কলকাতা: মমতার জন্যই অনুপ্রবেশ ট্রাম্প কার্ড ব্যবহার করতে পারছে বিজেপি (Bikash Ranjan)। এমনটাই অভিযোগ করলেন বাম নেতা এবং আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। বাম আমলে মমতা বন্দোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন বাংলায় অনুপ্রবেশকারীতে ভরে গিয়েছে। এই ইস্যুতে সেই সময় একাধিকবার সংসদে প্রশ্ন তোলেন মমতা এবং তার সেই ঐতিহাসিক কাগজ ছোড়ার ঘটনা সকলেরই মনে আছে। আর এখন সেই ইস্যুতেই বিজেপি রাজ্যে খেলছে অনুপ্রবেশ ট্রাম্প কার্ড। এমনটাই অভিযোগ তুললেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য।
কটি কড়া বিবৃতিতে বিকাশ রঞ্জন বলেন, “এই SIR প্রক্রিয়া নিয়ে যত গোলমাল, তার শুরু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই সেই বক্তব্য থেকে, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ নাকি অনুপ্রবেশকারীতে ভরে গেছে।” তাঁর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই প্রথম সংসদে দাঁড়িয়ে এমন পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যাতে কেন্দ্র সরকারকে বোঝানো যায় যে বাংলায় ব্যাপক হারে অনুপ্রবেশ ঘটছে।
আরও দেখুন: ‘মমতার পয়েন্টে সহমত বিচারপতিরা’, সুপ্রিম কোর্টের বাইরে কী কী দাবি কল্যাণের?
বিকাশ রঞ্জনের প্রশ্ন, “যদি সত্যিই রাজ্যে এত অনুপ্রবেশকারী থেকে থাকে, তাহলে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর একটিও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ কেন নেওয়া হয়নি?” তাঁর অভিযোগ, একদিকে অনুপ্রবেশ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা হয়েছে, অন্যদিকে বাস্তবে তার নিরসনে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে এই ‘গল্প’-কেই এখন বিজেপি রাজনৈতিকভাবে পুঁজি করছে।
সিপিআই(এম) সাংসদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন বা নির্বাচনী নিয়ম আপডেট হওয়া কোনও নতুন বিষয় নয়। এটি একটি নিয়মিত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। কিন্তু এবারের SIR-এ সমস্যার জায়গা তৈরি হয়েছে, কারণ এই সংশোধনকে নাগরিকত্বের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। বিকাশ রঞ্জন বলেন, “ভোটার তালিকার আপডেশনকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও বিপজ্জনক।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যে ধরনের নথিপত্র সাধারণ মানুষের কাছে চাওয়া হচ্ছে, তা বাস্তবে জোগাড় করাই অসম্ভব। তাঁর তীব্র মন্তব্য, “এমন কিছু ডকুমেন্ট চাওয়া হচ্ছে, যা হয়তো নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের পরিবারও দেখাতে পারবে না।” এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও সরাসরি আক্রমণ করেন বিকাশ রঞ্জন। তাঁর কথায়, “তিনি সবসময় গিমিক্সের রাজনীতি করেছেন। নরেন্দ্র মোদী যেমন গিমিক্সের ওপর ভর করে রাজনীতি করেন, মমতাও ঠিক তেমনটাই করেছেন মানুষের প্রকৃত স্বার্থের পরোয়া না করে।”




















