
কলকাতা: আজ ৮ মে বিকেলে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। (Dilip Ghosh)তবে সূত্রের খবরে জানা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম প্রস্তাব করেছেন দিলীপ ঘোষ। অতীতে একাধিকবার দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারীর সম্পর্ক নিয়ে শোনা গিয়েছে অনেকরকম জল্পনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশও এই বিষয় নিয়ে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব সামনে আনতে চেয়েছেন। তবে এবারে সমস্ত মিথ ভেঙে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিলেন দিলীপ ঘোষ।
দীর্ঘদিন ধরেই দিলীপ ঘোষ ও শুভেন্দু অধিকারীর সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা চলছিল। একাংশের দাবি ছিল, বিজেপির অন্দরেই দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বিজেপির অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু আজকের বৈঠকে সেই সমস্ত জল্পনায় কার্যত ইতি পড়ল। শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, বাংলায় বিজেপির নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে দল ঐক্যবদ্ধ।
আরও দেখুনঃ এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত, জোড়া গোলে উজ্জ্বল প্রীতিকা
আজ বিকেলে কলকাতায় বিজেপি বিধায়ক দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর উপস্থিতিতেই নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে পরিষদীয় নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকের শুরুতেই দিলীপ ঘোষ শুভেন্দু অধিকারীর নাম মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে প্রস্তাব করেন। এরপর একে একে অন্যান্য বিধায়করাও সেই প্রস্তাবকে সমর্থন জানান। শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মতিক্রমে শুভেন্দু অধিকারীর নামেই শিলমোহর দেয় বিজেপি বিধায়ক দল।
এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর বিজেপি শিবিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। কলকাতা থেকে কাঁথি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা আনন্দ উদযাপন শুরু করেন। গেরুয়া আবির, বাজি এবং মিষ্টি বিতরণের মধ্য দিয়ে বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়। শুভেন্দুর নিজের এলাকা পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে তো কার্যত উৎসবের চেহারা নেয় পরিস্থিতি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া বিজেপির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা, এরপর বিজেপিতে যোগদান এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামে হারানো এই দীর্ঘ রাজনৈতিক সফরের পর অবশেষে রাজ্যের শীর্ষ পদে পৌঁছলেন শুভেন্দু। বিজেপির অন্দরেও তিনি গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বড় সংগঠক এবং মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন।
এদিকে অমিত শাহের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত হওয়ায় রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, বাংলায় সরকার গঠনের পর আগামী দিনে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি বিরোধী অভিযান, শিল্প বিনিয়োগ এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো একাধিক ইস্যুতে বড় পদক্ষেপ নিতে পারে নতুন সরকার।
আগামীকাল, ৯ মে ২০২৬, কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠানে দেশের একাধিক শীর্ষ বিজেপি নেতা উপস্থিত থাকতে পারেন। বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের এই মুহূর্ত ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা এবং কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

