‘RSS-মার্কা মুখ্যমন্ত্রী’ বলে মমতাকে তোপ সাসপেন্ডেড হুমায়ুনের

Police Detain Humayun Kabir’s Son in Connection with Inquiry

বাবরি মসজিদের শিলান্যাস ঘিরে মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে আজীবনের জন্য সাসপেন্ড করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন হুমায়ুন। সাফ জানিয়ে দেন—দল ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি তাঁর শেষ হয়ে গিয়েছে, এবং খুব শিগগিরই তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক দল ঘোষণা করবেন।

বিধায়ক পদে ইস্তফা

হুমায়ুন কবীর বলেন, “কালকেই রিজাইন দিয়ে দেব। নতুন দল গড়ছি। কাল অথবা সোমবারই বিধায়ক পদে ইস্তফা দেব। আপনাদের কাছেই শুনলাম দল আমাকে সাসপেন্ড করেছে! ফিরহাদ হাকিমের কথার কৈফিয়ত দেব না—যা পারে করুক। ২০১৫ সালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও কোনও নোটিস না দিয়ে আমায় সাসপেন্ড করেছিলেন।”

দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর ঘণ্টা দু’য়েকের মধ্যে তিনি জানান, জেলা সভাপতির সঙ্গে কথা বলে বহরমপুরে সাংবাদিক বৈঠক করবেন। শোনা যাচ্ছে, ২২ ডিসেম্বর তিনি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটাতে চলেছেন। তাঁর দাবি, ৩১ সদস্য ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন এবং দল হবে “ধর্মনিরপেক্ষ”। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল এবং BJP—উভয়ের বিরুদ্ধেই লড়াই করবেন বলেও ঘোষণা করেছেন ভরতপুরের বিধায়ক।

বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য— “নিজের টাকায় মুসলিমদের জন্য মসজিদ গড়তে বাধা কেন? যখন ক্লাবগুলোকে সরকার টাকা দেয়? উন্নয়নের নামে তোলাবাজি চলে? মসজিদ তো গড়বই। এই RSS-মার্কা মুখ্যমন্ত্রীর থেকে আগামী দিনে কেউ যদি BJP-র মুখ্যমন্ত্রী হন, তাতেও স্বাগত।”

কেন সাসপেন্ড করল তৃণমূল?  TMC MLA Suspended Babri Masjid

সাংবাদিক বৈঠকে শহর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতিতেই হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

ফিরহাদের অভিযোগ, “তৃণমূল ঘৃণার রাজনীতি বরদাস্ত করে না। উনি রেজিনগরের মানুষ, কিন্তু ভরতপুরের বিধায়ক হয়েও বেলেডাঙার মতো ধর্মীয়ভাবে স্পর্শকাতর এলাকায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করতে চাইছেন কেন? এতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সম্ভাবনা রয়েছে। BJP-র উস্কানিতেই তিনি বিভাজনের রাজনীতি করছেন।”

মন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, যারা ধর্মকে হাতিয়ার করে রাজনীতি করতে চান—তাদের সঙ্গে তৃণমূল কোনও সম্পর্ক রাখবে না।

BJP-র তীব্র আক্রমণ: ‘মমতা বাবরের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন’

হুমায়ুনের সাসপেনশনকে “নাটক” বলে কটাক্ষ করেছে BJP। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন,
“যখন উনি বলেছিলেন—ওরা ৩০ শতাংশ, আমরা ৭০ শতাংশ; যখন বলেছিলেন কেটে ভাসিয়ে দেব—তখন তৃণমূল কী করছিল? আজকের ঘটনা স্রেফ রাজনৈতিক নাটক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাবরের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। ভারতের মানুষ এই রাজনীতি মেনে নেবে না।”

রাজনৈতিক অঙ্ক আরও জটিল

২২ ডিসেম্বর হুমায়ুনের নতুন দল ঘোষণার সম্ভাবনা রাজনৈতিক মহলে নতুন তরঙ্গ তুলেছে। মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের সংগঠনগত সমীকরণে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। একইসঙ্গে তৃণমূল, BJP এবং হুমায়ুন কবীর—তিন শিবিরেই উত্তেজনা তুঙ্গে।

সাসপেন্ড হুমায়ুন, দলের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ সাফ জানাল TMC

Humayun Kabir’s TMC Suspension Confirmed by Firhad Hakim

তৃণমূল কংগ্রেসের শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরাসরি মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানালেন, “ধর্মকে কেন্দ্র করে যারা রাজনীতি করে, তাদের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক থাকবে না।”

হুমায়ুন কবীরের এই সিদ্ধান্ত TMC-র অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নীতি মেনে নেওয়ার প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে। শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বলেছে, শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে দলের নীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া অপরিহার্য। এটি কোনো ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা দলীয় দ্বন্দ্ব নয়, বরং নিয়ম-নীতি বজায় রাখার জন্য নেওয়া পদক্ষেপ।

TMC সূত্রে জানা গিয়েছে, হুমায়ুন কবীরের কিছু কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য শাসক দলের নীতি ও আদর্শের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষত, ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং ব্যক্তিগত দিক থেকে দলের নীতির বাইরে যাওয়া—এসব কারণেই তাকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “যারা ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করে, তাদের সঙ্গে আমাদের দলের আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না। আমাদের দলের নীতি অনুযায়ী সকলকে শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকতে হবে। কেউ যদি এ নীতি ভঙ্গ করে, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‘প্যান্ট খুলে কালীঘাট পাঠাব!’ নন্দীগ্রাম থেকে হুঁশিয়ারি অভিষেককে

nandigram-pralay-pal-challenges-abhishek-banerjee-political-row

মিলন পণ্ডা ( পূর্ব মেদিনীপুর ) কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সাংবাদিকদের (Nandigram political controversy) মুখোমুখি হয়ে দাবি করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ব মেদিনীপুরে নন্দীগ্রাম বিধানসভা দাঁড়াবেন। ডায়মণ্ড হারবার থেকে সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের পূর্ব মেদিনীপুরে নিয়ে যাচ্ছেন। কলকাতায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান দল চাইলে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হতে পারি! তারপরেই রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা শুরু হয়। এনিয়ে তমলুক সংগঠনীক জেলার বিজেপি সহ সভাপতি প্রলয় পাল বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন ” আমরা তো সেই আশাতে আছি! বাংলা সিনেমায় দেখেন না, অভিনেতা জিৎ দৌড়াচ্ছে, তার পেছন পেছন গুণ্ডারা ধাওয়া করছে। নন্দীগ্রামে এলে প্যান্ট খুলে পেটাবো, গোহারা হেরে বাড়ি যাবে। সে প্যান্ট খোলা নয়, গণতান্ত্রিকভাবে তার পিসি’কে হারিয়ে মাথায় চুলকানি লেপে কালীঘাট পাঠিয়েছি।

‘রাজ্য থেকে ভূত তাড়াতে হবে’! খেজুরি থেকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

এখান থেকে প্যান্ট খুলে গণতান্ত্রিকভাবে কালীঘাট পাঠাবো।নায়ক তো আমরা! আমরা চাইছি অভিষেককে নন্দীগ্রামে বিধানসভা দাঁড়ানোর জন্য। আমরা গণতান্ত্রিকভাবে প্যান্ট খুলে কালীঘাট পাঠিয়ে দেবো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানে নিজে দাঁড়িয়ে হেরেছে, সে একা কেন দোষ নেব। পরিবারের এক সদস্য নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে মাথায় চুলকানি লেপে যেন বাড়ি যায় “।

নন্দীগ্রামে বিধানসভায় কত লিড হতে এখন বলা সম্ভব নয়। প্রলয়বাবু বলেন ” একুশে বিধানসভা নির্বাচনের সময় আমাদের একটা প্রধান ছিল না। এখন আমাদের একাধিক প্রধান ও পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে। একদিকে এসআইআর, সংগঠন অন্যদিকে প্রশাসনিক ক্ষমতা নির্বাচনে বুঝিয়ে দিব নন্দীগ্রামের মানুষ কত লিড দেবো “। একুশে বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করা প্রসঙ্গে বলেন ” উনি ভুলভাল ফোন করেন। আমরা রাষ্ট্রবাদী। লোভ-লালসা শিকার হইনা। ভুল জায়গায় ফোন করে ফেলেছেন। বিজেপি নেতারা ব্যক্তি স্বার্থ বিশ্বাস করে না “।

উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে প্রতীকী কেন্দ্র। ২০২১ সালের ভোটে নন্দীগ্রামেই মুখোমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই ফলাফল আজও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে লড়লে তা নিঃসন্দেহে আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের জন্ম দেবে।

বর্তমানে বিজেপি শিবিরে আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট। প্রলয় পালের বক্তব্যে সেই প্রতিফলনই দেখা গেল যে বিজেপির কাছে নন্দীগ্রাম শুধুমাত্র একটি কেন্দ্র নয়, বরং সম্মানের লড়াই। এখন রাজনৈতিক অন্দরের প্রশ্ন অভিষেক সত্যিই কি নন্দীগ্রামে নামবেন? দল তাঁকে কি এই কেন্দ্র থেকে লড়াবে? আর যদি লড়ান, তবে শুভেন্দুর ‘গড়’-এ তৃণমূল কি নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারবে? রাজনীতি উত্তাল, মঞ্চে চড়া সুর, আর নন্দীগ্রাম আবার আলোচনার কেন্দ্রে—এটাই এখন বঙ্গ রাজনীতির বর্তমান ছবি।

ভোটার বাতিল হলে নেতারও অধিকার বাতিল, হুঁশিয়ারি শতাব্দীর

Shatabdi Sends Tough Message on Voter-Leader Accountability

Sir-র মধ‌্যে দিয়ে নির্বাচন কমিশন ভুয়ো ভোটারদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে ভোটার তালিকার যথাযথতা নিশ্চিত করা হবে এবং ভোটিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। তবে, এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায় (Satabdi Roy) শুক্রবার বিস্ফোরক  মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, “ভোটার বাতিল হলে জনপ্রতিনিধিরাও বাতিল হয়ে যাবেন।” শতাব্দী রায়ের মতে, নির্বাচিত নেতাদের অধিকার ভোটারদের উপর নির্ভরশীল। তিনি প্রশ্ন করেছেন, “ভুয়ো ভোটারদের ভোটে জিতে কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন জনপ্রতিনিধিরা?” তার মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ভোটার তালিকায় যদি অকার্যকর বা ভুয়ো ভোটার অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহলে নির্বাচিত নেতাদের বৈধতা এবং কর্তব্যও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাবে।

শতাব্দী রায় এই মন্তব্য করেন নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর। বৈঠকে তৃণমূলের অন্যান্য সাংসদরাও উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ভুয়ো ভোটারদের চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। এই বৈঠকে নির্বাচন কমিশন জানায় যে তারা ভোটার তালিকার সংষ্করণে বিশেষ নজর দেবেন এবং ভুয়ো ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তৃণমূল সাংসদরা বৈঠকে আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি ভোটার তালিকার যথার্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শতাব্দী রায়ের বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়েছে যে, ভোটারদের জন্য নির্ধারিত অধিকারই রাজনৈতিক নেতাদের বৈধতা নির্ধারণের প্রধান মানদণ্ড। তিনি বলেন, “যদি ভোটারদের ভোট বাতিল করা হয়, তবে সেই ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অধিকারও বাতিল হওয়া উচিত।” এই মন্তব্য রাজনৈতিক এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধুমাত্র ভোটারদের গুরুত্বের উপর জোর দেয় না, বরং নির্বাচিত নেতাদের দায়বদ্ধতাকেও সামনে আনে। ভোটার তালিকার যথার্থতা এবং ভুয়ো ভোটারদের প্রভাবকে নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শতাব্দী রায় আরও বলেছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ভোটারদের অধিকার রক্ষা করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। যদি ভোটারদের অধিকারকে অবহেলা করা হয় বা ভুয়ো ভোটারদের মাধ্যমে নির্বাচন প্রভাবিত হয়, তবে তা জনগণের আস্থা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়বিচারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

 

দায়িত্বে এসেছেন লোবেরা, বদল আসবে দলের অন্দরে?

sergio-lobera-mohun-bagan-squad-changes-foreign-players-revamp

ওডিশা এফসি এখন অতীত। গত বুধবার সার্জিও লোবেরার যোগদানের কথা স্পষ্ট করেছে মোহনবাগান (Mohun Bagan) সুপার জায়ান্ট। হোসে মোলিনার জামানায় দাঁড়ি টেনে এবার এই স্প্যানিশ কোচের উপরেই ভরসা রেখেছে ম্যানেজমেন্ট। উল্লেখ্য গত সিজনে অনবদ্য পারফরম্যান্স ছিল ময়দানের এই প্রধানের। ঐতিহ্যবাহী ডুরান্ড কাপ হাতছাড়া হলেও পরবর্তীতে দেশের প্রথম ডিভিশন ফুটবল লিগ তথা ইন্ডিয়ান সুপার লিগ জয় করেছিল মোহনবাগান। পাশাপাশি লিগ শিল্ড ও এসেছিল তাঁদের ঘরে। বলতে গেলে এখনও পর্যন্ত টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে এক মরসুমে এই অভূতপূর্ব সাফল্য রয়েছে তাঁদের ঝুলিতে।

স্বাভাবিকভাবেই এবার প্রত্যাশা বেড়েছিল সমর্থকদের। কিন্তু এবার ও ডুরান্ড কাপে ধাক্কা খেতে হয়েছিল সবুজ-মেরুনকে। কোয়ার্টার ফাইনালে পরাজিত হয়ে ছিটকে যেতে হয়েছিল টুর্নামেন্ট থেকে। তারপর ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড জয় করলেও সুপার কাপে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি মোহনবাগান। পড়শী ক্লাব ইস্টবেঙ্গলের কাছে আটকে ছিটকে যেতে হয়েছিল টুর্নামেন্টের গ্ৰুপ পর্ব থেকে। সেই সাথে ইরানে এএফসির ম্যাচ খেলতে না যাওয়ার ক্ষোভ ও ছিল সমর্থকদের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে মোলিনা যে দায়িত্বে থাকবেন না সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল আগেই।

অবশেষে তাঁকে বিদায় জানিয়ে লোবেরাকে স্বাগত জানিয়েছে মোহনবাগান। এবার এই আইএসএল জয়ী কোচকে নিয়েই আশায় বুক বাঁধছেন সমর্থকরা। জানা গিয়েছে, সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৩০শে নভেম্বর থেকেই ফের অনুশীলনে নামবে মেরিনার্সরা। সেদিন থেকেই দলের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যেতে চলেছে সার্জিও লোবেরাকে। কিন্তু এসবের মাঝেই উঠে আসতে শুরু করেছে নয়া তথ্য। জানা গিয়েছে, মোহনবাগানের বর্তমান দল নিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট নন ওডিশা এফসির এই প্রাক্তন কোচ। বিশেষ করে নাকি বিদেশি কয়েকজন ফুটবলারদের বদলের পরিকল্পনা রয়েছে লোবেরার।

সেক্ষেত্রে আগামীতে হয়তো বেশ কিছু বদল লক্ষ্য করা যেতে পারে দলের অন্দরে। সেক্ষেত্রে হয়তো দল থেকে বাদ পড়তে পারেন আক্রমণভাগের কয়েকজন ফুটবলার। যদিও এখনও পর্যন্ত বিষয়টি স্পষ্ট নয়। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই হয়তো স্পষ্ট হবে সমস্ত কিছু।

ডবল এন্ট্রির লিস্ট নিয়ে নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে শুভেন্দু

suvendu-adhikari-double-entry-voter-list-west-bengal-2025

কলকাতা: বঙ্গে চলছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের বা SIR আবহ। এই আবহেই তৃণমূল বনাম রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপির তরজা হয়ে গিয়েছে বাঙালির রোজ নামচা। এবার সারা বাংলায় ডবল এন্ট্রির লিস্ট নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দফতরে ঢোকার আগে তিনি অভিযোগ করেন সারা বাংলাতে মোট ১৩ লক্ষ্য ২৫ হাজার ডবল এন্ট্রির খোঁজ পাওয়া গেছে।

শুধু তাই নয় সারা বাংলায় অনিয়মের তথ্যে ভরা একটি পেন ড্রাইভও তিনি সঙ্গে এনেছেন বলে জানিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমকে। এছাড়াও আরও বিভিন্ন ধরণের অভিযোগ নিয়ে বুধবার নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে পৌঁছেছেন শুভেন্দু। শুভেন্দুর তালিকায় আছে মৃত ব্যাক্তির নামে SIR ফর্ম দেওয়া, ডবল এন্ট্রি এবং BLO দের বাড়িবাড়ি না গিয়ে এক জায়গা থেকে SIR ফর্ম বিলির মত অভিযোগ।

নির্দল বিধায়ক হিসাবে বিধানসভায় যেতে চান পার্থ! লড়বেন ভোটে?

এই SIR প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে চলতি মাসেই। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে। উদ্দেশ্য ছিল বেনোজল বাদ দিয়ে ভোটার লিস্টকে স্বচ্ছ করা। ডুপ্লিকেট নাম বাদ, মৃত ব্যক্তিদের নাম মুছে ফেলাই এই প্রক্রিয়ার অংশ। কিন্তু বিজেপির দাবি, এর নামে তৃণমূলের লোকেরা কীভাবে লিস্ট ম্যানিপুলেট করছে। শুভেন্দুর তালিকায় আছে, মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনার মতো সীমান্তবর্তী জেলায় ডবল এন্ট্রির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

“এটা শুধু ডুপ্লিকেট নয়, অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নামও ঢোকানো হচ্ছে,” বলে অভিযোগ করলেন তিনি। পেন ড্রাইভে ১০০-এর বেশি ডকুমেন্ট, যাতে ফর্মের স্ক্যান কপি, BLO-দের রিপোর্ট এবং ডেটা এন্ট্রির প্রমাণ। নির্বাচনী অফিসে ঢোকার আগে শুভেন্দু বলেন “আমরা চিঠি দিয়েছি, তদন্তের দাবি করেছি। যদি না শোনা হয়, তাহলে দিল্লিতে যাব।”

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে পুরোপুরি খারিজ করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ে, তাহলে তারা দিল্লিতে যাবেন নির্বাচন কমিশনের অফিসে। তৃণমূলের দাবি, ২০০২ সালের লিস্ট থেকে হঠাৎ নাম অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে, যা বিজেপির চক্রান্ত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছেন, “ভোটার লিস্টে ভূতুড়ে ভোটার ঢোকানো হচ্ছে, কিন্তু আমরা সতর্ক।”

জোড়া গাড়ি বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল রাজধানী! নাশকতার ছক?

নয়াদিল্লি, ১০ নভেম্বরঃ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বুকে আতঙ্ক! ঐতিহাসিক লালকেল্লার সামনে আচমকা জোড়া গাড়ি বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল গোটা এলাকা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একের পর এক দুটি গাড়িতে বিস্ফোরণ হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের আরও তিনটি গাড়িতে।

ঘটনাস্থলে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে অন্তত ৭টি দমকল ইঞ্জিন এবং দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল টিম। এখনও পর্যন্ত খবর পাওয়া গেছে বিস্ফোরণে৫ জনের মৃত্যু ১৪ জন আহত।গোটা এলাকায় জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে NSG 

দমকল ও পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে একটি পার্ক করা গাড়িতে আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশে থাকা আরও দুটি গাড়িতে। ঘটনাস্থলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে, আতঙ্কে এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়।

দিল্লি দমকল বিভাগের সাতটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত এক জনের মৃত্যু ও চার জনের আহত হওয়ার খবর মিলেছে। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে, গাড়ির ভিতরে কোনও বিস্ফোরক ছিল কি না, নাকি শর্ট সার্কিট বা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ এর কারণ। গোটা ঘটনায় জঙ্গি নাশকতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। লালকেল্লা ও আশপাশের এলাকা জুড়ে জারি হয়েছে উচ্চ সতর্কতা।

মরুভূমিতে ত্রিশূল প্রতিধ্বনিত, থার র‍্যাপ্টর ব্রিগেডের শক্তিশালী প্রদর্শনী

Army-tank

নয়াদিল্লি, ৭ নভেম্বর: থার র‍্যাপ্টর ব্রিগেডের এভিয়েশন স্কোয়াড্রন (Thar Raptor Brigade), সুদর্শন চক্র (Sudarshan Chakra)  এবং কোনার্ক কর্পসের (Konark Corps)  যান্ত্রিক সৈন্যরা সম্মিলিত অস্ত্র অভিযান পরিচালনা করছে। এই মহড়াটি দক্ষিণ কমান্ডের চলমান মরুভূমি মহড়া মারুজওয়ালা এবং অখণ্ড প্রহারের অংশ, যা ত্রি-সেনা মহড়া ত্রিশুলের (Exercise Trishul) অংশ। এই অভিযানের উদ্দেশ্য হল সেনাবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর যৌথ কৌশল (টিটিপি) উন্নত করা, বাস্তব-বিশ্বের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উভয় বাহিনীর সমন্বয় এবং প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা জোরদার করা।

এই মহড়ায় বিভিন্ন ধরণের অভিযান অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • নজরদারি এবং পুনর্বিবেচনা অভিযান
  • বিশেষ হেলিবোর্ন অভিযান
  • দ্রুত সেনা মোতায়েন
  • স্থল অভিযানের জন্য বিমান সহায়তা

যৌথ অপারেশনাল সক্ষমতা জোরদার করার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ
এই যৌথ মহড়াগুলি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম, চটপটে এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য সুসংহতভাবে প্রস্তুত। আধুনিক যুদ্ধের চাহিদার কথা মাথায় রেখে যৌথ অপারেশনাল সক্ষমতা জোরদার করার দিকে সাউদার্ন কমান্ডের এই প্রচেষ্টাকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গুয়াহাটিতে উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের প্রথম বড় বিমান প্রদর্শনী
আগামী দুই দিনের মধ্যে গুয়াহাটিতে বিমান বাহিনী উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের প্রথম বড় বিমান প্রদর্শনী আয়োজন করার কথা রয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় যুদ্ধবিমান, যেমন রাফায়েল, সুখোই-৩০, অ্যাপাচি এবং আইএল-৭৮ রিফুয়েলার, প্রদর্শনীতে থাকবে। বিমান বাহিনীর ৯৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে ইস্টার্ন এয়ার কমান্ড শনি ও রবিবার লাচিত ঘাটে একটি বিমান প্রদর্শনীর আয়োজন করছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বিমান প্রদর্শনী পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং রবিবার পূর্বাঞ্চলীয় বিমান কমান্ডের এয়ার অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ এয়ার মার্শাল সুরত সিং-এর উপস্থিতিতে বিমান প্রদর্শনী পর্যবেক্ষণ করবেন। রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য এবং মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত সহ অন্যান্যরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। ভারতীয় বিমান বাহিনী উত্তর-পূর্বে এই প্রথম এত বিস্তৃত বিমান প্রদর্শনী আয়োজন করছে।

চিকেনস নেকে সুরক্ষা বাড়াতে নয়া পদক্ষেপ ভারতীয় সেনার

indian-army-security-measures-siliguri-corridor

শিলিগুড়ি: চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডোরে বাড়ছে উত্তেজনা। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস গ্রেটার বাংলাদেশের মানচিত্রে চিকেনস নেক সহ ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। শুধু তাই নয় এই মানচিত্র পৌঁছেছে এবং তুরস্ক সরকারের হাতে। তাই এই শিলিগুড়ি করিডোরে সুরক্ষা বাড়াতে নয়া পদক্ষেপ নিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশ সীমান্তে তিনটি নতুন অপারেশনাল গ্যারিসন স্থাপন করেছে: বামুনি, চোপড়া ও কিষাণগঞ্জে।

এই পদক্ষেপটি ক্রস-বর্ডার নিরাপত্তার প্রতি ভারতের দৃঢ় অবস্থানের স্পষ্ট সংকেত। সীমান্তের এই নতুন শক্তিবৃদ্ধি শুধুমাত্র সামরিক কৌশল নয়, বরং ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়া। পূর্ব ভারতের সংবেদনশীল ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরকে সুরক্ষিত করতে এই গ্যারিসনগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই করিডরটি মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া একটি সরু জমির ফালি, যা উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভারতের সঙ্গে যুক্ত করে।

‘পদ্ম’ থেকে মুখ ফেরালে ‘জঙ্গল’ ফিরবে! হুঁশিয়ারি শাহের

যদি এখানে কোনো হুমকি দেখা দেয়, তাহলে পুরো দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর আলোকে এই উদ্যোগটি ভারতের সতর্কতার প্রমাণ।সবচেয়ে আগে বুঝে নেওয়া যাক, এই তিনটি গ্যারিসন কোথায় এবং কেন। প্রথমটি বামুনি, যা অসমের ধুবড়ি জেলার কাছে অবস্থিত। এখানে লাচিত বর্পুখন মিলিটারি স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে, যা অসমের প্রথম বড় সামরিক ঘাঁটি বাংলাদেশ সীমান্তের এত কাছে।

লাচিত বর্পুখন ছিলেন আহম যোদ্ধা, যিনি মুঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন—এই নামটি নির্বাচন করা স্থানীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। দ্বিতীয়টি চোপড়া, উত্তর দিনাজপুরে। এখানে ভ্রমাস্ত্র কর্পসের সৈন্যরা দ্রুতগতিতে ঘাঁটি স্থাপন করেছে। তৃতীয়টি কিষাণগঞ্জ , যা বিহারের সীমান্তবর্তী এলাকায় এবং শিলিগুড়ির খুব কাছে।

এই তিনটি স্থানেই গ্যারিসনগুলি এখন সম্পূর্ণ অপারেশনাল, অর্থাৎ যেকোনো সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। পূর্ব কমান্ডের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর.সি. তিওয়ারি সম্প্রতি এই স্থানগুলি পরিদর্শন করে অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি এমএলএ হামিদুল রহমানসহ সিভিল কর্মকর্তারাও ছিলেন, যা সামরিক-সিভিল সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে।এই উদ্যোগের পটভূমি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক জোটের পরিবর্তন।

গত আগস্ট মাসে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাত হওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এরপর থেকে ঢাকার নীতিমালা পরিবর্তিত হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে সম্প্রতি ইউনুস পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জার সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন, যেখানে যোগাযোগ এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

চীনের সঙ্গে বিনিয়োগের প্রস্তাবও এগোচ্ছে। এই পরিবর্তন ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ, বিশেষ করে লালমোনিরহাটে বাংলাদেশের বিমানঘাঁটির আপগ্রেডিংয়ের খবর শুনে। এই ঘাঁটিটি চিকেনস নেক থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে, এবং সেখানে যুদ্ধবিমানের জন্য নতুন হ্যাঙ্গার নির্মাণ হচ্ছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুসারে, বাংলাদেশি সেনা অফিসাররা সীমান্তে ঘনঘন ঘুরছেন, যা ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছে।

‘কংগ্রেস সভাপতির পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ হাতে’— মুখ্যমন্ত্রীর বিস্ফোরক দাবি!

Assam CM Himanta Biswa Sarma claims to have evidence linking Congress state president Gaurav Gogoi with Pakistan. Political tensions rise ahead of state elections.

গুয়াহাটি, ৩১ অক্টোবর: অসম রাজনীতিতে ফের ঝড় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেন— “অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি গৌরব গগৈ-এর পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের যথেষ্ট প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। এখনই প্রকাশ করছি না, কারণ এর সময় এখনও আসেনি। কিন্তু খুব শীঘ্রই সেই প্রমাণ জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে।”

এই মন্তব্যের পরেই কার্যত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে অসমের রাজনৈতিক অঙ্গন। রাজ্যের শাসক বিজেপি শিবিরে উচ্ছ্বাস, আর কংগ্রেস শিবিরে প্রবল অস্বস্তি।

হিমন্ত শর্মা আরও বলেন— “অসমবাসীর জানার অধিকার আছে। যারা নিজেদের দেশপ্রেমিক বলে প্রচার করে, তাদের মুখোশ এবার খুলে যাবে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে কেউই এই দেশের রাজনীতি করতে পারবে না।”

তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যেও মুহূর্তের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই দাবি কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং একটি বড় কৌশলও হতে পারে।

এদিকে কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দলের অন্তর্গত এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য একেবারে ভিত্তিহীন। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে।”

অন্যদিকে বিজেপি শিবিরে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে উচ্ছ্বাস স্পষ্ট। বিজেপি মুখপাত্র দাবি করেছেন, “দেশবিরোধী শক্তি ও বিদেশি প্রভাবের সঙ্গে কারা যুক্ত, সেই সত্য এবার প্রকাশ্যে আসবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. অভিজিৎ দত্ত মনে করছেন, “অসমে ভোটের আবহ তৈরি হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিজেপি মূলত জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশপ্রেমের ইস্যুতে ভোটারদের আবেগে দোলাতে চাইছে। তবে প্রমাণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই দাবিকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত, তা বলা কঠিন।”

তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বলছেন, “যদি সত্যিই প্রমাণ থাকে, তবে তা প্রকাশ করা উচিত।” আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, “প্রমাণ ছাড়া এই ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক বিভাজন বাড়াবে।”

গৌরব গগৈ, যিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের পুত্র, বর্তমানে রাজ্য কংগ্রেসের প্রধান মুখ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তান-যোগের অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে বড় আঘাত হতে পারে— এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অসমের রাজনীতি যেখানে বিগত কয়েক মাস ধরে জুবিন গার্গের মৃত্যু, NRC, এবং শরণার্থী ইস্যু নিয়ে সরব, সেখানে এই নতুন বিতর্কে রাজ্য রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হওয়া অবশ্যম্ভাবী।

যেই জিতুক, ছাব্বিশের পর বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার থাকবে না: জগন্নাথ

Jagannath Sarkar

ক্ষমতায় বিজেপি আসুক বা তৃণমূল থাকুক- ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের পর বদলে যাবে বাংলার মানচিত্র। থাকবে না বাংলাদেশের সঙ্গে কাঁটাতার। এক হয়ে যাবে দুই বাংলা। এমনই দাবি করলেন রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার (Jagannath Sarkar)। কোনও গোপন বৈঠক বা ঘনিষ্ঠ মহে নয়, প্রকাশ্যেই এই মন্তব্য করেছেন পদ্মের দু’বারের সাংসদ।

শুক্রবার মাটিয়ারি বানপুরে এক সভায় হাজির ছিলেন জগন্নাথ সরকার। সেই সভায় অনেকে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। সেই তালিকায় মহিলাদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়ার মতো। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, শতাধিক ব্যক্তি পদ্মের পতাকাতলে এসেছেন। সেই মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন রানাঘাটের গেরুয়া সাংসদ।

এ দিন জগন্নাথ সরকার বলেন যে ছাব্বিশের ভোটের পর বাংলাদেশ সীমান্ত বলে আর কিছু থাকবে না। বিজেপি জিতলেও থাকবে না। তৃণমূল জিতলেও একই ছবি দেখা যাবে। তবে পরিপ্রেক্ষিত আলাদা হবে। তিনি বলেন, ‘‘কথা দিচ্ছি, আমরা জিতলে বাংলাদেশ সীমান্ত রাখব না। আগের মতো যেমন এক ছিল, তেমন এক থাকবে।’’

রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের স্বপ্ন অখণ্ড ভারত। সেই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। সংঘের মতাদর্শে চলা দলের সাংসদের মুখে এই ধরনের কথা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু তৃণমূল জিতলে কীভাবে সীমান্ত উঠে গিয়ে দুই বাংলা এক হবে? কোন অঙ্কে তা সম্ভব তাও বলেছেন জগন্নাথ সরকার। তাঁর মতে,, ‘‘’তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে পশ্চিমববঙ্গ বাংলাদেশ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রেও আর কোনও সীমান্ত থাকবে না বা দরকার হবে না।‘’

দুই বাংলা এক হবে, এটা অনেকেরই স্বপ্ন। বিশেষ করে নদিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকার শরণার্থীদের তো বড় স্বপ্ন। তাঁরা অত্যাচারিত হয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে এসেছিলেন। তবে সেই দুর্বিসহ স্মৃতি আর মনে রাখতে চান না। সেই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিও চান না। সেই বিষয়টিকেই উস্কে দিলেন রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার।

নয়া আইন আনছে রাজ্য সরকার! দ্বিতীয় বিয়ে করলেই সাত বছর কারাবাস

assam-anti-polygamy-law-himanta-biswa-sarma-announcement

গুয়াহাটি, ২৭ অক্টোবর: অসমে বহুবিবাহের দিন শেষ। এবার থেকে একাধিক বিবাহ করলে জেল অবধারিত। সোমবার গুয়াহাটির এক সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর হিমন্ত বিশ্ব শর্মা স্পষ্ট জানালেন, “অসম সরকার বহুবিবাহের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনছে। আগামী ২৫ নভেম্বর রাজ্য বিধানসভায় বিল উত্থাপন করা হবে। যদি কোনো ব্যক্তি প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ না ঘটিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করেন, তবে তাঁকে সাত বছর বা তারও বেশি মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হবে।”

এই ঘোষণা শুধু আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং সামাজিক সংস্কারের বার্তা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নারীর মর্যাদা, সুরক্ষা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। বহুবিবাহ সমাজে বৈষম্য, অন্যায় ও নির্যাতনের জন্ম দেয়। আমরা চাই, এমন অসম গড়ে উঠুক যেখানে নারীকে অবমাননা করা বা তাঁর অধিকার হরণ করা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।”

আরও পড়ুন: অজিভূমিতে দাঁড়িয়ে সূর্যকে নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ গম্ভীর!

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, গত দুই বছর ধরে সরকার পরিকল্পিতভাবে এই বিষয়ে কাজ করছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য মন্ত্রিসভা বিলটি বিধানসভায় উপস্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। তিনি বলেন, “এই আইন শুধুমাত্র শাস্তির উদ্দেশ্যে নয়, বরং সমাজের নৈতিক ও পারিবারিক শুদ্ধতার জন্য প্রয়োজনীয়।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ হিমন্ত সরকারের “নারী-কেন্দ্রিক সংস্কার” নীতির ধারাবাহিকতা। ইতিমধ্যেই অসম সরকার বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “২০২২ সাল থেকে আমরা অসমে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত ৫,০০০ পুরুষ এবং ৩,০০০ অভিভাবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “অনেক বাবা-মা দারিদ্র্যের কারণে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেন। আমি তাঁদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, যদি সরকার ছাত্রীদের শিক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেয়, তাহলে কি মেয়েকে বিয়ে দেবেন? তাঁরা বলেছিলেন না, কখনই না।” হিমন্ত স্পষ্ট বার্তা দেন, “সরকারের লক্ষ্য একটাই অসমের প্রতিটি নারী যেন আত্মনির্ভর হয়, শিক্ষিত হয়, এবং নিজের মর্যাদা নিয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে।”

এই উদ্যোগের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও আলোচনা চলছে। অনেকের মতে, হিমন্ত সরকারের এই পদক্ষেপ সমাজের রক্ষণশীল অংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। তবে রাজ্য সরকার বলছে, এটি কোনো ধর্মীয় ইস্যু নয়, বরং নারীর সুরক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়ের বিষয়।

অসম মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান মণিকা শর্মা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “অসমে বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহের কারণে বহু নারী মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই আইনের মাধ্যমে তাঁদের জন্য ন্যায়বিচারের পথ খুলবে।”

অন্যদিকে, বিরোধী কংগ্রেস শিবির দাবি করেছে, সরকার এই বিলকে নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে। কংগ্রেস মুখপাত্র দেবব্রত শর্মা বলেন, “নারীর অধিকার রক্ষায় শুধু আইন নয়, বাস্তবিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থান প্রয়োজন। সরকার সেটা করছে না।”

তবে সরকারি মহল স্পষ্ট জানিয়েছে, “অসম সরকার সামাজিক সংস্কারের জন্যই এই পদক্ষেপ নিয়েছে কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে নয়।” যেভাবেই দেখা হোক, অসমের ইতিহাসে এই আইন নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী অধ্যায় হয়ে থাকবে। বহুবিবাহ বিরোধী এই বিল কার্যকর হলে রাজ্যের সামাজিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাংলায় আসছে SIR! আপনার নাম ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে আছে? খুঁজবেন কী ভাবে?

Missing Voter! An Entire Booth Disappears

কলকাতা: আজ বিকেল সাড়ে চারটের পরেই হয়তো বদলে যেতে পারে রাজ্যের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত চিত্র। সূত্রের খবর, বিকেল ৪টে ১৫ মিনিটে সাংবাদিক সম্মেলনে বড়সড় ঘোষণা করতে চলেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। আলোচ্য বিষয়- Special Intensive Revision (SIR), অর্থাৎ ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া। কমিশনের তরফে জোরালো ইঙ্গিত, পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্তত ১০টি রাজ্যে আজই আনুষ্ঠানিকভাবে এই SIR ঘোষণা হতে পারে।

ভোটার তালিকা বিশুদ্ধ করাই প্রধান লক্ষ্য

নির্বাচন কমিশনের দাবি, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল ভোটার তালিকাকে “বিশুদ্ধ ও নির্ভুল” করা—অর্থাৎ যেখানে ভুয়ো নাম রয়েছে, সেগুলি বাদ দেওয়া এবং প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকাভুক্ত করা। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকা নিয়ে একাধিক বিতর্ক ও অভিযোগ ওঠায় কমিশন এবার চাইছে আরও কঠোর ও যাচাইকৃত ব্যবস্থা চালু করতে।

এই প্রেক্ষিতে কমিশন ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, বিহারের ধাঁচে বাংলাতেও ভোটার তালিকায় নাম রাখার জন্য নির্দিষ্ট ১১টি নথি চাওয়া হতে পারে। তবে কমিশন সূত্রে খবর, যাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আগে থেকেই রয়েছে, তাঁদের নতুন করে কোনও ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু পুরনো ভোটার প্রশাসনিক জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের নাম কীভাবে খুঁজবেন Election Commission Voter List Revision

এই গুরুত্বপূর্ণ যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় নিজের নাম রয়েছে কি না তা খুঁজে দেখতে পারবেন খুব সহজেই।

১. গুগলে গিয়ে সার্চ করুন- 2002 West Bengal Voter List।
২. সার্চ রেজাল্টে প্রথমেই দেখতে পাবেন সাইট: ceowestbengal.nic.in/Roll_dist।
৩. এই সাইটে ক্লিক করলেই খুলে যাবে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলার তালিকা।
৪. প্রথমে নিজের জেলা নির্বাচন করুন।
৫. এরপর প্রদর্শিত হবে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রগুলির নাম।
৬. সেই তালিকা থেকে নিজের বুথ বা ভোটদান কেন্দ্র চিহ্নিত করুন।
৭. নির্বাচিত বুথে ক্লিক করলেই আপনার সামনে খুলে যাবে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা।
৮. সেই তালিকা থেকে নিজের নাম খুঁজে দেখুন।

যদি নাম পাওয়া যায়, তাহলে আপনি পুরনো ভোটার হিসেবে বিবেচিত হবেন, এবং কোনও অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু নাম না থাকলে লাগবে নিচের যে কোনও এক বা একাধিক নথি।

১১টি প্রয়োজনীয় নথি যা কমিশন চাইতে পারে

১. কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের অথবা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জারি করা পরিচয়পত্র।
২. অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে পেনশন পেমেন্ট অর্ডার।
৩. ০১.০৭.১৯৮৭-র আগের সরকার, ব্যাংক, পোস্ট অফিস, এলআইসি বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার দেওয়া কোনও শংসাপত্র বা পরিচয়পত্র।
৪. জন্মের শংসাপত্র (Birth Certificate)।
৫. পাসপোর্ট।
৬. স্বীকৃত বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাট্রিকুলেশন সার্টিফিকেট বা শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র।
৭. রাজ্য সরকারের দেওয়া স্থায়ী বাসস্থানের শংসাপত্র।
৮. বনভূমি অধিকার শংসাপত্র।
৯. উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া তফসিলি জাতি, উপজাতি বা অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শংসাপত্র।
১০. জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC)-এর নথি।
১১. রাজ্য বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাদ্দকৃত জমি বা বাড়ির দলিল/শংসাপত্র।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব

নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ প্রশাসনিকভাবে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই রাজনৈতিকভাবেও তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিগত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে-ভুয়ো নাম, দ্বৈত ভোটার, এমনকি মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় থাকার অভিযোগও বহুবার শোনা গেছে। এবার কমিশন স্পষ্ট করতে চাইছে, “ভোটার তালিকা হবে পরিচ্ছন্ন, নিখুঁত এবং বিশ্বাসযোগ্য।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলে তা শুধু ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানোন্নয়নই নয়, বরং নির্বাচনী প্রশাসনে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার দিকেও এক বড় পদক্ষেপ হবে।

নজর আজকের ঘোষণায়

আজকের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন কমিশনের শীর্ষ কর্তারা। সেখানেই স্পষ্ট হবে—কীভাবে, কোন সময়সীমার মধ্যে এবং কীভাবে SIR কার্যকর করা হবে। কমিশনের মতে, এটি এক সর্বভারতীয় মানদণ্ডে ভোটার তালিকা সংস্কারের সূচনা।

রাজনৈতিক মহল ইতিমধ্যেই কৌতূহলী। কারণ এই ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচনী প্রস্তুতি, ভোটার পুনর্বিন্যাস এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

সুতরাং বিকেল ৪টে ১৫ মিনিটের সেই সাংবাদিক বৈঠকেই নজর এখন গোটা রাজ্যের-ভোটার তালিকার ভবিষ্যৎ যে অনেকটাই নির্ভর করছে আজকের সেই সিদ্ধান্তের উপর, তা বলাই বাহুল্য।

পাঁচ বছর পর শুরু ভারত-চিন সরাসরি বিমান পরিষেবা, কলকাতা থেকে উড়ল ইন্ডিগো

India China direct flight resumes Kolkata IndiGo

কলকাতা, ২৬ অক্টোবর: দীর্ঘ পাঁচ বছরের বিরতির পর অবশেষে ফের শুরু হলো ভারত-চিন সরাসরি বিমান পরিষেবা। শনিবার রাত ১০টা ০৭ মিনিটে কলকাতা ( Kolkata )বিমানবন্দর (এনএসসিবিআই এয়ারপোর্ট, দমদম) থেকে ইন্ডিগোর একটি বিমান উড়ে যায় চিনের উদ্দেশে।

বিমানবন্দরের ডিরেক্টর জানিয়েছেন, পাঁচ বছরের ব্যবধান ভেঙে ফের যাত্রীদের জন্য খুলে গেল এই আকাশপথ। সরাসরি ফ্লাইট শুরু হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, শিক্ষা ও পর্যটনে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন এতদিন বন্ধ ছিল

২০১৯ সালের শেষ দিকে করোনা মহামারীর কারণে ভারত-চিন আকাশপথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভিন্ন কূটনৈতিক সমস্যার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা যায়নি। অবশেষে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় ফের শুরু হলো পরিষেবা।

ব্যবসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে সুবিধা

সরাসরি বিমান চালুর ফলে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। বিশেষ করে যারা চিনে পড়াশোনা বা চিকিৎসার জন্য যান, তাঁদের জন্য এটি বড় সুবিধা। কলকাতা থেকে সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় পূর্ব ভারতের যাত্রীদেরও ভ্রমণ সহজ হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে, ধাপে ধাপে ভারত-চিনের মধ্যে আরও কিছু রুট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী দিনে দিল্লি, মুম্বই এবং চেন্নাই থেকেও সরাসরি ফ্লাইট শুরু হতে পারে।

পাঁচ বছর পর ভারত-চিন আকাশপথে ফের যাত্রীবাহী বিমানের ডানা মেলা নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পর্যটন—সব ক্ষেত্রেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কলকাতা থেকে ইন্ডিগোর এই যাত্রা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দেবে বলে আশাবাদী যাত্রীরা।

ছত্তিশগড়ে নকশাল বিরোধী আন্দোলনে নয়া মাইলফলক

chhattisgarh-anti-naxal-rehabilitation-2025

রায়পুর: ছত্তিশগড়ের নকশালবাদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের অক্লান্ত প্রচেষ্টা আরও একটি নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে। আজ রবিবার উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজয় শর্মা ঘোষণা করেছেন যে, ২১ জন নকশালীকে সফলভাবে পুনর্বাসিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে ১৩ জন মহিলা এবং ৮ জন পুরুষ।

এই গ্রুপে ৪ জন ডিভিশনাল কমিটি মেম্বার (ডিভিসি) এবং ৯ জন এরিয়া কমিটি মেম্বার (এসিএম) স্তরের নেতা, বাকি সবাই পার্টির সাধারণ সদস্য। এই আত্মসমর্পণের সাথে তারা ১৮টি অস্ত্র জমা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ৩টি একে-৪৭, ২টি আইএনএসএএস, ৪টি এসএলআর এবং অন্যান্য হালকা অস্ত্র।

চাল রফতানিতে বিশ্বব্যাপী আরও শক্তিশালী অবস্থানে ভারত

উপ মুখ্যমন্ত্রী বলেন এই ঘটনা শুধু একটি সংখ্যার খেলা নয়, বরং বস্তরের জঙ্গল-পাহাড়ে শান্তির একটি আলোর রশ্মি, যা হাজার হাজার মানুষের জীবনে নতুন আশার সূচনা করেছে।বিজয় শর্মা রায়পুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আজ এই ২১ জনের আত্মসমর্পণ আমাদের সরকারের পুনর্বাসন নীতির সাফল্যের প্রমাণ। তারা জঙ্গলের অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছে, এবং আমরা তাদের হাত ধরে মূলধারায় ফিরিয়ে এনেছি।”

এই নকশালীরা মূলত বাস্তারের মাদ এলাকা থেকে এসেছে, যেখানে নকশালবাদের ছায়া দীর্ঘদিন ধরে পড়ে ছিল। মহিলাদের সংখ্যা বেশি হওয়া একটি বিশেষ দিক তারা অনেকেই জোরপূর্বক নিয়োগিত হয়ে জঙ্গলে বেঁচে ছিলেন।

একজন পুনর্বাসিত মহিলা, যার নাম গোপন রাখা হয়েছে, বলেন, “জঙ্গলে আমরা শুধু ভয়ে বেঁচে ছিলাম। এখন স্বাধীনতার স্বাদ পাচ্ছি। সরকারের এই সুযোগ আমাদের নতুন জীবন দিয়েছে।” এই কথাগুলো শুনে শর্মা চোখে জল নিয়ে বলেন, “এটি যুদ্ধের নয়, মানবতার জয়।”

এই আত্মসমর্পণের পটভূমি ছত্তিশগড় সরকারের নতুন সারেন্ডার অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন পলিসি, যা মার্চ মাসে চালু হয়েছে। এই নীতিতে সারেন্ডারকারীদের জন্য আর্থিক সাহায্য, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, বাসস্থান এবং চাকরির সুযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে, যাদের মাথায় পুরস্কারের টাকা ছিল, তাদের সেই অর্থ দেওয়া হয় এবং অস্ত্রের বিনিময়ে অতিরিক্ত সাহায্য।

শর্মা বলেন, “আমরা অ্যাসাম এবং অন্যান্য রাজ্যের নীতি থেকে শিক্ষা নিয়ে এটি তৈরি করেছি। এখন এটি ফল দিচ্ছে।” এই ২১ জনের মধ্যে ডিভিসি স্তরের নেতারা ছিলেন নকশালবাদের মেরুদণ্ড, যারা এখন শান্তির পথ বেছে নিয়েছেন। তারা ১৮টি অস্ত্র জমা দিয়ে বলেছেন, “আর কোনো হিংসা নয়।”

গত ২২ মাসে বিজেপি সরকারের আমলে ৪৭৭ জন নকশালী নিহত, ১,৭৮৫ জন গ্রেফতার এবং ২,১১০ জন আত্মসমর্পণ করেছে। অক্টোবর মাসেই বাস্তারে ২০৮ জনের মাস সারেন্ডার হয়েছে, যার মধ্যে ১১০ জন মহিলা ছিলেন। উত্তর বাস্তার এবং আবুঝমাদ এলাকা এখন সম্পূর্ণ নকশাল মুক্ত ঘোষিত হয়েছে।

আইএসআইয়ে ছক ভেস্তে দিয়ে অমৃতসরে রকেট লঞ্চারসহ গ্রেপ্তার দুই জঙ্গি

Punjab Police foils ISI-backed terror plot in Amritsar, arresting two operatives and seizing an RPG-22 rocket launcher sent via drone from Pakistan.

অমৃতসর, ২১ অক্টোবর: পাঞ্জাবের সীমান্তবর্তী অমৃতসর জেলায় বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক ভেস্তে দিল পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে অমৃতসর গ্রামীণ পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থার যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে দুই যুবক—মেহকদীপ সিং ওরফে মেহক এবং আদিত্য ওরফে আদি। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ভয়ঙ্কর আরপিজি-২২ নেট্টো রকেট লঞ্চার, যা মূলত সাঁজোয়া যান বা শক্তিশালী টার্গেট ধ্বংস করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

কীভাবে ফাঁস হল ষড়যন্ত্র?

পাঞ্জাব পুলিশের ডিজিপি গৌরব যাদব জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে এই দুই অভিযুক্ত পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর এক অপারেটিভের সঙ্গে যোগাযোগে ছিল। ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্ত পার করে পাঠানো হয়েছিল এই প্রাণঘাতী অস্ত্র। এ ছাড়া অমৃতসরের ফেরোজপুর জেলে বন্দি থাকা হারপ্রীত সিং ওরফে ভিকির সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ ছিল। ভিকির নির্দেশেই এই অস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছিল মেহক ও আদিত্য।

নাটকীয় গ্রেপ্তার

অমৃতসর রুরাল জেলার এসএসপি মনিন্দর সিং জানান, সুনির্দিষ্ট ইনপুটের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক টিম নজরদারি চালায়। যখন দুই অভিযুক্ত মোটরবাইকে করে রকেট লঞ্চার সরবরাহ করতে যাচ্ছিল, তখনই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

উদ্দেশ্য ছিল ‘টার্গেটেড টেরর অ্যাটাক’

ডিজিপি স্পষ্ট জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র কোনও নির্দিষ্ট স্থানে বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার জন্য ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। এখন তদন্ত চলছে—এই হামলার সম্ভাব্য টার্গেট কে ছিল, কারা অস্ত্র নেওয়ার কথা ছিল এবং পুরো নেটওয়ার্কের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে।

গ্রেপ্তার অভিযুক্তদের পরিচয়

???? মেহকদীপ সিং (মেহক): অমৃতসরের ওয়াদালি গ্রামের বাসিন্দা।
???? আদিত্য (আদি): ভগা চিনা গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ তাদের ব্যবহৃত মোটরবাইকও বাজেয়াপ্ত করেছে।

আইনি পদক্ষেপ

ঘটনার পর গরিন্দা থানায় Explosives Substances Act এবং Bharatiya Nyaya Sanhita (BNS)-এর 113 ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পাশাপাশি জেলে বন্দি হারপ্রীত ওরফে ভিকিকে শিগগিরই প্রোডাকশন ওয়ারেন্টে হাজির করানো হবে জেরা করার জন্য।

সীমান্ত এলাকায় জঙ্গি হামলার জন্য পাকিস্তানি আইএসআই বারবার ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র পাচারের চেষ্টা করছে। কিন্তু অমৃতসরে পুলিশের তৎপরতায় বড়সড় বিপদ এড়ানো গেল। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাই প্রমাণ করছে—ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র পাচারের কৌশল এখন সীমান্ত সন্ত্রাসবাদের নতুন রূপ, যার মোকাবিলা করতে আরও উন্নত প্রযুক্তি ও কড়া নজরদারি দরকার।

সীমান্তে সেনার দীপাবলি: আলোয় ভরা উৎসবের মাঝেও দায়িত্বের অঙ্গীকার

Indian Army soldiers celebrated Diwali at the LoC with diyas and sweets, symbolizing their sacrifice and commitment to the nation while guarding the borders.

সীমান্তে প্রহরায় থাকা সেনারা (Indian Army) দীপাবলির আনন্দ থেকে বঞ্চিত হন না।  লাইন অফ কন্ট্রোল (LoC)-এর দুর্গম পোস্টে দেশের নিরাপত্তায় ব্যস্ত থেকেও তাঁরা নিজেদের মতো করে পালন করেন আলো-উৎসব। ছোট ছোট মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে, দেশাত্মবোধক গান গেয়ে আর সহকর্মীদের সঙ্গে সামান্য মিষ্টি ভাগ করে নিয়ে তাঁরা তৈরি করেন এক অনন্য আবহ। এই দীপাবলি শুধু উৎসব নয়, বরং প্রতিটি জওয়ানের অটল অঙ্গীকার—যে কোনও পরিস্থিতিতে দেশের সুরক্ষা।

সীমান্তের প্রদীপে নতুন বার্তা

দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের কনকনে ঠান্ডার মাঝেও প্রদীপের ছোট ছোট আলোয় ভরে ওঠে বাঙ্কার। প্রতিটি প্রদীপ যেন প্রতীক—আলো দিয়ে অন্ধকারকে সরিয়ে দেওয়া। একজন জওয়ান আবেগভরা কণ্ঠে জানান, “আমরা পরিবারের থেকে দূরে থাকলেও দেশের কোটি মানুষের হাসিই আমাদের আনন্দ। এই প্রদীপ জ্বালানো মানে উৎসব নয়, এটা দেশের প্রতি প্রতিশ্রুতি।”

দেশবাসীর ভালোবাসা সেনাদের প্রেরণা

দেশের নানা প্রান্ত থেকে শুভেচ্ছা বার্তা, চিঠি ও মিষ্টি পৌঁছেছে সেনাদের হাতে। এই ছোট্ট উদ্যোগই তাঁদের মনে জোগায় নতুন শক্তি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, অফিসাররাও সীমান্তে উপস্থিত থেকে জওয়ানদের সঙ্গে উৎসব পালন করেন। এতে মনোবল আরও বাড়ে।

সীমান্তেও দীপাবলির আলো

সীমান্তে দীপাবলির এই দৃশ্য এক বিশেষ বার্তা দেয়—আমাদের নিরাপত্তার জন্য যাঁরা সর্বদা প্রহরায়, তাঁদের আত্মত্যাগই আমাদের আসল আলো। আমাদের ঘরে-ঘরে যে দীপাবলির প্রদীপ জ্বলে, তার পেছনে রয়েছে তাঁদের অক্লান্ত ত্যাগ।

টিকিট মূল্য ২.৭ কোটি! বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মদন

RJD leader Madan Shah breaks down outside Rabri Niwas, alleging Sanjay Yadav demanded ₹2.7 crore for party ticket. After refusal, the ticket was given to someone else.

পাটনা, ১৯ অক্টোবর: বিহার রাজনীতিতে ফের টিকিট বণ্টনকে ঘিরে বড়সড় বিতর্ক। আরজেডি (RJD) নেতা মদন শাহ রবিবার রাবড়ি নিবাসের বাইরে সংবাদমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, তাঁকে দলের টিকিটের জন্য ₹২.৭ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল (RJD ticket controversy)।

মদন শাহ অভিযোগ করেন, “সঞ্জয় যাদব আমাকে বলেছিলেন টিকিট পেতে হলে ২.৭ কোটি টাকা দিতে হবে। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করি। তারপরই টিকিট অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া হয়।”

এই মন্তব্যে মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাবড়ি দেবীর বাসভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে মদন শাহ সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, তাঁর দীর্ঘদিনের কাজ ও ত্যাগ সত্ত্বেও কেবল টাকার অভাবে তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি।

রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন

বিহারে সবসময়ই নির্বাচন ঘিরে টিকিট বণ্টন বড় ইস্যু। তবে এভাবে প্রকাশ্যে অর্থ দাবি করার অভিযোগে জড়িয়ে পড়ায় আরজেডি রীতিমতো চাপে পড়েছে।

বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে সুর চড়াচ্ছে। তাঁদের দাবি, আরজেডির এই অভিযোগ প্রমাণ করছে দলটি অভ্যন্তরীণ ভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত। বিজেপি ও জেডিইউ নেতারা বলছেন, “এই ঘটনাই দেখাচ্ছে লালু প্রসাদের দল এখন পুরোপুরি টাকার খেলায় পরিণত হয়েছে।”

আরজেডির তরফে নীরবতা

এখনও পর্যন্ত আরজেডির শীর্ষ নেতৃত্ব এই অভিযোগে কোনও মন্তব্য করেনি। সঞ্জয় যাদবের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি। তবে দলের ভেতরে এই ইস্যুতে চাপা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মদন শাহের এই কান্নাভেজা অভিযোগ শুধুই এক ব্যক্তির ক্ষোভ নাকি দলের ভেতরে আরও বড় অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ—এখন সেটাই দেখার। তবে নির্বাচনের মুখে এই অভিযোগ আরজেডির জন্য নিঃসন্দেহে বড় অস্বস্তির কারণ।

জম্মু-কাশ্মীরে সীমান্ত টহলে সেনার নতুন সঙ্গী রোবটিক মিউল

Indian Army deploys robotic mule in Akhnoor, J&K for patrolling, logistics and surveillance. After its success in Operation Sindoor, the robotic mule is now a trusted partner enhancing border security and reducing soldiers’ burden.

শ্রীনগর, ১৯ অক্টোবর: সীমান্তে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় সেনার হাতে যুক্ত হয়েছে এক নতুন প্রযুক্তি—রোবটিক মিউল। জম্মুর অখনুর সেক্টরে প্রথমবারের মতো এই আধুনিক যন্ত্রকে ব্যবহার করে টহল, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং নজরদারি চালানো হচ্ছে। সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, “অপারেশন সিন্দুর”-এ এই রোবটের সাফল্যের পর এটিকে এখন নিয়মিত টহল ব্যবস্থার অংশ করা হয়েছে।

সেনার পাশে প্রযুক্তির হাত

রোবটিক মিউল দেখতে অনেকটা যান্ত্রিক খচ্চরের মতো। এটি চারপাশে ভারী মালপত্র বহন করতে পারে, দুর্গম পাহাড়ি পথে সেনাদের জন্য সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে পারে, আবার বিশেষ সেন্সরের মাধ্যমে সন্দেহজনক নড়াচড়ারও খোঁজ রাখতে পারে। সেনাদের ভাষায়, “এটি আমাদের জন্য শুধু একটি যন্ত্র নয়, বরং এক নির্ভরযোগ্য সহযোদ্ধা।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোবটিক মিউল মূলত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির এক আধুনিক রূপ। আগে যেখানে সেনাদেরকে নিজেদের কাঁধে ভারী সরঞ্জাম টেনে নিতে হত, এখন এই রোবটিক ডিভাইস সেই দায়িত্ব অনেকটা ভাগ করে নিচ্ছে। ফলে সৈন্যরা শারীরিকভাবে কম ক্লান্ত হচ্ছেন এবং টহল ও নজরদারিতে আরও মনোযোগী হতে পারছেন।

নজরদারিতে নতুন মাত্রা

অখনুরে সীমান্ত বরাবর সেনারা সবসময়ই সতর্ক থাকেন, কারণ এই অঞ্চল অনুপ্রবেশের জন্য সংবেদনশীল। সেনারা জানিয়েছেন, রোবটিক মিউল বিশেষভাবে সহায়ক রাত্রিকালীন নজরদারিতে। এর উন্নত ক্যামেরা ও সেন্সর সীমান্তে ছোটখাটো নড়াচড়াও চিহ্নিত করতে পারে।

সেনার এক অফিসার বলেন, “অপারেশন সিন্দুর”-এর সময় আমরা দেখেছিলাম কীভাবে রোবটিক মিউল মালপত্র বহন থেকে শুরু করে নজরদারিতে আমাদের সাহায্য করেছে। এখন এটি সীমান্তের প্রতিদিনের দায়িত্বে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে আমাদের টহল অনেক বেশি কার্যকর ও ফলপ্রসূ হচ্ছে।”

স্থানীয়দের আস্থা

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও বলছেন, সেনার এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে তাঁদের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত হচ্ছে। গ্রামবাসীর কথায়, “আমরা প্রতিদিন দেখি সেনারা কতটা পরিশ্রম করেন আমাদের রক্ষা করতে। এখন প্রযুক্তির এই ব্যবহার তাঁদের কাজকে সহজ করবে, আর আমাদেরও মনে আরও ভরসা দেবে।”

প্রতিরক্ষায় নতুন দিগন্ত

ভারতীয় সেনা সবসময়ই প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করে এসেছে। ড্রোন, সেন্সর-ভিত্তিক ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইসের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের পর এবার রোবটিক মিউল সেই ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে বা সীমান্তে এই ধরনের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রই বড় ভূমিকা নেবে।

জম্মু-কাশ্মীরের অখনুর সীমান্তে রোবটিক মিউলের উপস্থিতি প্রমাণ করছে, ভারতীয় সেনা শুধু মানবসম্পদে নয়, প্রযুক্তির দিক থেকেও ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। এটি কেবল সেনাদের কাজের গতি বাড়াচ্ছে না, বরং দেশের মানুষকেও দিচ্ছে এক নতুন আস্থা—সীমান্তের সুরক্ষা এখন আরও মজবুত হাতে।

শহরে এসে গিয়েছেন ইবুসুকি, খেলবেন নামধারী ম্যাচ?

hiroshi-ibusuki-arrives-kolkata-east-bengal-fc-namdhari-fc-ifa-shield-2025-debut

অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে শহরে এসে গিয়েছেন হিরোশি ইবুসুকি (Hiroshi Ibusuki)। বিগত কয়েকদিন ধরে যার অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসেছিল আপামর ইস্টবেঙ্গল জনতা। শেষ পর্যন্ত তিনি এসে গেলেন কলকাতায়।‌ স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে নিয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে খুশির জোয়ার দেখা গিয়েছিল সমর্থকদের মধ্যে। এবার এই ভারতীয় ফুটবল ক্লাবের জার্সিতে নিজেকে আদৌ কতটা মেলে ধরতে পারেন এখন সেদিকেই নজর থাকবে সকলের। একটা সময় জাপানের ক্লাব থেকে পেশাদার ফুটবলে আত্মপ্রকাশ ঘটলেও পরবর্তীতে বেলজিয়াম, স্পেন ও অস্ট্রেলিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফুটবল ক্লাবে খেলেছেন বছর চৌত্রিশের এই তারকা।

Also Read | এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডারকে দলে টানল কেরালা ব্লাস্টার্স

বলা যায় এবার ব্যাপক অভিজ্ঞতার ভান্ডার নিয়েই শহরে এসেছেন এই জাপানি ফুটবলার (Hiroshi Ibusuki)। কিন্তু লাল-হলুদ জার্সিতে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে পারেন কিনা সেটাই দেখার। উল্লেখ্য, গত ডুরান্ড কাপের পর এবারের এই ঐতিহ্যবাহী আইএফএ শিল্ডে ও যথেষ্ট ভালো শুরু করেছে মশাল ব্রিগেড। টুর্নামেন্টের প্রথম দিনেই আইলিগের শক্তিশালী ফুটবল ক্লাব তথা শ্রীনিধি ডেকান এফসিকে বিরাট বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে অস্কার ব্রুজোর ছেলেরা। গোল করেছিলেন দলের প্রায় চারজন ফুটবলার। যা নিঃসন্দেহে বাড়তি আত্মবিশ্বাস যুক্ত করবে ফুটবলারদের মধ্যে।

Also Read |রহিম আলির গোল, সিঙ্গাপুরের কাছে হার বাঁচাল ভারত 

দিনকয়েকের মধ্যেই এই শিল্ডের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামবে ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাব। যেখানে তাঁদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে আইলিগের আরেক শক্তিশালী ফুটবল ক্লাব তথা নামধারী এফসি। গত ম্যাচের মতো এই ম্যাচে ও জয় পাওয়ার লক্ষ্যে নামবেন মিগুয়েল ফিগুয়েরা থেকে শুরু করে সৌভিক চক্রবর্তীর মতো ফুটবলাররা। এবার এই ম্যাচে আদৌও ইবুসুকিকে (Hiroshi Ibusuki) নামানো হয় কিনা‌ এখন সেদিকেই নজর থাকবে আপামর লাল-হলুদ জনতার।

ফের উত্তপ্ত মহেশতলার রবীন্দ্রনগর

মহেশতলা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলা পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের রবীন্দ্রনগর এলাকায় বুধবার বিকেলের দিকে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে (Mentally unstable man) মারধরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় আলমপুর মাদ্রাসা পাড়া ও কুদ্দুস পাড়ার মধ্যে শুরু হয় তীব্র বচসা, যা পরবর্তীতে রণক্ষেত্রের রূপ নেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এক ব্যক্তি যিনি মানসিক ভারসাম্যহীন, তিনি হঠাৎ করেই এলাকার এক মহিলার হাত ধরেন। এই দৃশ্য দেখে কিছু স্থানীয় যুবক তাঁকে ধরে মারধর শুরু করে। তখনই পাশের পাড়ার কিছু মানুষ এসে ওই ব্যক্তিকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুই পাড়ার মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় ইট-পাথর ছোঁড়াছুঁড়ি।

দুই পাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ধরে ইটবৃষ্টি চলতে থাকে। রাস্তায় ভাঙা কাঁচ ও ইটের টুকরো ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়। ঘটনায় অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে, তাঁদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রবীন্দ্রনগর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ না করলেও উভয় পক্ষকে সতর্ক করে শান্ত থাকার নির্দেশ দেয়। ধীরে ধীরে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও এলাকায় টানটান উত্তেজনা বজায় রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর কয়েকজনকে গ্রেফতার করে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ইট, লাঠি ও ভাঙা বোতল উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে গোটা এলাকায় টহল জারি রয়েছে এবং পুলিশ পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

একজন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক বলেন, “ঘটনাটি মূলত এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থেকে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা দোষীদের চিহ্নিত করছি। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড়া হবে না।”

এদিকে স্থানীয়রা জানান, ইটবৃষ্টির সময় মহিলারা ও শিশুরা বিশেষভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেক পরিবার আশ্রয় নেন আত্মীয়দের বাড়িতে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়েছে এবং মহেশতলা পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে যান।

স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলেন, “মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষদের নিয়ে সমাজে এখনো যে অজ্ঞতা আছে, সেটাই এই ঘটনার মূল কারণ। প্রশাসনের উচিত সচেতনতা বাড়ানো ও এমন ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।”

বর্তমানে রবীন্দ্রনগর ও আশপাশের এলাকা জুড়ে পরিস্থিতি শান্ত হলেও এখনও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিচ্ছে।

মহিলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা? ‘AI ছবি দিয়ে কী হবে? কারোর বোন থাকলে..’ বিস্ফোরক শওকত

Shoukat Molla AI Photo

ভাঙড়: ভাঙড়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা৷ এক মহিলার সঙ্গে শওকত মোল্লার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই সমালোচনার ঝড়। অভিযোগ, AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই ছবিটি তৈরি করা হয়েছে৷ এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তৃণমূল বিধায়ক৷ 

সোশ্যল মিডিয়ায় সেই বিতর্কিত ছবিটি ভাইরাল হতেই মুখ খোলেন শওকাত মোল্লা৷ তিনি বলেন, “যারা এটা করছে, তাদের বাড়িতে বোন থাকলে আমার সঙ্গে দিলে খুব খুশি হতাম। এ সব AI ছবি দিয়ে কি হবে?” এই মন্তব্য মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

AI প্রযুক্তির অপব্যবহার

বিশ্লেষকেরা বলছেন, AI প্রযুক্তির অপব্যবহার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সামাজিক মূল্যবোধের জন্য গুরুতর হুমকি। এমন ছবির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ইমেজকে ভুয়োভাবে উপস্থাপন করা সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তাপের কারণ হতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসনও ইতিমধ্যেই বিষয়টি নজরে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ইতিমধ্যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহারকারীরা সমালোচনা থেকে শুরু করে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতার ডাক পর্যন্ত নানা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।

ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন Shoukat Molla AI Photo

ভাঙড়ে এই ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির অপব্যবহার শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তাপও তৈরি করতে পারে। তাই প্রশাসন, রাজনীতিক এবং সাধারণ নাগরিকদের সতর্ক থাকা এখন সময়ের দাবি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় ভাঙড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতা ও ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার একটি ভিডিয়ো। ওই ভিডিওতে শওকতকে এক মহিলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে উত্তর কাশীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভাঙড়ের যুব তৃণমূল নেতা সাবিরুল ইসলাম। অভিযোগের সময় থানায় হাজির ছিলেন খোদ শওকত মোল্লাও৷ 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে শওকতের একটি ছবিও, যেখানে তাঁকে কালো শাড়ি পরিহিত অবস্থায় দেখা গিয়েছে। ছবিটি শেয়ার হওয়ার পর থেকে শওকত সম্পর্কে নানা কুরুচিকর মন্তব্য এবং সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

 

বন্যা-ধসে বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গের গ্রামে আরএসএসের ত্রাণ বিলি

RSS volunteers reach flood and landslide-hit villages of North Bengal with food, milk, tarpaulins, and rescue aid. Relief efforts continue in Nagrakata, Banarhat, Mirik, and Bijanbari.

নিজস্ব সংবাদদাতা | কলকাতা, ৮ অক্টোবর ২০২৫: উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বন্যা ও ধসে যখন হাজার হাজার মানুষ বিপর্যস্ত, তখন রাজনৈতিক লাভ–ক্ষতির হিসাব না কষেই ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। গ্রামে গ্রামে পৌঁছে যাচ্ছে খাবার, পানীয় জল, ত্রিপল, এমনকি শিশুদের জন্য দুধ পর্যন্ত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাগরাকাটা, বানরহাট, মিরিক ও বিজনবাড়ি—এই চারটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে সংঘের স্বয়ংসেবকরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য, দুর্গত পরিবারগুলিকে অন্তত প্রাথমিক সুরক্ষা ও খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা।

রাজনীতির বাইরে মানবসেবা

বিশেষজ্ঞদের মতে, আরএসএস ভোট রাজনীতিতে সরাসরি অংশ নেয় না। তাই তাদের এই তৎপরতা নিছক মানবিক উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সংঘের এক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, “মানুষের বিপদ মানেই আমাদের দায়িত্ব। এখানে রাজনীতি নেই, আছে শুধু সেবার মানসিকতা।”

কীভাবে চলছে ত্রাণ কার্যক্রম?

  • প্রতিদিন দুর্গত গ্রামগুলোতে রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
  • শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য আলাদা করে শুকনো খাবার, দুধ ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
  • যারা গৃহহীন হয়েছেন, তাঁদের হাতে ত্রিপল তুলে দেওয়া হচ্ছে।
  • কিছু এলাকায় কাদায় আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার কাজেও সাহায্য করছেন সংঘ কর্মীরা।

দুর্গত এলাকার চিত্র

নাগরাকাটায় অন্তত ২০০ পরিবার গৃহহীন হয়েছেন। বানরহাটে ধসে ভেঙে পড়েছে একাধিক কাঁচা বাড়ি। বিজনবাড়ি ও মিরিকে বহু রাস্তা ধসে অবরুদ্ধ। সরকারি ত্রাণ পৌঁছাতে দেরি হলেও আরএসএস-এর ছোট ছোট দল স্থানীয়দের সহায়তায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

এক দুর্গত পরিবার জানান, “সরকারি ত্রাণ এখনও আসেনি। কিন্তু আরএসএস-এর ছেলেরা প্রথম দিন থেকেই আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।”

বিশেষজ্ঞদের মত

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, আরএসএস দীর্ঘদিন ধরেই দুর্যোগে মানবিক সাহায্যের জন্য পরিচিত। ভূমিকম্প থেকে বন্যা—প্রতিবারই সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা সবার আগে মাঠে নেমে পড়েছেন। উত্তরবঙ্গেও তার অন্যথা হয়নি।

বন্যা ও ধসে বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি এখনো সংকটজনক। প্রশাসন উদ্ধারকাজে নিয়োজিত হলেও, আরএসএস-এর এই নিঃস্বার্থ মানবসেবা দুর্গত মানুষদের মনে নতুন করে আশা জাগিয়েছে।

উত্তরবঙ্গের বিপর্যস্ত মানুষের পাশে ইস্টবেঙ্গল, ঘোষণা করলেন দেবব্রত সরকার

East Bengal Official Debabrata Sarkar Optimistic About Resolving ISL

কলকাতা, ৭ অক্টোবর: উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। সোমবার ময়দানে তাঁবু বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ক্লাবের সিনিয়র কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার, কিংবদন্তি ফুটবলার ভাস্কর গাঙ্গুলিবিকাশ পাঁজি-র উপস্থিতিতে এক বৈঠকে এই উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ক্লাব শুধু প্রতীকী সমর্থন নয়, বরং সক্রিয়ভাবে ত্রাণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে। এজন্য ক্লাবের সদস্য ও সমর্থকদের সংগঠিত করা হবে এবং সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো হবে।

দেবব্রত সরকার বলেন,

“ইস্টবেঙ্গল ক্লাব শুধুমাত্র ফুটবল নয়, সবসময়ই মানুষের পাশে থেকেছে। উত্তরবঙ্গের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমাদের কর্তব্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো। আমাদের ক্লাবের সমর্থক ও সদস্যরা এই কাজের জন্য এগিয়ে আসবেন।”

????️ ক্লাবের সামাজিক দায়িত্ব

ইস্টবেঙ্গল দীর্ঘদিন ধরেই মাঠের বাইরে নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। করোনা, আমফান কিংবা বন্যা—প্রতিবারই ক্লাব উদ্যোগ নিয়েছে সাহায্য পাঠানোর। উত্তরবঙ্গের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়েও তার ব্যতিক্রম হলো না।

???? ফুটবল কিংবদন্তিদের বার্তা

বৈঠকে উপস্থিত ভাস্কর গাঙ্গুলি বলেন,

“খেলা ছাড়াও ক্লাবের অন্যতম দায়িত্ব হলো সমাজের পাশে দাঁড়ানো। উত্তরবঙ্গের মানুষ এখন যে দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন, সেখানে আমাদের সমর্থন তাঁদের সাহস যোগাবে।”

বিকাশ পাঁজিও সমর্থকদের সক্রিয়ভাবে ত্রাণ কার্যক্রমে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

???? সামনে আসছেন সমর্থকরা

ক্লাব ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা শুরু করেছে কীভাবে দ্রুততম সময়ে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া যায়। আশা করা হচ্ছে, হাজার হাজার ইস্টবেঙ্গল সমর্থক এই উদ্যোগে অংশ নেবেন এবং উত্তরবঙ্গের দুর্গতদের পাশে দাঁড়াবেন।

দেবব্রত সরকারের কথায়,

“আমাদের এই প্রতিশ্রুতি শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বাস্তব কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করবে ইস্টবেঙ্গল।”

খগেন মুর্মু-শঙ্কর ঘোষের ওপর হামলা! বাগডোগরা পৌঁছে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুভেন্দু-কিরণের

Suvendu Adhikari and Kiren Rijiju in Bagdogra

শিলিগুড়ি: বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক ড. শঙ্কর ঘোষের উপর হামলার ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি৷ মঙ্গলবার দুপুরে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর সঙ্গে মিরিকের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে কথা বলেন সাংবাদিরকদের সঙ্গে। খগেন মুর্মু ও শঙ্কর ঘোষের উপর হামলাকারীরা কেউ এখনও গ্রেফতার হয়নি—এই অভিযোগে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান বিরোধী দলনেতা৷ 

অভিযুক্ত কাউকে আটক করা হয়নি

শুভেন্দু সাংবাদিকদের বলেন, খাগড়াবাড়ি ও নাগরাকাটা এলাকায় সংঘটিত হামলার পরেও অভিযুক্ত কাউকে আটক করা হয়নি, যা উদ্বেগজনক। তিনি জানান, বন্যা-বিপর্যস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং মাটিগাড়ার বেসরকারি হাসপাতালে জখম সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সেই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, “গ্রেফতার না হলে যা করার প্রয়োজন, আমরা করব৷’’ আপাতত পুলিশি পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানান শুভেন্দু।

এদিন মিরিক যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, তা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন শুভেন্দু৷ তিনি বলেন, আি খবর পেয়েছি রাস্তা ওয়ানওয়ে করে দেওয়া হয়েছে৷ আমরা পৌঁছতে পারব কিনা জানি না৷ তবে যাওয়ার চেষ্টা করব৷’

মিরিক যাচ্ছেন রিজিজু Suvendu Adhikari and Kiren Rijiju in Bagdogra

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সাংবাদিকদের বলেন, তিনি বন্যা দুর্গতদের সঙ্গে দেখা করতে মিরিক এসেছেন। স্থানীয় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, সাংসদ ও বিধায়কের উপর যে হামলা ঘটেছে, তার রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে চাওয়া হয়েছে। “নিয়ম মেনে তদন্ত করা হবে। শুধু সাংসদ-বিধায়কের নয়, সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব৷’’

রিজিজু আরও বলেন, এই  ঘটনায় গণতন্ত্রের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়েছে। তাই দ্রুত এবং সচ্ছভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, দুর্যোগস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি সব ক্ষয়ক্ষতি ও ঘটনার রিপোর্ট উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হবে। 

উদয়ন গুহকে চা 

সুর চড়িয়ে শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘আমি খবর পেয়েছি তৃণমূল নেতা উদয়ন গুহকে ‘চা’ খাওয়ানো হয়েছে। কারণ কোচবিহারের খাগড়াবাড়ি ও নাগরাকাটাতেই বিজেপি নেতাদের উপর হামলা হয়েছে৷ এখানে এক সাংসদ তথা ট্রাইবাল নেতার উপর প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে৷ অন্যদিকে, শঙ্কর ঘোষ একজন বিধায়কের পাশাপাশি শিক্ষক৷ তাঁকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়েছে। অথচ উনি কোনও নিন্দা করেননি৷ গ্রেফতারের নির্দেশ দেননি৷ শুধু বলেছেন, এমন ঘটনা যাতে আর না হয়৷’’

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে কাউকেই গ্রেফতার করা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন, রাজ্য ও কেন্দ্র তিন স্তরে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই শুরু করেছে। গ্রেফতার না হওয়ায় রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং পুলিশি রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

‘জনগণের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ’ মমতার ইস্তফা দাবি শুভেন্দুর

Suvendu Targets Mamata Over BJP Worker Assault: ‘Resign If You Have Any Shame’

কলকাতা, ৭ অক্টোবর: রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের উত্তেজনার আঁচ ছড়িয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর তীব্র সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিজেপি নেতাদের উপর ঘটে যাওয়া সহিংসতা ও হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতার ‘হুলিগানিজম’ বা ‘গুন্ডাবাজি’ ঢেকে রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন শুভেন্দু।

অধিকারী সোশ‌্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ‌্য করে বলেন, “আপনি কিছুই নন, শুধু একটি ‘ডিক্টেটর ইন ডিনায়াল’। যদি আপনার অন্তত কিছু লজ্জা থেকে থাকে, তাহলে পদত্যাগ করুন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আপনি আপনার দলীয় কর্মীদের ‘গুন্ডাবাজি’ ঢেকে রাখার চেষ্টা করেন তেমনই করে যান।”

শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক বাতাবরণে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাজ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়ে চলেছে এবং তার জন্য সরাসরি দায়ী সরকার। আর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তবে শুভেন্দুর তীব্র মন্তব্যই এবারের ইস্যুতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বকে লক্ষ্য করেছে।

রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা নজরে এসেছে। বিশেষ করে নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এই ধরনের ঘটনা আরও জোরালো হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বিজেপি নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্যের শাসক দল নিজস্ব দলীয় কর্মীদের দ্বারা সংঘটিত হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দেয় না এবং এই ধরনের আচরণকে ‘স্বাভাবিক’ বা ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অস্বীকার করার চেষ্টা করে। তিনি আরও বলেন, “এটি শুধু সরকার নয়, মুখ্যমন্ত্রীরই সচেতন অবহেলা এবং অনুমোদনের ফল।”

তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনিক যন্ত্রণা রাজনৈতিক দাপটের ছায়ায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

‘বিজেপির উপর মানুষের আক্রোশ প্রকাশ্যে!’ বিস্ফোরক দেবাংশু

Bengal Politics debangshu

কলকাতা ৬ অক্টোবর: উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নাগরাকাটা গিয়েছিলেন শিলিগুড়ির বিজেপি (Bengal Politics) সাংসদ শংকর ঘোষ এবং বিজেপি বিধায়ক খগেন মুর্মু। ঘটনাস্থলে পৌঁছলে স্থানীয় বাসিন্দারা জুতো দিয়ে পেটাতে শুরু করেন শঙ্করকে। গাড়ির কাছ ভেঙে দেওয়া হয়। সেই কাঁচে মারাত্মক আহত হন খগেন। তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনায় এবার মুখ খুললেন তৃণমূল নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন। “বিজেপির উপর মানুষের আক্রোশ এখন প্রকাশ্যে এসেছে।”দেবাংশু ভট্টাচার্য এক্স প্ল্যাটফর্মে তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমরা কোনওভাবেই হিংসাকে সমর্থন বা প্রশ্রয় দিই না। কিন্তু উত্তরবঙ্গের মানুষের গভীর হতাশা বোঝা দরকার।

টানা বর্ষণের পর সাময়িক স্বস্তি: উত্তরে উন্নতি, দক্ষিণেও বদলের আশ্বাস

তারা বারবার বিজেপিকে ভোট দিয়েছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির কাছ থেকে শুধু বিশ্বাসঘাতকতা পেয়েছে। আজকের অশান্তি সাধারণ নাগরিকদের ক্ষোভের সরাসরি প্রকাশ। এই সংকটের মধ্যেও বিজেপি নেতারা ত্রাণ দেওয়ার পরিবর্তে ফটো তুলতে ব্যস্ত ছিল। তাদের কর্মকাণ্ড, বা বরং কর্মকাণ্ডের অভাব, তাদের প্রতি মানুষের আস্থা ভাঙার প্রমাণ।”

তাঁর এই মন্তব্য বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের অবস্থানকে আরও জোরালো করেছে। উত্তরবঙ্গে গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে তিস্তা ও জলধাকা নদী উচ্ছাসিত হয়ে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস সৃষ্টি করেছে। কমপক্ষে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ বাস্তুহারা।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ১০০ কোটি টাকার ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের উপর অবহেলার অভিযোগ তুলে বলেন, “কেন্দ্র আমাদের সাহায্য করছে না। রাজ্য একাই লড়ছে।” এদিকে, বিজেপি নেতারা ত্রাণ বিতরণের নামে এলাকায় গেলে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন।

বিজেপি এই হামলাকে ‘টিএমসির গুন্ডাগিরি’ বলে অভিহিত করেছে।বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্যানিক মোডে চলে গেছেন। তাঁর দলের লোকেরা বিজেপি নেতাদের উপর হামলা করছে।” বিজেপি জাতীয় মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, “টিএমসি ক্ষমতায় আসার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। মমতার উদাসীনতা সীমা ছাড়িয়েছে।” তিনি খগেন মুর্মুর আদিবাসী পরিচয়ের উপর জোর দিয়ে বলেন, “এই হামলা আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি মমতার অবমাননার প্রমাণ।”

ডুরান্ড ফাইনালে ডায়মন্ড হারবার: ক্লাব কর্তা মানস ভট্টাচার্য কী বললেন? দেখুন ভিডিও

Diamond Harbour FC Club Official Manas Bhattacharya Say

ডুরান্ড কাপ ২০২৫-এর দ্বিতীয় (Durand Cup 2025) সেমিফাইনালে ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে ডায়মন্ড হারবার এফসি তাদের প্রথমবারের মতো এই ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ২০ আগস্ট, ২০২৫, বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইস্টবেঙ্গল এফসি-র বিরুদ্ধে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে কিবু ভিকুনার নেতৃত্বাধীন ডায়মন্ড হারবার। ম্যাচে দলের হয়ে গোল করেছেন মিকেল কোর্তাজার এবং জবি জাস্টিন, যখন ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন আনোয়ার আলি। এই জয়ের পর ডায়মন্ড হারবার এফসি-র অন্যতম কর্তা মানস ভট্টাচার্য তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ৷

পড়ুন ম্যাচ রিপোর্ট: জবির গোলে লাল-হলুদ বধ, ডুরান্ডের ফাইনালে ডায়মন্ড হারবার

ডুরান্ড ফাইনালে ডায়মন্ড হারবার! ক্রীড়ামন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস কী বললেন? দেখুন ভিডিও

Diamond Harbour FC Reaches Durand Cup 2025 Final: Sports Minister Arup Biswas’ Reaction Watch Video

ডুরান্ড কাপ ২০২৫-এর (Durand Cup 2025) দ্বিতীয় সেমিফাইনালে এক ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে ডায়মন্ড হারবার এফসি তাদের প্রথমবারের মতো এই ঐতিহ্যবাহী টুর্নামেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ২০ আগস্ট, ২০২৫, বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইস্টবেঙ্গল এফসি-র বিরুদ্ধে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে কিবু ভিকুনার নেতৃত্বাধীন ডায়মন্ড হারবার। ম্যাচে দলের হয়ে গোল করেছেন মিকেল কোর্তাজার এবং জবি জাস্টিন, যখন ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন আনোয়ার আলি। এই জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস ডায়মন্ড হারবার এফসি-র প্রশংসা করে তাদের এই অভূতপূর্ব সাফল্য নিয়ে মুখ খুলেছেন।

পড়ুন ম্যাচ রিপোর্ট: জবির গোলে লাল-হলুদ বধ, ডুরান্ডের ফাইনালে ডায়মন্ড হারবার

বিএসএফ ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ হোসে মোলিনা! দেখুন ভিডিও

Mohun Bagan’s Head Coach Jose Molina Lands in Kolkata, Boosts Hopes for ISL 2025 Success After Durand Cup Win

মোহনবাগান (Mohun Bagan) সুপার জায়ান্টের প্রধান কোচ হোসে মোলিনা (Jose Molina) সম্প্রতি বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে আসন্ন ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে তার মতামত প্রকাশ করেছেন। রবিবার এক সাংবাদিক সন্মেলনে তিনি যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন এবং কিশোরভারতী স্টেডিয়ামের মধ্যে ভেন্যু নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন। মোলিনা জানান, দলের প্রস্তুতি এবং কৌশল ভেন্যুর উপর নির্ভর করে না, তবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের বিশাল আয়োজন এবং সমর্থকদের উৎসাহ দলের পারফরম্যান্সে বাড়তি শক্তি যোগ করে। তিনি বলেন, “আমরা যেখানেই খেলি, আমাদের লক্ষ্য জয় নিশ্চিত করা। তবে যুবভারতীতে সমর্থকদের উপস্থিতি আমাদের জন্য বিশেষ প্রেরণা।”

কিশোরভারতী স্টেডিয়ামকে তিনি একটি ভালো বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করলেও, যুবভারতীর পরিবেশকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ২০২৫-২৬ আইএসএল মরসুমের জন্য মোহনবাগানের রক্ষণ ও আক্রমণকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনায় মোলিনা আত্মবিশ্বাসী। এই ম্যাচটি দলের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে। সমর্থকরা এই ভিডিও দেখে নতুন মরসুম নিয়ে উৎসাহিত।

Follow on Google