শপথেই অ্যাকশন মোডে নেমে তৃণমূল নেতা ঘনিষ্ঠের বাড়িতে অস্ত্র উদ্ধার পুলিশের

berhampore-arms-recovery-tmc-associate-police-raid

বহরমপুর: শুভেন্দু অধিকারী শপথ নিতেই অ্যাকশন মোডে প্রশাসন। (Arms Recovery)মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের সৈয়দাবাদ গির্জাপাড়া এলাকায় পুলিশের এক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বাড়ি থেকে এই উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ টুকু সরকার নামে এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে। অন্য দুই অভিযুক্ত পাপাই ঘোষ ও তার সহযোগী আশিম সরকার পলাতক রয়েছে।

   

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে তিনটি ৭.৬৫ মিলিমিটার রিভলভার, একটি ম্যাগাজিন এবং মোট ১৪০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় একটি গোপন সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশ এই অভিযান চালায়। টুকু সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে। পাপাই ঘোষ ও অসীম সরকারকে ধরতে পুলিশ তল্লাশি জোরদার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরও দেখুনঃ শপথের পরই শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা হাসিনার! দিলেন দুই বাংলার সুসম্পর্কের বার্তা

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় আতঙ্কিত। গির্জাপাড়ার এক বয়স্ক বাসিন্দা বলেন, “এলাকায় এত অস্ত্র থাকার খবর শুনে ভয় লাগছে। আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যুক্ত থাকলে এসব চলে কী করে?” অনেকেই মনে করছেন, এই অস্ত্রগুলো রাজনৈতিক হিংসা বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য মজুত করা হয়েছিল। নির্বাচনের পরেও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে, যা নতুন সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, “আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। টুকু সরকারের সঙ্গে স্থানীয় টিএমসি নেতার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। পলাতকদের ধরতে সবরকম চেষ্টা চলছে। এই নেটওয়ার্কের আরও সদস্য থাকতে পারে।” পুলিশ মনে করছে, এই অস্ত্রগুলো শুধু সৈয়দাবাদেই সীমাবদ্ধ নয়, আশেপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে থাকতে পারে।

রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, তৃণমূলের আমলে রাজ্যে অস্ত্রের রাজত্ব চলত। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ছিল না। একজন বিজেপি নেতা বলেন, “নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও তৃণমূল নেতাদের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে এত অস্ত্র থাকা প্রমাণ করে যে, তাঁদের অপরাধের নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয়। প্রশাসনকে কঠোর হাতে দমন করতে হবে।”