৭ থেকে ৮ জনের টিম! চন্দ্রনাথ খুনে পুলিশের হাতে হাড়হিম তথ্য

কলকাতা: চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। (Chandranath Rath)বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহায়ককে খুনের ঘটনায় এবার বড়সড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
chandranath-rath-murder-whatsapp-group-up-connection

কলকাতা: চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। (Chandranath Rath)বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহায়ককে খুনের ঘটনায় এবার বড়সড় ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাচ্ছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে অন্তত ৭ থেকে ৮ জন জড়িত ছিল। শুধু বাইরের সুপারি কিলার নয়, স্থানীয় দুষ্কৃতীদেরও সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গোটা অপারেশনটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছিল। চন্দ্রনাথ রথের যাতায়াতের সময়, রুটিন এবং কোন রাস্তা দিয়ে তিনি ফিরবেন এই সমস্ত তথ্য আগেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, এলাকার কিছু লোক খুনিদের তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছিল। কারণ, হামলার পর আততায়ীরা যেভাবে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে, তাতে স্পষ্ট তারা আগে থেকেই পালানোর রাস্তা সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল।

   

আরও দেখুনঃ ভুয়ো ভিডিও দেখিয়ে বিভ্রান্তি! পুলিশের নোটিশ পেল সাংসদ সাগরিকা

এই তত্ত্বকে আরও জোরালো করেছে তদন্তে উঠে আসা নতুন তথ্য। জানা গিয়েছে, হামলার আগে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছিল দুষ্কৃতীরা। সেই গ্রুপের মাধ্যমেই পরিকল্পনা, অবস্থান এবং অন্যান্য তথ্য আদানপ্রদান চলছিল বলে পুলিশের দাবি। তদন্তকারীরা এখন সেই ডিজিটাল ট্রেইল খতিয়ে দেখছেন। কারা ওই গ্রুপে ছিল, কোথা থেকে বার্তা পাঠানো হয়েছিল এবং হামলার আগে কী আলোচনা হয়েছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।

এদিকে তদন্তে কোনও খামতি না রাখতে মধ্যমগ্রাম থানার প্রাক্তন আইসি সতীনাথ চট্টরাজকেও তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে। এলাকার পুরনো অপরাধচক্র ও স্থানীয় দুষ্কৃতীদের সম্পর্কে তাঁর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের বিশ্বাস, স্থানীয় স্তরে অপরাধচক্রের যোগসূত্র না থাকলে এত নিখুঁত পরিকল্পনায় হামলা চালানো সম্ভব হত না।

এই মামলার তদন্তে এবার উত্তরপ্রদেশেও পৌঁছেছে পুলিশের বিশেষ দল। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, যে মাইক্রা গাড়িটি ব্যবহার করে চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির পথ আটকানো হয়েছিল, সেটি বিক্রির জন্য আগে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। সেই বিজ্ঞাপন দেখেই উত্তরপ্রদেশ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি গাড়ির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বলে খবর। এখন পুলিশ খতিয়ে দেখছে, ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে হামলাকারীদের কোনও যোগ ছিল কি না। সেই সূত্র ধরেই উত্তরপ্রদেশে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে বিশেষ তদন্তকারী দল।

এদিকে খুনে ব্যবহৃত দুটি বাইকই উদ্ধার করেছে পুলিশ। দ্বিতীয় বাইকটি উদ্ধার হয়েছে বারাসাতের ১১ নম্বর রেলগেটের কাছ থেকে। এর আগে প্রথম বাইকটি উদ্ধার হয়েছিল এয়ারপোর্টের আড়াই নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে। তদন্তকারীদের দাবি, যে মাইক্রা গাড়িটি দিয়ে পথ আটকানো হয়েছিল, সেটিও বারাসাতের ১১ নম্বর রেলগেট এলাকার কাছেই রাখা ছিল। খুনের আগের পুরো দিন ওই এলাকায় দাঁড়িয়েছিল গাড়িটি। পুলিশের অনুমান, ওই এলাকাকেই ‘স্টেজিং পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করেছিল দুষ্কৃতীরা। সেখান থেকেই হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

তদন্তকারীদের মতে, এই হামলা ছিল সম্পূর্ণ সংগঠিত ও বহুস্তরীয়। কেউ নজরদারি করেছে, কেউ রুটের তথ্য জোগাড় করেছে, কেউ গাড়ি ও বাইকের ব্যবস্থা করেছে, আবার কেউ সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছে। ফলে এখন শুধু শ্যুটারদের চিহ্নিত করাই নয়, গোটা নেটওয়ার্কটিকে সামনে আনার দিকেই জোর দিচ্ছে পুলিশ।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google