ভাল তৃণমূল সাজতে ভবানীপুরে অন্নপূর্ণার ফর্ম ফিলাপে সাহায্য করছেন মমতা ঘনিষ্ট অসীম বসু

কলকাতা: ভবানীপুরে আশ্চর্য কান্ড। (Asim Basu)বিজেপি সরকারের অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম ফিলাপে সাহায্য করছেন খোদ তৃণমূল নেতা মমতা ঘনিষ্ঠ অসীম বসু। রীতিমত ক্যাম্প খুলে মহিলাদের অন্নপূর্ণা…

asim-basu-annapurna-bhandar-camp-bhabanipur-political-speculation

কলকাতা: ভবানীপুরে আশ্চর্য কান্ড। (Asim Basu)বিজেপি সরকারের অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম ফিলাপে সাহায্য করছেন খোদ তৃণমূল নেতা মমতা ঘনিষ্ঠ অসীম বসু। রীতিমত ক্যাম্প খুলে মহিলাদের অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম ফিলাপে সাহায্য করছেন তিনি। এই ঘটনাতেই ফের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন। প্রশ্ন উঠেছে তবে কি এবার অসীমের ফুল বদল।

বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ মন্তব্য করেছেন এই তৃণমূল নেতা একসময় বিজেপি ছিলেন। তারপর তৃণমূলে গিয়েছিলেন এখন শমীকের ভাল তৃণমূল সাজতে এই কান্ড করছেন বলে দাবি তার। তবে এত কিছু করেও যে বিজেপির দরজা অসীমের জন্য খুলবে না তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন সজল। উল্টোদিকে অসীম তার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন তিনি একজন কাউন্সিলার হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

   

আরও দেখুনঃ মেসি-কাণ্ডে এফআইআর! আগাম জামিনের আবেদন জানালেন অরূপ বিশ্বাস

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা তৃণমূলের পরিচিত মুখ অসীম কুমার বসু নিজের দলীয় কার্যালয়ে একটি বিশেষ সহায়তা শিবিরের আয়োজন করেছেন। সেখানে এলাকার মহিলাদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্ম পূরণে সাহায্য করা হচ্ছে। শুধু কর্মীরাই নন, অসীম বসুকেও ব্যক্তিগতভাবে এই কাজে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। কারণ বর্তমান রাজ্য সরকারের অন্যতম আলোচিত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারকে কেন্দ্র করে একজন তৃণমূল নেতার এমন সক্রিয় ভূমিকা অনেকের কাছেই বিস্ময়ের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষত ভবানীপুরকে দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে দেখা হয়। সেই এলাকাতেই তৃণমূলের এক জনপ্রতিনিধির এই উদ্যোগ রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উসকে দিয়েছে।

বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তাঁর দাবি, অসীম বসুর রাজনৈতিক অতীত নিয়ে অনেকেই অবগত। তিনি একসময় বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, পরে তৃণমূলে যোগ দেন। এখন আবার রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করার লক্ষ্যেই তিনি এই ধরনের পদক্ষেপ করছেন বলে অভিযোগ সজল ঘোষের। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, এই ধরনের উদ্যোগ নিলেও বিজেপির দরজা অসীম বসুর জন্য খুলবে না।

তবে এই সমস্ত জল্পনা ও সমালোচনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ অসীম বসু। তাঁর বক্তব্য, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর প্রধান দায়িত্ব। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের কাজ করে দেওয়াকেই তিনি গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, এলাকার বহু মহিলা প্রকল্পের সুবিধা পেতে আগ্রহী হলেও ফর্ম পূরণ বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংক্রান্ত বিষয়ে সমস্যার মুখে পড়ছেন। সেই কারণেই তাঁদের সহযোগিতা করার জন্য এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।

অসীম বসু স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখানে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। মানুষের সুবিধার কথা ভেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “দল বা রাজনৈতিক রঙ নয়, মানুষের পাশে থাকা এবং তাঁদের প্রয়োজনের সময় সাহায্য করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”