেকে ২৩ শতাংশ এই সম্প্রদায়ের হওয়ায়, তাদের ভোটাভ্যাস সরাসরি সরকার গঠনের ওপর প্রভাব ফেলে।
ঐতিহাসিকভাবে এঝাভা সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের দিকে ঝুঁকে থেকেছে। সামাজিক সংস্কার, সংগঠিত আন্দোলন এবং শ্রেণিভিত্তিক রাজনীতির কারণে এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তবে একই সঙ্গে ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)-ও কিছু অঞ্চলে এঝাভা ভোটের ওপর নির্ভর করেছে, বিশেষ করে কেরলের মধ্যাঞ্চলে।
আরও দেখুনঃ ৮০ কিমি বেগে ঝড়সহ শিলাবৃষ্টি, ৮জেলায় জারি লাল সতর্কতা
কিন্তু এবারের নির্বাচনী আবহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন চোখে পড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এঝাভা সম্প্রদায়ের একটি অংশ এখন বিজেপির দিকে ঝুঁকছে। যদিও এই সংখ্যা এখনও সীমিত, তবুও কিছু আসনে ৮ থেকে ১০ শতাংশ ভোটের এই পরিবর্তনই ফলাফল পাল্টে দিতে পারে। কারণ কেরলে অনেক ক্ষেত্রেই জয়ের ব্যবধান ৫ শতাংশেরও কম থাকে।
এই পরিবর্তনের পিছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম হল এসএনডিপি-র ভূমিকা। এঝাভা সমাজের এই প্রভাবশালী সংগঠন ঐতিহাসিকভাবে শ্রী নারায়ণ গুরুর আদর্শে অনুপ্রাণিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর একাংশের নেতৃত্ব বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে, যা ভোটারদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলছে।
এছাড়াও ধর্মীয় ইস্যুগুলিও বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শবরীমালায় মহিলাদের প্রবেশ নিয়ে বিতর্ক এঝাভা ভোটারদের একাংশের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। এই ইস্যুতে বাম সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তা রাজনৈতিকভাবে প্রভাব ফেলছে। বামফ্রন্ট এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পাম্বায় আয়্যাপ্পা কনক্লেভ আয়োজন করলেও, তার প্রভাব কতটা পড়বে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এঝাভা সম্প্রদায় অত্যন্ত শক্তিশালী। ছোট শিল্প, নারকেল ও কাজু শিল্প, ব্যবসা এবং বিদেশে থাকা প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সব মিলিয়ে এই সম্প্রদায়ের আর্থিক ভিত্তি যথেষ্ট মজবুত। ফলে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। নির্বাচনী তথ্য বলছে, অন্তত ২৫টি আসনে এঝাভা ভোটের সামান্য পরিবর্তনই ফলাফল নির্ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে যেসব আসনে এই সম্প্রদায়ের ভোটার সংখ্যা ২৫ শতাংশের বেশি, সেখানে জয়ের ব্যবধান খুবই কম থাকে। গত এক দশকে বামেদের প্রতি এঝাভা সমর্থনে প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাসও লক্ষ্য করা গেছে, যা বিজেপির পক্ষে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে এখনও পুরো সম্প্রদায় একদিকে ঝুঁকেনি। অনেকেই এখনও এলডিএফের সামাজিক প্রকল্প ও স্থানীয় সংগঠনের উপর ভরসা রাখছেন। অন্যদিকে, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও উন্নত সুযোগের চাহিদা নতুন প্রজন্মের ভোটারদের ভাবনায় পরিবর্তন আনছে।



















