কলকাতা: আনন্দপুরে মোমোর গোডাউনে আগুন লেগে মৃত্য হয়েছে প্রায় ৩০ জন কর্মীর। (BJP protest)এখনও অনেকেরই দেহাংশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই মৃত্যুর প্রতিবাদে বিজেপি আজ মিছিল শুরু করে আনন্দপুর থেকে। মিছিল শেষ হবে নরেন্দ্রপুরে। কিন্তু মিছিল শুরু হতেই দেখা গেল অদ্ভুত ছবি। বিজেপির মিছিলে রীতিমত বাজছে ডিজে এবং ডিজের তালে তালে নেচে নেচে মিছিলে হাঁটছেন বিজেপি কর্মীরা।
মুখে হাসি নিয়ে এই মৃত্যুর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে তৃণমূলের কটাক্ষের মুখে বিজেপি। রাজ্যের শাসক দল সরাসরি বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেছে যে মৃত্য নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি। গত ২৬ জানুয়ারী ডেকোরেটর্সের গোডাউনে আগুন লাগে এবং তারপর সেই আগুন ছড়িয়ে পরে পাশের ওয়াও মোমোর গোডাউন এবং ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটে।
জতুর্গৃহ আনন্দপুরে গিয়ে “বিস্ফোরক” লাটসাহেব
এই আগুনে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৩০ জনের এবং এখনও অনেক দেহাংশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। দমকলের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে গোডাউনের ফায়ার লাইসেন্স ছিল না। অভিযোগ উঠেছে রাতের শিফটে শ্রমিকদের ভিতরে আটকে রাখা হয়েছিল এসব মিলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ম্যানেজার, ডেপুটি ম্যানেজারসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এনএইচআরসি স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত শুরু করেছে।
এই ট্র্যাজেডির প্রতিবাদে বিজেপি আজ আনন্দপুর থেকে মিছিল শুরু করে, যা নরেন্দ্রপুরে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু মিছিল শুরু হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এক অদ্ভুত দৃশ্য বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ডিজে সেটআপ নিয়ে বাজিয়ে চলেছেন উচ্চস্বরে গান, আর তার তালে তাল মিলিয়ে নেচে নেচে হাঁটছেন। মুখে হাসি, হাতে প্ল্যাকার্ড, কিন্তু পরিবেশটা যেন উৎসবের মতো! অনেকে ছবি-ভিডিও তুলে শেয়ার করছেন, লিখছেন “মৃত্যুর প্রতিবাদে নাচ?
এটা কী ধরনের শোক?” বিজেপির এই মিছিলকে অনেকে রাজনৈতিক সার্কাস বলে কটাক্ষ করছেন। পাল্টা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন এই ঘটনার তদন্ত হয়ে উচিত। তার সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন যে ওয়াও মোমোর মালিককে বাঁচানোর চেষ্টা করছে শাসক দল তৃণমূল। এই অভিযোগের পাল্টা অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী।
তিনি বলেছেন এই ঘটনার পর শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া দরকার। তার অভিযোগ ডেকোরেটার্স গোডাউনের তরফ থেকে টাকা যেত শুভেন্দুর কাছে। তাই তিনি এ ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে মিছিল হোক বা প্রতিবাদ অসহায় শ্রমিকরা যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের প্রাণের বিনিময়ে রাজনীতি কাম্য নয় এমনটাই মনে করছে সাধারণ মানুষ।




















