নয়াদিল্লি: অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইতে ‘বিচারবিভাগীয় দুর্নীতি’ সংক্রান্ত অধ্যায় ঘিরে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন বিতর্কে শেষ পর্যন্ত পিছু হঠল কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের হয়ে নিঃশর্ত ও দ্ব্যর্থহীন ক্ষমা চাইলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তবে কেবল ক্ষমাপ্রার্থনাতেই ক্ষান্ত হয়নি শীর্ষ আদালত। কেন এই ধরনের ‘আপত্তিকর’ বিষয় পাঠ্যবইতে অন্তর্ভুক্ত করা হলো, তার ব্যাখ্যা চেয়ে এনসিইআরটি (NCERT) ডিরেক্টর এবং স্কুল শিক্ষা সচিবকে শো-কজ নোটিশ জারি করেছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
বিচারবিভাগের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ‘Exploring Society: India and Beyond, Vol II’ শীর্ষক সমাজবিজ্ঞান বইটির চতুর্থ অধ্যায়ে বিচারবিভাগের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি একে বিচারবিভাগকে কালিমালিপ্ত করার এক ‘সুগভীর ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন। বৃহস্পতিবার আদালতে তিনি কঠোর ভাষায় জানান, “কারা এর জন্য দায়ী, তা খুঁজে বের করা আমার কর্তব্য। দোষীদের কাউকেই ছেড়ে দেওয়া হবে না।” এমনকি আদালতের নির্দেশে ওই বিতর্কিত অংশটি পাঠ্যবই থেকে চিরতরে মুছে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
বিচারব্যবস্থার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান SC issues show cause notice to NCERT
বিতর্ক দানা বাঁধতেই এনসিইআরটি-র পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, বিচারব্যবস্থার প্রতি তাঁদের সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে এবং এই ভুলটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। অনিয়ম ধরা পড়ার পরই ওই বইটির বিতরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, মোট ২.২৫ লক্ষ কপির মধ্যে মাত্র ৩৮টি কপি বাজারে বিক্রি হয়েছিল। এনসিইআরটি এখন সেই ৩৮টি বইও গ্রাহকদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়ার (Retrieve) মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। বাকি ২,২৪,৯৬২টি কপি ইতিমধ্যেই গুদামে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রক এবং এনসিইআরটি যৌথভাবে জানিয়েছে, বিচারব্যবস্থাকে সংবিধান ও মৌলিক অধিকারের রক্ষক হিসেবেই তারা গণ্য করে। কিন্তু কীভাবে এই ‘বিবেচনাবোধের অভাব’ বা ভুল তথ্য স্কুল পড়ুয়াদের বইতে জায়গা করে নিল, তা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী দিনে এনসিইআরটি-র শীর্ষ কর্তাদের জবাবের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবে শীর্ষ আদালত।




















