২০২৯ র জন্য নয়া ইভিএম বানাতে ৫০০ কোটি দাবি কমিশনের! এক দেশ এক নির্বাচনের ইঙ্গিত?

নয়াদিল্লি: দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বড় ধরনের আধুনিকীকরণ ও(ECI) সম্প্রসারণের প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (ইসি) ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের জন্য নতুন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন…

eci-new-evm-plan-2029-elections

নয়াদিল্লি: দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বড় ধরনের আধুনিকীকরণ ও(ECI) সম্প্রসারণের প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (ইসি) ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের জন্য নতুন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার জন্য ৫০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ চেয়েছে। শুধু তাই নয়, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়বে প্রায় ৪৬ শতাংশ। এই বিপুল পরিকল্পনার পেছনে রয়েছে পুরনো মেশিন সরিয়ে নেওয়া, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’-এর মতো বড় সংস্কার।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩.৫৭ লক্ষ ব্যালট ইউনিট এবং ১.২৫ লক্ষ কন্ট্রোল ইউনিট কেনার প্রয়োজন হবে। ২০১৩-১৪ সালের পুরনো ইভিএমগুলো ১৫ বছরের সেবাজীবন শেষ করে অবসরে যাচ্ছে। ফলে নতুন মেশিন না কিনলে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। নতুন ইভিএম তৈরির কাজ আগামী মার্চ ২০২৭ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে নির্বাচনের জন্য ২৫ লক্ষ খরচ সন্দীপনের! দাবি কুনালের

বেল্ট অ্যান্ড রোড টেকনোলজি কোম্পানি এবং ইলেকট্রনিক্স কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেডের মতো সংস্থাগুলো এই প্রকল্পে কাজ করবে।একজন ঊর্ধ্বতন নির্বাচনী কর্মকর্তা বলেন, “দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে, নতুন ভোটার যোগ হয়েছে, ভোটকেন্দ্রও বাড়াতে হচ্ছে। পুরনো মেশিনগুলো আর নির্ভরযোগ্য নয়। তাই আমরা আধুনিক, আরও নিরাপদ ও ব্যবহারবান্ধব ইভিএম চাইছি।” নতুন মেশিনগুলোতে উন্নত সিকিউরিটি ফিচার, দ্রুত গণনা ব্যবস্থা এবং সহজে পরিবহনের সুবিধা থাকবে বলে জানা গেছে।

ইভিএম কেনার এই বড় পরিকল্পনাকে অনেকে আসন্ন ডেলিমিটেশন (নির্বাচনী এলাকা পুনর্নির্ধারণ) প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন। ২০২৬ সালের পর জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভা ও বিধানসভা আসন পুনর্বিন্যাস হতে পারে। ফলে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১০ লক্ষের বেশি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি মানে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

যদি ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’ বাস্তবায়িত হয়, তাহলে একই সময়ে লোকসভা, বিধানসভা এবং স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইভিএমের চাহিদা আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে। নির্বাচন কমিশন এই সম্ভাবনাকেও মাথায় রেখে পরিকল্পনা করছে।সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। দিল্লির এক ব্যবসায়ী রাজেশ শর্মা বলেন, “ইভিএম নিয়ে বিতর্ক তো আছেই।

কিন্তু যদি নতুন প্রযুক্তি আরও স্বচ্ছতা ও দ্রুততা আনে, তাহলে ভালো। টাকা খরচ হলেও দেশের গণতন্ত্রের জন্য এটা বিনিয়োগ।” অন্যদিকে, কিছু রাজনৈতিক দল এই বড় খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তাদের দাবি, আগে পুরনো মেশিনগুলোর সঠিক অডিট হওয়া উচিত।