নয়াদিল্লি: ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে দেশবাসীর নজর কাড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬-এর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পরনে ছিল লাল রঙের টাই-ডাই পাগড়ি, যাতে ছিল সোনালি সুতোর কাজ। ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের বার্তা দিতে প্রতি বছরই প্রধানমন্ত্রী বিশেষ ধরনের পাগড়ি বা সাফা বেছে নেন, যা এ বছরেও বজায় ছিল।
এ বছরের পাগড়ির বিশেষত্ব
জাতীয় যুদ্ধ স্মারক পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর মাথায় যে লাল পাগড়িটি দেখা যায়, তাতে রাজস্থানী ঘরানার কাজের ছাপ ছিল স্পষ্ট। পাগড়িটি সম্ভবত সিল্কের তৈরি, যাতে ধাতব সুতো ব্যবহার করে গোল্ডেন মোটিফ বা ‘জারি’র কাজ করা হয়েছে। যোধপুরি সাফার অনুকরণে তৈরি এই শিরস্ত্রাণটির লম্বা অংশ বা লেজটি তাঁর আধুনিক পোশাকের সঙ্গে ঐতিহ্যের মিশেল ঘটিয়েছে। পাগড়ির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সাদা-নীল কুর্তা-পায়জামা এবং তার ওপর হালকা নীল রঙের একটি হাফ জ্যাকেট পরিধান করেছিলেন।
অতীতের সেই সাফা ঐতিহ্য PM Modi Republic Day turban
২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ পাগড়ি পরার রীতি শুরু করেন মোদী। বিগত বছরগুলিতেও তাঁর পাগড়ি নিয়ে ব্যাপক চর্চা হয়েছে-
২০২৫ (৭৬তম প্রজাতন্ত্র দিবস): প্রধানমন্ত্রী পরেছিলেন লাল ও হলুদ রঙের বাঁধেজ সাফা, যা রাজস্থান ও গুজরাটের সংস্কৃতির প্রতীক। সে সময় তাঁর পোশাকের মূল থিম ছিল ‘স্বর্ণিম ভারত – উত্তরাধিকার ও বিকাশ’।
অন্যান্য বছর: এর আগে তাঁকে কখনও উত্তরাখণ্ডের টুপি, কখনও বহুবর্ণের বন্ধনী প্রিন্ট, আবার কখনও রাজস্থানী ফেটা-স্টাইল পাগড়িতে দেখা গিয়েছে।
বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বার্তা
প্রধানমন্ত্রীর এই শিরস্ত্রাণ নির্বাচন কোনো সাধারণ বিষয় নয়। প্রতি বছর বিভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চলের বস্ত্রশিল্পকে সম্মান জানিয়ে এই পাগড়িগুলি বাছাই করা হয়। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে যেমন ভারতের সামরিক শক্তি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রদর্শিত হয়, প্রধানমন্ত্রীর এই ‘পাগড়ি ঐতিহ্য’ ঠিক তেমনি ভারতের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ (Unity in Diversity)-এর বার্তাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরে।




















