
কলকাতা: রবীন্দ্র জয়ন্তীর পুণ্য লগ্নে বাংলায় শপথ নিয়েছে গেরুয়া সরকার। (Abhishek Banerjee)মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামানিকও নিয়েছেন মন্ত্রী হিসেবে শপথ। এই আবহেই ফের বাংলার রাজনৈতিক মহলে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে তিনি অভিযোগ করেছেন প্রায় ৩০ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে বহু মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।
অভিষেকের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে নির্বাচন কমিশন ও একাধিক সরকারি সংস্থার ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ। তাঁর দাবি, যেসব প্রতিষ্ঠান নিরপেক্ষভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করার কথা, সেগুলির আচরণ ছিল পক্ষপাতদুষ্ট। তিনি বলেন, গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া জুড়ে এমন বহু ঘটনা ঘটেছে যা ভোটের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
আরও দেখুনঃদফতর বণ্টন পরে, শুভেন্দুর সঙ্গে শপথ নিলেন ৫ মন্ত্রী! মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হল কাদের?
বিশেষ করে ভোট গণনা প্রক্রিয়া, ইভিএম স্থানান্তর, কন্ট্রোল ইউনিটের অমিল এবং ভিভিপ্যাট সংক্রান্ত অভিযোগকে সামনে এনে অভিষেক দাবি করেছেন, “মানুষ জানতে চায় প্রকৃত জনমত আদৌ প্রতিফলিত হয়েছে কিনা।” তিনি ইতিমধ্যেই সমস্ত গণনা কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং ভিভিপ্যাট স্লিপের স্বচ্ছ গণনার দাবি তুলেছেন। তাঁর মতে, সত্য সামনে আনতে হলে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
এখানেই শেষ নয়। ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়েও সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতা। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। বহু পার্টি অফিসে ভাঙচুর হয়েছে, কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ঘরছাড়া হতে বাধ্য হয়েছেন। অভিষেকের কথায়, “গণতন্ত্রে কোনও রাজনৈতিক কর্মীকে নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হওয়া উচিত নয়।”
তিনি আরও জানান, তৃণমূলের বহু কর্মী অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে অভিষেক বলেন, কেউ যদি ভোট-পরবর্তী হিংসা, হুমকি বা ভয়ভীতির শিকার হন, তাহলে তাঁকে সরাসরি যোগাযোগ করতে বা ডিএম করতে অনুরোধ করা হচ্ছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আইনগত ও গণতান্ত্রিক সমস্ত পথ ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো হবে।
এই আবহে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তা কার্যত বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূচনা। যদিও বিজেপির তরফে এখনও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যু আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

