নজরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা! কোন জেলায় মোতায়েন কত কেন্দ্রীয় বাহিনী

central-forces-deployment-west-bengal-second-phase-election-security

কলকাতা: বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (Central forces)। প্রথম দফার ভোটে কিছু বিচ্ছিন্ন অশান্তির অভিযোগ ওঠার পর কমিশন এবার কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। তাই হিংসা-মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে জেলায় জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল, রুট মার্চ এবং পুলিশের সঙ্গে যৌথ পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে গিয়ে ফ্ল্যাগ মার্চ শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দিতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে প্রশাসন। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটের দিন যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে সর্বোচ্চ নজর রাখা হচ্ছে।

   

আরও দেখুনঃ নজরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা! কোন জেলায় মোতায়েন কত কেন্দ্রীয় বাহিনী

দ্বিতীয় দফার ভোটে মোট ২৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, যা সংখ্যার দিক থেকে অত্যন্ত বড়সড় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি ৩৮ হাজার ২৯৭ জন রাজ্য পুলিশ কর্মীও দায়িত্বে থাকবেন। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি বুথে কমপক্ষে হাফ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা হবে। তিনটি বুথে একটি পূর্ণ সেকশন, পাঁচটি বুথে দুই সেকশন, সাতটি বুথে তিন সেকশন এবং বুথের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই অনুপাতে বাহিনীর সংখ্যাও বাড়ানো হবে। অর্থাৎ, ১১টি বুথে চার সেকশন এবং ১৫টি বুথে পাঁচ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

এই সুবিশাল নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী রাজ্যের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় বাহিনী ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। বারাসত পুলিশ জেলায় ১৯৭৮টি বুথের জন্য ১১২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ২০৫৬ জন রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বনগাঁয় ১০২৮টি বুথে থাকছে ৬২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ১১৫২ জন পুলিশ। বসিরহাটে ২০৫২টি বুথের জন্য ১২৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ২৩৬৯ জন পুলিশ দায়িত্বে থাকবেন।

বিধাননগরে ৮৮৩টি বুথে ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে রাজ্য পুলিশের সংখ্যা ১৩২৮। ব্যারাকপুরে ২৯২৮টি বুথে ১৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ৩২৪২ জন পুলিশ থাকবেন। সুন্দরবন পুলিশ জেলায় ১৭৯৮টি বুথে ১১৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ২১১৪ জন পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এছাড়াও বারুইপুরে ২৮২৫টি বুথে ১৬১ কোম্পানি, ডায়মন্ড হারবারে ২৪৪১টি বুথে ১৩৪ কোম্পানি এবং হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় ২৪৩১টি বুথে ১৪৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দায়িত্বে থাকবে। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটে ২০৮৭টি বুথে ১১০ কোম্পানি, কৃষ্ণনগরে ২৮৪৪টি বুথে ১৫৮ কোম্পানি এবং রানাঘাটে ২২৯২টি বুথে ১২৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটে ১৫৬৮টি বুথে ৮৩ কোম্পানি, হুগলি গ্রামীণ জেলায় ৪০৪১টি বুথে ২৩৪ কোম্পানি এবং পূর্ব বর্ধমানে ৪৪৬৫টি বুথে ২৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দায়িত্বে থাকবে। আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটে তুলনামূলকভাবে কম বুথ থাকায় ১৩ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে কলকাতায় সর্বাধিক ৫১৭২টি বুথে ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৭২৪১ জন পুলিশ এবং ২২৯টি কুইক রেসপন্স টিম (QRT) প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এই বিশাল নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে ভোট হবে শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ। রাজনৈতিক দলগুলির তরফেও এই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে স্বাগত জানানো হয়েছে, যদিও কিছু দল আরও কড়া নজরদারির দাবি তুলেছে।