ভারতের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশে আসা রহস্যজনক ২৬ পাকিস্তানি

কলকাতা: দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝে এবার নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাংলাদেশে (Pakistani)বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি নাগরিকের আগমনকে ঘিরে। ঢাকার গুলশান এলাকায় একসঙ্গে ২৬ জন পাকিস্তানি নাগরিকের উপস্থিতি নিয়ে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
pakistani-delegation-arrival-bangladesh-security-alert

কলকাতা: দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝে এবার নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাংলাদেশে (Pakistani)বিপুল সংখ্যক পাকিস্তানি নাগরিকের আগমনকে ঘিরে। ঢাকার গুলশান এলাকায় একসঙ্গে ২৬ জন পাকিস্তানি নাগরিকের উপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ এবং বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর পরই এই ঘটনাকে ঘিরে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলে বাড়ছে কৌতূহল এবং সতর্কতা।

   

সূত্রের দাবি, পাকিস্তান থেকে আসা এই প্রতিনিধিদল ১০ মে ঢাকায় পৌঁছেছে। তাঁরা রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ‘লেক ক্যাসেল’ নামে একটি গেস্ট হাউসে উঠেছেন বলে জানা গিয়েছে। আরও দাবি করা হয়েছে, পুরো সফরটি পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কিংবা পাকিস্তান হাইকমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

আরও দেখুনঃ গভীর সংকট! পেট্রল ডিজেলের ব্যবহার কমাতে অনুরোধ মোদীর

এই প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ। আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, তাঁরা একটি “এডুকেশন এক্সপো”-তে অংশ নিতে বাংলাদেশে এসেছেন। কিন্তু গোয়েন্দা মহলের একাংশের মতে, এত বড় একটি দলের একসঙ্গে আগমন এবং দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের যেকোনও অস্বাভাবিক গতিবিধি বা বিদেশি প্রতিনিধিদলের কার্যকলাপকে গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদল এবং সীমান্ত রাজনীতির আবহে এই সফর আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

সূত্রের খবর, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ধাপে ধাপে বাংলাদেশ ছাড়বেন। ১৫ মে থেকে ২৫ মে-র মধ্যে বিভিন্ন দিনে তাঁদের ফেরার সূচি নির্ধারিত হয়েছে। এই দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে। কারণ সাধারণত শিক্ষা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদলের সফর তুলনামূলকভাবে স্বল্প সময়ের হয়ে থাকে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পুরো বিষয়টির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রতিনিধিদলের সদস্যদের চলাফেরা, বৈঠক এবং যোগাযোগের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও বেআইনি বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের প্রমাণ সামনে আসেনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বর্তমানে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, জলবণ্টন থেকে শুরু করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো একাধিক বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের হঠাৎ আগমন স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিদেশি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নতুন কোনও ঘটনা নয় বলেও মনে করিয়ে দিচ্ছেন অনেকে। তাঁদের বক্তব্য, শুধুমাত্র সন্দেহ বা গুজবের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। সরকারি তদন্ত বা নির্দিষ্ট তথ্য সামনে এলে তবেই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো অত্যন্ত স্বাভাবিক পদক্ষেপ। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যেকোনও ধরনের অস্থিরতা বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google