পাটনা: ৩১ বছর আগের একটি পুরনো মামলায় পূর্ণিয়ার সাংসদ পাপ্পু যাদবকে (Pappu Yadav) গ্রেপ্তার করেছে বিহার পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে পাটনার মন্দিরি এলাকায় তাঁর বাসভবন থেকে তাঁকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাঁকে পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে আদালতের সম্পত্তি ক্রোক ও বাজেয়াপ্তির নির্দেশ জারির মাত্র তিন দিনের মাথায়। মামলাটির সূত্রপাত ১৯৯৫ সালে। সেই সময় পাটনার গর্দানিবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের হয় (এফআইআর নং ৫৫২/১৯৯৫)। অভিযোগকারী বিনোদ বিহারী লালের দাবি, তাঁর বাড়ি ভাড়ার নামে নেওয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে সেখানে সাংসদের কার্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ভাড়া দেওয়ার সময় এই তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: পাটনায় পাপ্পু যাদবের বাড়িতে পুলিশি অভিযান, গ্রেপ্তারি চেষ্টা ঘিরে উত্তেজনা
এই মামলায় আদালত আগেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও একাধিকবার আদালতে হাজিরা নিশ্চিত না হওয়ায় অভিযুক্তদের ঠিকানায় নোটিস টাঙানোর নির্দেশ দেয় আদালত। সেই নির্দেশ কার্যকর হওয়ার পরও হাজিরা না দেওয়ায় আদালত শেষ পর্যন্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার চূড়ান্ত আদেশ দেয়। সেই আদেশ জারির তিন দিনের মধ্যেই পুলিশ গ্রেপ্তারি পদক্ষেপ নিল।
গ্রেপ্তারের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্টে পাপ্পু যাদব দাবি করেন, তিনি কোনও পরিস্থিতিতেই মাথা নত করবেন না বা চুপ থাকবেন না। তিনি লেখেন, ন্যায়বিচারের দাবিতে তাঁর অবস্থান বজায় থাকবে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার বা অন্য কোনও চাপ দিয়েও থামানো যাবে না।
আরও পড়ুন: ইসলামাবাদে আত্মঘাতী হামলায় মৃত্যু বেড়ে ৩১
একই সঙ্গে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পুলিশি পদক্ষেপের সময় তিনি বলেন, আদালত যখন আগের দিন হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে, তখন হঠাৎ করে আজ পুলিশের আসার যৌক্তিকতা কী—তা তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং তাঁর জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত।
#WATCH | Bihar: Police arrive at the residence of Independent MP Pappu Yadav in Patna, to arrest him in connection with an old case. pic.twitter.com/2YsQdOXVoL
— ANI (@ANI) February 6, 2026
উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে পাপ্পু যাদব একাধিক সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে সরব ছিলেন। বিশেষ করে NEET পরীক্ষার্থী সংক্রান্ত হত্যা মামলা এবং সুরজ বিহারী হত্যা মামলায় তিনি প্রকাশ্যে প্রশাসন ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই এই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ আইন অনুযায়ীই নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে গোটা ঘটনার দিকে নজর রাখছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহল।




















