আমডাঙায় হিন্দু পরিবারের ওপর অত্যাচার-ধর্ষণের হুমকি! কাঠগড়ায় কাসেম সিদ্দিকী

amdanga-violence-allegations-kasem-siddiqui

কলকাতা: আমডাঙা বিধানসভা (Amdanga violence)এলাকায় নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই হিন্দু পরিবারগুলির ওপর ব্যাপক অত্যাচার, বাড়িঘর ভাঙচুর, মহিলাদের মারধর ও ধর্ষণের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কাসেম সিদ্দিকীর জয়ের পর এই ঘটনাগুলি শুরু হয়েছে। অনেক হিন্দু যুবককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ভয়ে অনেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন।

আমডাঙার বিভিন্ন গ্রামে বাস করা হিন্দু পরিবার, বিশেষ করে তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষজনেরা জানিয়েছেন, জয়ের পর থেকেই একদল লোক তাঁদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। ঘরের দরজা-জানালা ভাঙা হয়েছে, আসবাবপত্র লণ্ডভণ্ড করা হয়েছে। মহিলাদের শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে এবং ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাসেম সিদ্দিকী জয়ী হওয়ার পর রাতের অন্ধকারে এই হামলাগুলি চালানো হয়। অনেক পরিবারের দাবি, এটা পূর্বপরিকল্পিত।

   

আরও দেখুনঃ বেঙ্গালুরুতে মোদীর সভার কাছেই উদ্ধার জিলেটিন স্টিক

তাঁরা বলছেন, যাঁরা বিজেপি সমর্থক বলে চিহ্নিত, তাঁদেরকেই বিশেষভাবে টার্গেট করা হয়েছে। কয়েকজন যুবক ভয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। তাঁদের পরিবার এখনও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে জাতীয় তপশিলি কমিশনের (National SC Commission) এক সদস্য আমডাঙায় সরেজমিন পরিদর্শনে আসেন। তিনি আক্রান্ত হিন্দু পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের অভিযোগ শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

কমিশনের এই সফর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে, কিন্তু নিরাপত্তার দাবিতে তাঁরা এখনও সোচ্চার।বিজেপি নেতারা এই ঘটনাকে তৃণমূলের ‘জিহাদি রাজনীতির’ বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁরা বলছেন, নির্বাচনে জিতে তৃণমূল এখন প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব রাজ্যপালের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দলের স্থানীয় নেতারা বলছেন, এটা বিজেপির রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। কাসেম সিদ্দিকী নিজে এখনও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। কিন্তু আক্রান্ত পরিবারগুলি বলছে, এখনও পর্যন্ত কোনো গ্রেফতার বা সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে আতঙ্ক বাড়ছেই।

স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।আমডাঙার এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে নতুন করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও ছবিতে ভাঙচুরের চিহ্ন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলিও বিষয়টি নজরে রেখেছে। জাতীয় তপশিলি কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর এখন অনেক কিছু নির্ভর করছে।