অগ্নিগর্ভ বাংলা! বেলডাঙ্গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি শাসনের ইঙ্গিত হাইকোর্টের ?

কলকাতা: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙাকে কেন্দ্র করে ফের অশান্তির আশঙ্কা, (Beldanga)আর তার মাঝেই কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চা শুরু করে দিয়েছে। নতুন করে যাতে বেলডাঙায় ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
beldanga-violence-central-force-president-rule-speculation

কলকাতা: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙাকে কেন্দ্র করে ফের অশান্তির আশঙ্কা, (Beldanga)আর তার মাঝেই কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চা শুরু করে দিয়েছে। নতুন করে যাতে বেলডাঙায় কোনও অশান্তি না ছড়ায়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরামর্শ দিয়েছে হাইকোর্ট। আর এই পরামর্শ ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি ধীরে ধীরে রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকেই এগোচ্ছে পরিস্থিতি?

মঙ্গলবার বেলডাঙা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে মৌখিক ভাবে জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করা যেতে পারে।

   

কানাডা-গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার? ট্রাম্পের পোস্টে নয়া মানচিত্র, হুলস্থুল বিশ্বে!

আদালত উল্লেখ করে, মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে সাম্প্রতিক অশান্তির পর এখনও পাঁচ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সেই বাহিনীকে বেলডাঙায় কাজে লাগানো সম্ভব। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আরও বাহিনী পাঠানোর বিষয়টি কেন্দ্র সরকার দেখবে বলেও পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এই মন্তব্যকে ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। কারণ, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে যদি একের পর এক কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন হয়, তা হলে রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্ন উঠতেই পারে। আর সেই সূত্র ধরেই কেউ কেউ রাষ্ট্রপতি শাসনের সম্ভাবনার কথাও তুলছেন, যদিও আদালত এ বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেনি।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় আচমকা ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও উত্তেজনার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও ১৭ জানুয়ারি ফের অশান্তির খবর সামনে আসে। এই ধারাবাহিক ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই সোমবার, ১৯ জানুয়ারি কলকাতা হাইকোর্টে দু’টি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। মামলাকারীদের বক্তব্য ছিল, সামশেরগঞ্জে অশান্তির সময় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল, যার ফলে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসে। বেলডাঙার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়।

মঙ্গলবার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা প্রশাসনের মূল দায়িত্ব। তবে পরিস্থিতি যদি এমন জায়গায় পৌঁছয়, যেখানে রাজ্য পুলিশের পক্ষে একা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নেওয়া যেতেই পারে। আদালতের মতে, সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তাই সর্বাগ্রে গুরুত্ব পাবে।

যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত নির্দেশ জারি হয়নি, তবে হাইকোর্টের মৌখিক পর্যবেক্ষণকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য রাজ্য সরকারের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করে এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়।

এই মামলার শুনানি মঙ্গলবার দুপুর ২টোর পর ফের শুরু হওয়ার কথা। লাঞ্চ ব্রেকের পর প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে প্রশাসনের। আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণের উপরই নির্ভর করবে বেলডাঙার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google