তমলুকে রাজনীতির পাঠ দিলেন শুভেন্দু

suvendu-adhikari-tamluk-speech-illegal-bangladeshi-infiltration

তমলুক: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে বঙ্গে। আর কয়েকদিনের অপেক্ষা তার পরেই জানা যাবে নির্বাচনের দিনক্ষণ (Suvendu Adhikari)। গতকাল ২৮ ফেব্রুয়ারী ঘোষণা হয়েছে চূড়ান্ত ভোটার লিস্ট। এই আবহেই আরও একবার তমলুকে রাজনীতির পাঠ পড়ালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তমলুকে এক সভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন। তিনি বললেন, “কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী থাকবে না।

এডযুডিকেশন হয়েছে তো? বিচার ব্যবস্থা দেখে বিচার করবেন, আগ বাড়িয়ে মন্তব্য করার দরকার নেই।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের অবস্থানকে আরও একবার স্পষ্ট করলেন।শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তিনি নিজে বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ) থেকে শুরু করে বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-র সঙ্গে বুথে বসে কাজ করেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে জানেন, ভোটার তালিকায় মৃত ভোটার, ডাবল-ট্রিপল এন্ট্রি, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা এসব থাকবে না।

আরও দেখুন: দুবাইয়ে পুত্র সহ আটকে শুভশ্রী! উদ্বেগে রাজ

তিনি জোর দিয়ে বলেন “সংখ্যাটা যাই হোক, এখানে রাগ ঢাক করার কোনো কথা নেই। ভারতীয় মুসলিমদের সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই,” । তাঁর কথায়, এটা শুধু অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে, যারা ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশ করে রাজনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে।এক সাংবাদিক যখন আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই প্রক্রিয়ায় অনেক নির্দোষ ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে, তখন শুভেন্দু তাৎক্ষণিক জবাব দেন। “আমি কতবার ভোটে লড়েছি জানেন?

সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলছি, যত ভোটার বাদ দেওয়ার কথা বলেছি, এখনও সেই এক কোটি ভোটার বাদ হওয়ার কথা থেকে অনড় আমি।” তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় প্রায় এক কোটি অবৈধ নাম রয়েছে মৃত ব্যক্তি, ডুপ্লিকেট এন্ট্রি, বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী। এগুলো বাদ না গেলে নির্বাচন স্বচ্ছ হবে না।তমলুকের এই সভায় শুভেন্দু আরও বলেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া চলছে, এবং এতে চার ধরনের নাম বাদ যাবে। মৃত ভোটার, ভুয়া এন্ট্রি, একাধিক জায়গায় নাম থাকা, এবং অ-ভারতীয় অর্থাৎ বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী।

তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার এবং প্রশাসন কিছু ক্ষেত্রে ব্লক লেভেল অফিসারদের চাপ দিয়ে অবৈধ নাম রাখার চেষ্টা করছে। তিনি সাফ বলেন “যারা ভারতীয় নন, যারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, তাদের নাম ভোটার তালিকায় রাখা যাবে না,”। শুভেন্দুর এই মন্তব্যেই ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে নির্বাচন কমিশন বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কখনোই রোহিঙ্গা বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেনি। তাই শুভেন্দুর এই রোহিঙ্গা অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যে। তবে চূড়ান্ত ভোটার লিস্ট বেরোলেও এখনও বিচারাধীন রয়েছে কিছু ভোটার। সবমিলিয়ে নির্বাচনের আগে বৈধ তালিকায় কজন থাকেন এবং কতজনকে বাদ পড়তে হয় তা বলবে আদালতের রায়।

ভোটে কড়া নজরদারি, নদীয়ায় ১২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ

nadia-central-forces-route-march-assembly-election-security

Kolkata24x7 Team: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election) সামনে রেখে দক্ষিণবঙ্গের নদীয়া জেলায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রানাঘাট ও কৃষ্ণনগরসহ জেলার ১৭টি বিধানসভা এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে ১২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।

রবিবার পয়লা মার্চ সকাল থেকেই রাজ্য পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন এলাকায় রুট মার্চ শুরু করেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। নির্বাচন কমিশন শিগগির ভোটের ঘোষণা করতে পারে, তার আগেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়াতেই এই উদ্যোগ বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

ডার্বির বড় হার ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা মহামেডান কোচ মেহেরাজের

mohammedan-sc-coach-meheraj-reaction-after-isl-derby-loss

Kolkata24x7 Team: কলকাতা ময়দানের আবেগ মানেই তিন প্রধানের লড়াই। শনিবার আইএসএল ম্যাচে খেলতে যুবভারতীতে মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব (Mohammedan SC)। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। একের পর এক গোল তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ৫-১ ব্যবধানে জিতে নেয় ম্যাচ। এই জয়ে আইএসএলে টানা তৃতীয় সাফল্য পেল মোহনবাগান। অন্যদিকে বড় ব্যবধানের হার সত্ত্বেও ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন মহামেডান কোচ মেহেরাজ। তাঁর মতে, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী ম্যাচেই প্রত্যাবর্তন করতে বদ্ধপরিকর দল। খেলা শেষে সাংবাদিক বৈঠকে এই কথা তিনি বলেন৷

ভোটের আগেই কড়া নিরাপত্তা, মালদহে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ শুরু

malda-central-forces-route-march-assembly-election-security

Kolkata24x7 Team: আসন্ন বিধানসভা ভোটকে (Assembly Election 2026) সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন৷ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে এবার কঠোর নিরাপত্তার বলয় তৈরি করছে কমিশন৷ সেই লক্ষ্যেই ভোটের দিন ঘোষণার অনেক আগেই রাজ্য প্রায় ৫০০ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী আনা হয়েছ৷

এলাকায় জোরদার করা হচ্ছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা৷ সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ ও টহল চলছে। শনিবার রাতে বাংলাদেশে সীমান্তবর্তী মালদহ জেলায় শুরু হল কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ ও টহল৷ এদিন রাতে মালদহ শহরে বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ করে৷ তারা ভোটের আগেই এলাকার অবস্থান এবং পরিস্থিতি বুঝে নিতে চাইছে৷

বিধানসভা ভোটের আগে বনগাঁয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ, জোরদার নিরাপত্তা

bongaon-police-district-central-forces-route-march-Assembly Election 2026-preparation

আসন্ন বিধানসভা ভোটকে (Assembly Election 2026) সামনে রেখে বনগাঁ পুলিশ জেলা এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ ও টহল চলছে। প্রশাসনের দাবি, ভোট প্রক্রিয়া যাতে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই এই বিশেষ প্রস্তুতি।

বেলডাঙ্গায় দাঙ্গা উস্কানির নেপথ্যে কে? মমতার মন্তব্যে বিতর্ক

beldanga-unrest-riot-provocation-mamata-banerjee

পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যু ঘিরে উত্তপ্ত বেলডাঙা (Beldanga)। ঝাড়খণ্ডে হকারের কাজ করা পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। দেহে ছিল আঘাতের চিহ্ন। সেই দেহ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় আসতেই শুরু হয় বিক্ষোভ। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে ট্রেন আটকে শুরু হয় বিক্ষোভ। বিজেপি অভিযোগ করেছে এই বিক্ষোভের মুখে প্রশাসন কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।

রাজ্যে আইন শৃঙ্খলার অবনতিতেই এই ধরণের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা সুর চড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছেন আজ জুম্মাবার মুসলিমরা নামাজ পড়তে আসে। মমতা নাম না করে বলেছেন কেউ কেউ সংখ্যালঘুদের উস্কে দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে চাইছে। মমতা স্পষ্টতই নাম না করে হুমায়ুন কবিরকে নিশানা করেছেন তা বলাই বাহুল্য।

রাজ্যে নিপা ভাইরাসের থাবা, স্বাস্থ্য দফতরের জরুরি নির্দেশিকা

তিনি আরও বলেন যে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন যেভাবে মুসলিমদের নাম বাদ দিয়েছে তাতে মুসলিমদের ক্ষোভ প্রাসঙ্গিক। তিনি আরও বলেছেন বিজেপি ভোটে জিততে পারে না। তাই এই ধরণের দাঙ্গায় উস্কানি দিয়ে সংখ্যালঘুদের খেপিয়ে তুলছে। কিন্তু বিজেপি এই যুক্তি মানতে নারাজ। বিজেপির দাবি মুসলিমরা বিজেপিকে ভোট দেয় না। তাই বিজেপির পক্ষে এই ধরণের ঘটনায় উস্কানি দেওয়া কখনোই সম্ভব নয়।

উল্টোদিকে মমতা বন্দোপাধ্যায় সরাসরি সুর চড়িয়ে বলেছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা বিজেপি শাসিত রাজ্যে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। মমতা সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে বলেছেন বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিদের এই হাল হচ্ছে তাহলে বিজেপি কি করে দাবি করে তারা বাংলায় বাঙালিদের ভোট পাবে। তবে এই ইস্যুতেই বিজেপি এবং রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলেছে তৃণমূল এবং মমতা বন্দোপাধ্যায় এখন আদালতে ফেঁসে রয়েছে।

ইডি এবং সিবিআইয়ের তদন্তের কারণে তৃণমূলের ভাগ্য এখন শীর্ষ আদালতে ঝুলছে তাই মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং তার দল ফের বাংলায় দাঙ্গা বাধিয়ে দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে চাইছেন এবং তৃণমূলের এই অফুরন্ত দুর্নীতি থেকে মানুষের নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছেন।

মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা এমনিতেই বাবরি মসজিদ ইস্যুতে উত্তপ্ত এবং বিধানসভা নির্বাচনের আগে হুমায়ুন কবিরের তৃণমূল বিরোধী মন্তব্য যথেষ্ট সন্দেহ জাগায়। এমনটাই মনে করেছে তৃণমূল শিবির এবং জুম্মাবারে জমায়েত হওয়া মুসলিমদের উস্কে দিয়ে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিথার্থ করছে হুমায়ুন এমনটাই দাবি তাদের।

লাল-হলুদের অনুশীলনে সাউলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় অস্কার

লাল-হলুদের অনুশীলনে সাউলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় অস্কার

ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে আইএসএলের দিন। সেই কথা মাথায় রেখেই জোর কদমে অনুশীলন করছে ময়দানের দুই প্রধান। পড়শী ক্লাব মোহনবাগানের পাশাপাশি এদিন যুবভারতীর প্রাকটিস গ্ৰাউন্ডে অনুশীলন করল ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাব (East Bengal FC)। পূর্বে ক্লোজড ডোর অনুশীলন চললেও আজ সমর্থক কিংবা সাংবাদিক সকলের জন্যই উন্মুক্ত ছিল দলের প্রাকটিস। যেখানে অধিকাংশ ফুটবলার কোচের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করলেও সাইড লাইনে বেশিরভাগ সময় কাটান স্প্যানিশ তারকা সাউল ক্রেসপো। বলাবাহুল্য, এদিন দলের অনুশীলন চলাকালীন তাঁর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় দলের হেড কোচ অস্কার ব্রুজোকে।

যেটা নিঃসন্দেহে চিন্তার। এছাড়াও সাইডলাইনে কিছুটা সময় অনুশীলন চালাতে দেখা যায় আনোয়ার আলি থেকে শুরু করে দেবজিত মজুমদার ও মহম্মদ রাওকিপদের। এদিন ফিজিক্যাল ট্রেনিংয়ের পর বল পায়ে জোর কদমে অনুশীলন চালান অধিকাংশ ফুটবলাররা। পাসিং থেকে শুরু করে ড্রিবলিং সহ গোলপোস্ট লক্ষ্য করে দূরপাল্লার শট ও নিতে দেখা যায় কেভিন সিভিলেদের। পরবর্তীতে দুইটি দলে ভাগ করে ও চলে প্রাকটিস। যেখানে বল গোলে ঠেলে দিতে দেখা যায় ডেভিড লালহানসাঙ্গা থেকে শুরু করে নন্দকুমারদের। যেটা নিঃসন্দেহে মন কেড়েছে সমর্থকদের।‌

আসলে এদিন ওপেন প্রাকটিস থাকায় ইস্টবেঙ্গলের অনুশীলন দেখতে হাজির হয়েছিলেন বহু সমর্থক। দলের অনুশীলন চলাকালীন পুরনো মেজাজেই চলে চ্যান্টিং। তারপর অনুশীলন শেষে কোচ অস্কার ব্রুজো সহ মিগুয়েল ফেরেইরার, পিভি বিষ্ণু ও আনোয়ার আলিদের কাছে সেলফির আবদার দেখা যায় সমর্থকদের। এমনকি মিগুয়েলের কাছে ব্রাজিলের পতাকায় সই করাতে ও এগিয়ে আসেন এক সমর্থক। তবে এসবের মাঝেই সাউল ক্রেসপোকে নিয়ে চিন্তা থাকছেই।

প্রশাসনিক কাজে বিঘ্ন, চাকুলিয়ায় SIR চলাকালীন ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত বিডিও অফিস

Chakulya BDO Office Suffers Damage Amid Vandalism During SIR Exercise

উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ায় এসআই (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া চলার মধ্যেই চাকুলিয়া ব্লক (SIR)  উন্নয়ন আধিকারিক বা বিডিও অফিসে ভাঙচুর চালানো হয়। শুধু তাই নয়, অফিসের সামনে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং প্রশাসনিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসআই প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ ও আপত্তি জানানোর(SIR)  জন্য বহু মানুষ বিডিও অফিসের সামনে জমায়েত হয়েছিলেন। সেই সময়েই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, একদল দুষ্কৃতী অফিস চত্বরে ঢুকে জানালার কাচ, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। অফিসের সামনে জিনিসপত্র জড়ো করে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যেই গোটা এলাকা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় চাকুলিয়া থানার পুলিশ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার পরই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। (SIR)  বিজেপির তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস পরিকল্পিতভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, এসআই প্রক্রিয়ার নামে সাধারণ মানুষকে ভুল তথ্য দিয়ে উত্তেজিত করা হচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, শুনানির নামে মানুষকে ডেকে এনে তাদের মধ্যে ভয় ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যার ফলেই এই ধরনের অশান্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব আরও অভিযোগ করেছেন, চাকুলিয়ায় তৃণমূল (SIR)  কংগ্রেস কার্যত “ডাকাতি” চালাচ্ছে। তাঁদের দাবি, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ঢাল করে সাধারণ মানুষের স্বার্থের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, এসআই সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র ও তালিকা নিয়ে অনিয়ম করা হচ্ছে এবং সেই বিষয়ে প্রশ্ন তুললেই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই সমস্ত অভিযোগের পিছনেই শাসকদলের মদত রয়েছে বলে দাবি বিজেপির। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। শাসকদলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসআই একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপিই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানুষকে উস্কে দিচ্ছে এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করছে। তাঁদের বক্তব্য, বিডিও অফিসে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই।

এই ঘটনার পর প্রশাসনের তরফে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি অফিসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনাকে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এদিকে ঘটনার জেরে বিডিও অফিসের কাজকর্ম কিছুক্ষণের জন্য ব্যাহত হয়। বহু সাধারণ মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হন। প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, দ্রুত স্বাভাবিক পরিষেবা চালু করা হবে এবং এসআই সংক্রান্ত কাজ নিরপেক্ষভাবেই সম্পন্ন করা হবে।

পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত কামব্যাক, নর্থ ২৪ পরগনায় আশাবাদী গৌতম ঘোষ

North 24 Parganas FC secure 1-1 draw vs Sundarban Bengal Auto FC in Bengal Super League. Gautam Ghosh praises team’s comeback and fighting spirit.

গত শনিবার বেঙ্গল সুপার লিগের (Bengal Super League ) পঞ্চম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল নর্থ চব্বিশ পরগনা এফসি। যেখানে তাঁদের প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল মেহেতাব হোসেনের সুন্দরবন বেঙ্গল অটো এফসি। হিসাব অনুযায়ী এটি হোম ম্যাচ থাকলেও লড়াইটা একেবারেই সহজ ছিল না তাঁদের কাছে। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের অমীমাংসিত ফলাফলে শেষ হয়েছিল সেই ম্যাচ। সুন্দরবনের হয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন আকিব নাওয়াব। পরবর্তীতে নর্থ চব্বিশ পরগনা দলের হয়ে গোল পান জোমোনসাঙ্গা।
প্রথমার্ধে একে অপরের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলে ও গোলের দেখা মেলেনি। আসলে দুই দলের ফুটবলারদের একের পর এক সহজ সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হয়েছিল তাঁদের। প্রথমার্ধ গোলশূন্য ফলাফলে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই চাপ বাড়াতে শুরু করে দিয়েছিল সুন্দরবন।

তারপর ৪৭ মিনিটের মাথায় চলে আসে বহু কাঙ্ক্ষিত গোল। অনবদ্য গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন আকিব নাওয়াব‌। পাল্টা আক্রমণে উঠে আসতে দেখা গিয়েছিল নর্থ চব্বিশ পরগনার ফুটবলারদের। কিন্তু গোলের মুখ খোলা সহজ ছিল না। তারপর প্রায় চতুর্থ কোয়ার্টারের দিকে নিভে গিয়েছিল মাঠের আলো। স্বাভাবিকভাবেই খেলা বন্ধ ছিল বেশকিছুক্ষণ। তারপর একসঙ্গে তিনজন ফুটবলার বদল করে নর্থ চব্বিশ পরগনা। তারপর শেষ লগ্নে এসেছিল সেই সমতাসূচক গোল। দলকে সমতায় ফিরিয়ে এনেছিলেন জোমোন সাঙ্গা। পিছিয়ে থেকেও পরবর্তীতে এক পয়েন্ট নিশ্চিত করতে পেরে খুশি দলের ফুটবলাররা।

গত হাওড়া-হুগলি ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে এমন শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে পেরে সন্তুষ্ট নর্থ চব্বিশ পরগনা দলের কোচ গৌতম ঘোষ। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ম্যাচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ আমাদের ছেলেরা অনেক চেষ্টা করেছে। জিততে পারলে ভালো হতো। সবকিছু চাইলেই সব সময় হয়ে ওঠে না। তাছাড়া প্রতিপক্ষ দল ও ভালো খেলেছে। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ও যথেষ্ট প্রভাবশালী ফুটবল খেলেছি। আমরা সব সময়েই জেতার চেষ্টা করি। তবে যথেষ্ট ভালো ম্যাচ হয়েছে। তবে শূন্যের চেয়ে কিছু থাকা ভালো। এক পয়েন্ট এসেছে। সেটা আমাদের জন্য ভালো।’

পাশাপাশি দলের কামব্যাকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ আমরা দেখতে পাচ্ছি সেকেন্ড হাফে আমাদের দল যথেষ্ট ভালো কামব্যাক করছে। কিছু সময় আমরা গোল করতে পারছি কিছু সময় তা পারছি না। এটা যথেষ্ট ভালো দিক।’

বাংলাদেশে হিন্দু হত্যার প্রতিবাদে লন্ডনে বিক্ষোভ, ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

Hindu diaspora protests at Bangladesh High Commission, London, demanding justice for Dipu Chandra Das and action against minority attacks in Bangladesh.

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলা ও দীপু চন্দ্র দাসের লিঞ্চিং–এর প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ভারতীয় ও বাংলাদেশি হিন্দুরা লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে (London protest ) বিক্ষোভে সামিল হন। বিক্ষোভকারীরা ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ঢাকা সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ ও ন্যায়বিচারের দাবি তোলেন।

বিক্ষোভের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় যখন খালিস্তানি সংগঠন ‘Sikh for Justice’ (SFJ)–এর সমর্থকরা ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে প্রতিবাদরত হিন্দুদের সঙ্গে তর্কের চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই গোষ্ঠী হিন্দু বিক্ষোভকারীদের হেনস্তা ও উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি কিছুক্ষণের জন্য উত্তপ্ত হলেও বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়।

এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। অনেকেই প্ল্যাকার্ড হাতে #JusticeForHindus স্লোগান তোলেন এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।


কেন এ ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ

  • বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া বাড়ছে

  • প্রবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কূটনৈতিক মহলেও নজর কেড়েছে

  • লন্ডনে খালিস্তানি ও হিন্দু গোষ্ঠীর মুখোমুখি অবস্থান নতুন নিরাপত্তা প্রশ্ন তুলছে

  • দক্ষিণ এশীয় কূটনৈতিক সম্পর্কেও সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে পারে

এই বিক্ষোভের ভিডিও ও ছবি ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। লন্ডন পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত মোতায়েন করা হয়েছে কিনা বা কোনো অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না—তা এখনও জানা যায়নি।

পুরনো পোস্ট মুছতে হবে! পার্নোর ফুলবদলে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের বড় অংশ

পুরনো পোস্ট মুছতে হবে! পার্নোর ফুলবদলে ক্ষুব্ধ তৃণমূলের বড় অংশ

পদ্ম ছেড়ে ঘাসফুলের পতাকাতলে অভিনেত্রী পার্নো মিত্র (Parno Mitra)। তাঁর এই “ফুলবদল” ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে যেমন চর্চা তুঙ্গে, তেমনই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও তৈরি হয়েছে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ। প্রকাশ্যে কেউ খুব একটা মুখ না খুললেও, দলের অন্দরের বড় অংশ যে এই যোগদানে বিরক্ত, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে কর্মীদের কথাবার্তা ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়ায়। অনেকেই কটাক্ষ করে বলছেন, “এবার পুরনো পোস্ট ডিলিট করতে হবে।”

রাজনীতিতে দলবদল নতুন নয়। বিশেষ করে ভোটের আগে তারকা মুখদের এদল-ওদল হওয়া বাংলার রাজনীতিতে বহুবার দেখা গেছে। কিন্তু পার্নো মিত্রের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, কারণ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ছিলেন বিজেপির প্রার্থী। সেই সময়ে তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকদের বড় অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় পার্নোর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণে নেমেছিলেন। ব্যক্তিগত কটাক্ষ, ব্যঙ্গ, এমনকি অভিনেত্রীর ছবি ব্যবহার করেও কটূক্তি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এখন সেই একই পার্নো তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় অনেক কর্মীর মনে প্রশ্ন—তাহলে এতদিনের লড়াই, পোস্ট, আক্রমণ সবই কি অর্থহীন ছিল?

তৃণমূলের তৃণমূল স্তরের বহু কর্মী আক্ষেপ করে বলছেন, “এদের মতো লোকদের নেওয়া হয়, আর ওরাই দল ছেড়ে যাওয়ার সময় বদনাম করে যায়। শেষ পর্যন্ত মাঠে নেমে পরিস্থিতি সামলাতে হয় আমাদের মতো সাধারণ কর্মীদের।” কারও বক্তব্য আরও কড়া, “কাল পর্যন্ত যাকে নিয়ে পোস্ট করেছি, আজ তাকেই ফুল দিয়ে বরণ করতে হবে—এটা খুব অপমানজনক।” এই ক্ষোভ শুধু গোপনে নয়, অনেক ক্ষেত্রে ঘরোয়া আড্ডা থেকে শুরু করে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও প্রকাশ পাচ্ছে।

অনেকেই বিদ্রুপ করে বলছেন, “এবার একুশের মঞ্চে উঠে সেলফি তুলবে, পোস্ট দেবে—আর আমরা হাততালি দেব।” দলের ভেতর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, পার্নো মিত্রকে নেওয়ার বাস্তব রাজনৈতিক লাভ কী? কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, “একে নেবার যুক্তিটা কী? দল বা সংগঠনের কাজে কী অবদান রাখবে? শুধু ভিড় বাড়ানোই যদি লক্ষ্য হয়, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা কর্মীদের মূল্য কোথায়?”

তবে বাস্তব রাজনীতিতে তারকা মানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। পার্নো মিত্র জনপ্রিয় অভিনেত্রী, তাঁর পরিচিতি রয়েছে শহরের মধ্যবিত্ত ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই হিসাব করেই তাঁকে দলে নিয়েছে। মঞ্চে পার্নো থাকলে ভিড় হবে, ক্যামেরা থাকবে, সংবাদমাধ্যমে প্রচার বাড়বে। গ্ল্যামারের জোরে কর্মসূচিতে আলাদা আকর্ষণ তৈরি হবে—এই অঙ্কেই শীর্ষ নেতৃত্ব সবুজ সংকেত দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে শোনা যাচ্ছে, উত্তর কলকাতার কোনও একটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভবিষ্যতে পার্নো মিত্রকে প্রার্থী করার ভাবনাও নাকি রয়েছে। এই সম্ভাবনাই ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে। তাঁদের প্রশ্ন, “ভালো ছেলে-মেয়েরা রাজনীতিতে আসে না বলে সবাই আফসোস করে। কিন্তু প্রার্থী বাছাইয়ের সময় যদি দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির অভিনেতা-অভিনেত্রীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তাহলে আদর্শবাদী, শিক্ষিত, মাঠে কাজ করা লোকজন কেন রাজনীতিতে আসবে?”

তবে সব বিরোধিতার মাঝেও দলের একাংশ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে শিরোধার্য বলেই মেনে নিতে চাইছেন। তাঁদের বক্তব্য, “দিদি বা অভিষেক দা-র থেকে বড় বোদ্ধা হওয়ার দরকার নেই। সিদ্ধান্ত যখন ওঁরাই নিয়েছেন, তখন তার পিছনে নিশ্চয়ই রাজনৈতিক হিসাব আছে।” কেউ কেউ ব্যঙ্গ করে বলছেন, “আজ পার্নো, কাল দেবলীনা, তারপর উষশী—সবাই লাইনে আছে। দল জানে কাকে কোথায় ব্যবহার করতে হবে।”

সব মিলিয়ে পার্নো মিত্রের তৃণমূলে যোগদান শুধুমাত্র একটি দলবদলের ঘটনা নয়, বরং তা আবারও সামনে এনে দিয়েছে তারকা-নির্ভর রাজনীতি বনাম সংগঠন-নির্ভর রাজনীতির পুরনো বিতর্ক। একদিকে শীর্ষ নেতৃত্বের কৌশলী সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে মাঠের কর্মীদের জমে থাকা অভিমান—এই টানাপোড়েনের মধ্যেই আপাতত ঘাসফুল শিবিরে চলছে ‘পুরনো পোস্ট মুছতে হবে’ বিতর্ক। আগামী দিনে এই ক্ষোভ কতটা প্রশমিত হয়, না কি আরও চওড়া হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

ব্রাত্য বসুকে রাজনীতি ছাড়ার পরামর্শ, সিনেমা নিয়ে বিস্ফোরক তরুণজ্যোতি

পরিচালক সৃজিত মুখার্জির সাম্প্রতিক ছবি “লহ গৌরাঙ্গের নাম রে” দেখে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি শুধু সিনেমার প্রশংসাই করেননি, সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের ভূমিকা নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে ব্রাত্য বসুকে (Bratya Basu) ঘিরে তাঁর মন্তব্য ইতিমধ্যেই শোরগোল ফেলেছে।

কলকাতা: বাংলা সিনেমা, সংস্কৃতি ও রাজনীতির সংযোগ ঘিরে ফের এক বিতর্কের আবহ। বঙ্গ বিজেপির মুখপাত্র তরুণজ্যোতি তিওয়ারির একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পরিচালক সৃজিত মুখার্জির সাম্প্রতিক ছবি “লহ গৌরাঙ্গের নাম রে” দেখে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি শুধু সিনেমার প্রশংসাই করেননি, সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের ভূমিকা নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে ব্রাত্য বসুকে (Bratya Basu) ঘিরে তাঁর মন্তব্য ইতিমধ্যেই শোরগোল ফেলেছে।

তরুণজ্যোতি তাঁর পোস্টে লেখেন, বহুদিন ধরেই “বাংলা সিনেমার পাশে দাঁড়াব” এই মানসিকতা নিয়ে হলে যান, কিন্তু অধিকাংশ সময়েই হতাশ হয়ে ফিরতে হয়। তাঁর কথায়, টিকিট কেটে সিনেমা দেখা যেন দান করার সমান হয়ে দাঁড়ায়। তবে এই ছবিটি সেই ধারার ব্যতিক্রম। দীর্ঘদিন পরে তিনি আবার “পুরনো সৃজিত মুখার্জি”-কে খুঁজে পেয়েছেন বলেই দাবি করেছেন বিজেপি নেতা।

পোস্টে তিনি ছবির শুরুতেই ব্যবহৃত গান “ক্ষণে গোরাচাঁদ ক্ষণে কালা”-র কথা উল্লেখ করে লেখেন, এই গানই গোটা ছবির টোন বেঁধে দেয়। অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠ, দৃশ্যের নির্মাণ—সব মিলিয়ে দর্শককে চুপচাপ দেখে ও শুনে যেতে বাধ্য করে। নদিয়ার বাসিন্দা হওয়ার সূত্রে কীর্তনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতির কথাও তুলে ধরেন তরুণজ্যোতি। গ্রামে অষ্টপ্রহর কীর্তনের আবহে বড় হওয়া একজন মানুষের পক্ষে কলকাতার INOX-এ বসে তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে কীর্তন শুনে গুনগুন করার অভিজ্ঞতা যে কতটা ব্যতিক্রম, তা তিনি আবেগের সঙ্গে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই দৃশ্য যেন ইঙ্গিত দেয়—পশ্চিমবঙ্গ আবার নিজের শিকড় খুঁজে পাচ্ছে।

ছবির গঠন নিয়েও বিশদ মন্তব্য করেছেন তিনি। সিনেমার ভেতরে সিনেমা, নাটকের ভেতরে ইতিহাস, আবার মহাপ্রভুর জীবনের নানা পর্ব—এই স্তরবিন্যাস দর্শককে সময়ের মধ্যে হারিয়ে দেয় বলে মত তাঁর। একবার ঢুকে পড়লে বেরিয়ে আসার রাস্তা থাকে না, এটাকেই ছবির বড় শক্তি বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। পাশাপাশি পরিচালকের সাহসের প্রশংসা করে তরুণজ্যোতি বলেন, যে বিষয় নিয়ে কথা বলতে মানুষ ভয় পায়, সেই বিষয়কেই টেবিলের উপর রেখে আলোচনা করার সাহস দেখানো হয়েছে। কোনও মতবাদ চাপিয়ে না দিয়ে প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে—যার উত্তর হয়তো কখনও পাওয়া যাবে না।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন “অন্তর্ধান” ও “তিরোধান”—এই দুই শব্দের দার্শনিক ভার। বৈষ্ণব-ব্রাহ্মণ সম্পর্ক, শাক্ত ও বৈষ্ণব ভাবনা, যুদ্ধ ও অহিংসার দ্বন্দ্ব—মহাপ্রভুর অন্তরজগত নিয়ে থাকা বিভিন্ন তত্ত্ব ছবিতে স্পর্শ করা হয়েছে বলে তাঁর মন্তব্য। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেন, এতে কোনও ধর্মীয় আঘাত নেই, বরং প্রচলিত ধারণাগুলিকেই শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

অভিনয়ের প্রসঙ্গে তরুণজ্যোতি প্রায় সকল শিল্পীর প্রশংসা করলেও বিশেষভাবে আলাদা করে তুলে ধরেছেন ব্রাত্য বসুর অভিনয়। গিরিশ ঘোষের চরিত্রে তাঁর অভিনয়কে “দুর্দান্ত” বলে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “ব্রাত্য বসু, আপনি রাজনীতিতে কী করছেন? অবিলম্বে রাজনীতি ছেড়ে থিয়েটার আর সিনেমায় মন দিন।” তাঁর মতে, ব্রাত্য রাজনীতিতে থাকলে রাজনীতির বিশেষ লাভ হবে না, কিন্তু সিনেমা থেকে সরে গেলে শিল্পজগতের বড় ক্ষতি হবে। বিনোদিনীর যন্ত্রণা, গিরিশ ঘোষের সংলাপ, নাটকের মুহূর্ত—সব মিলিয়ে “The show must go on” ভাবনাটিকে অসাধারণভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে তিনি মত দেন।

তবে প্রশংসার পাশাপাশি হালকা কটাক্ষও রেখেছেন বিজেপি মুখপাত্র। কিছু দৃশ্যকে অপ্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেছেন, কোথাও কোথাও ‘কোটা অভিনেতা’ নেওয়ার প্রবণতা নিয়েও খোঁচা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এতে সিনেমার সামগ্রিক আবহে খানিক ব্যাঘাত ঘটে। এমনকি ভবিষ্যতে টলিউডে “কোটা বিরোধী আন্দোলন” দেখা যেতে পারে বলেও ব্যঙ্গ করেছেন তিনি।

শেষ দৃশ্য—ফোন কল, মেসেজ, এক্সপ্রেশন, বাথটাব—এই সবকিছু নিয়ে তিনি লেখেন, “কিছু বলার নেই।” কবিতার পঙ্‌ক্তি টেনে এনে বলেন, “সে চলে গেলেও নদীতে খেলবে চির পরিচিত জোয়ার ভাটা।” ছবির আবেগী সমাপ্তি তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে বলেই স্পষ্ট।

সব মিলিয়ে তরুণজ্যোতির বক্তব্যে একদিকে যেমন সৃজিত মুখার্জির পরিচালনার প্রশংসা, তেমনই রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও শিল্পীর কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার বার্তা স্পষ্ট। তিনি লিখেছেন, সৃজিতের রাজনৈতিক মতাদর্শ ও কিছু কর্মকাণ্ডের তিনি বিরোধী ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন—তবু একটি ভালো সিনেমা উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানানো অন্যায় হবে না।

এই পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক শিবিরের টানাপোড়েন, অন্যদিকে শিল্পের স্বাতন্ত্র্য—সব মিলিয়ে তরুণজ্যোতির এই মন্তব্য যেন আবারও প্রশ্ন তুলছে, রাজনীতি আর সংস্কৃতির সীমারেখা ঠিক কোথায় টানা উচিত।

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর অপমানে গর্জে উঠলেন বিজেপি বিধায়ক

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর অপমানে গর্জে উঠলেন বিজেপি বিধায়ক

কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় কে বিয়ে করতে (BJP MLA reacts)চেয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন বাংলাদেশের এক মুসলিম হুজুর। সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি ভিডিও ভাইরাল হলে দেখা যায় তিনি বলছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়কে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে। দেখা যায় তিনি মমতাকে বিয়ে করার প্রস্তাবও দিচ্ছেন। আগুনের মত ভাইরাল হয় এই ভিডিও। তৃণমূলের আইটি সেল এই ইস্যুতে নীরব থাকলেও প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক কবি অসীম সরকার।

তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন মমতা বিরোধী দলনেত্রী হলেও তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং মায়ের মত। বাংলাদেশের একজন মুসলিম কিভাবে এই ধরণের মন্তব্য করতে পারে তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অসীম। তার সঙ্গে তৃণমূলের আইটি সেল আই প্যাকের নীরবতা নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। মমতা সম্পর্কে এই কটূক্তির জবাবে তিনি মুসলিম ধর্মগুরু নবীর কথা টেনে এনেছেন।

লগ্নজিতা হেনস্থার পুনরাবৃত্তি! ফের মাইক কেড়ে নেওয়া হল শিল্পীর

তিনি বলেন নবী একজন যুবক হয়ে একজন প্রবীণাকে বিয়ে করেছিলেন এবং সেই ডিএনএ রয়ে গিয়েছে মমতাকে কটূক্তি করা এই মুসলিমের শরীরে। অসীম তার বক্তব্যে স্পষ্ট বলেন যে মুখ্যমন্ত্রী একজন প্রবীণা এবং সেই সঙ্গে সম্মানীয়া। আর প্রতিবেশী দেশের একজন মুসলিম তাকে এই ধরণের প্রস্তাব দেন তার বিবেকে বাধে না? তৃণমূলের আইটি সেলের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে অসীম বলেন তারা অসীমকে নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন এবং মিথ্যে ছবি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে রতিছেন যে মতুয়াদের হাতে মার খেয়েছেন অসীম।

তিনি তৃণমূলের আইটি সেলকে অনুরোধ করেন যে তার ব্যাপারে মিথ্যাচার না করে তৃণমূল যেন মমতার অপমানের জবাব দেয়। সম্প্রতি ভারত বিদ্বেষী সন্ত্রাস এবং দীপু দাসের হত্যা ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমান্ত পেরিয়ে আসা এই ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক বা প্রশাসনিক স্তরে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না।

একইসঙ্গে রাজ্যের শাসকদলের প্রতিক্রিয়া বা আনুষ্ঠানিক অবস্থান নিয়েও কৌতূহল বাড়ছে। সব মিলিয়ে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ভাইরাল ভিডিও, তার পাল্টা বিজেপি বিধায়কের তীব্র প্রতিবাদ এবং তৃণমূলের নীরবতা এই ত্রিমুখী বিতর্ক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এখন দেখার, এই ইস্যুতে শাসকদল ও প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।

নজর কেড়েছে পাওলোর গোল, নর্থবেঙ্গল ম্যাচ নিয়ে কী ভাবছেন ব্যারেটো

নজর কেড়েছে পাওলোর গোল, নর্থবেঙ্গল ম্যাচ নিয়ে কী ভাবছেন ব্যারেটো

গত বৃহস্পতিবার বেঙ্গল সুপার লিগের চতুর্থ ম্যাচে নেমেছিল হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্স এফসি। যেখানে তাঁদের প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল নর্থ চব্বিশ পরগনা এফসি। সম্পূর্ণ সময়ের শেষে একটি গোলের ব্যবধানে এই ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে হোসে রেমিরেজ ব্যারেটোর ছেলেরা‌। দলের হয়ে গোল করেছেন যথাক্রমে সাহিল হরিজন, ফ্রাঙ্ক উইলিয়াম এবং পাবলো সিজার। অন্যদিকে, উত্তর চব্বিশ পরগনার হয়ে গোল করেন যথাক্রমে কুইন্টানা অর্টুজার এবং অঙ্কন ভট্টাচার্য। বর্তমানে চার ম্যাচে নয় পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে আসলো সাহিলদের ফুটবল দল।

তবে এদিন লড়াইটা খুব একটা সহজ ছিল না। ম্যাচের ২৭ মিনিটের মাথায় চলে এসেছিল প্রথম গোল। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের নাস্তানাবুদ করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন সাহিল হরিজন। যা নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল ওয়ারিয়র্সদের। কিন্তু সেটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩২ মিনিটের মাথায় গোল করে দলকে সমতায় ফেরান কুইন্টানা অর্টুজা।‌ তারপর থেকেই বেশ কিছুটা সাবধানতার সাথে খেলতে দেখা গিয়েছিল দুই শিবিরকে। তবে প্রথমার্ধের শেষ লগ্নে সুযোগ বুঝেই ফের গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ফ্রাঙ্ক উইলিয়াম। প্রথমার্ধের শেষে একটি গোলেই এগিয়ে ছিল হাওড়া-হুগলি দল।‌

তবে দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম থেকেই গোল শোধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল নর্থ চব্বিশ পরগনা। চতুর্থ কোয়ার্টারের মধ্যেই গোল করে সমতায় এনে দিয়েছিলেন অঙ্কন ভট্টাচার্য। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেই গোল করে দলের ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত করেন পাওলো সিজার। পরবর্তীতে সাংবাদিক বৈঠকে দলের কোচ হোসে ব্যারেটোকে পছন্দের গোল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘ উইনিং গোল।’ তাঁর কথায়, ‘ জয়সূচক গোল সবসময় স্পেশাল। ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে সেটপিস থেকে এই গোলে আমাদের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। সব রকম ভাবেই আমরা নিজেদের প্রস্তুত করেছিলাম। তিন পয়েন্ট আশায় আমি খুশি।’

হাতে কয়েকদিন। তারপরেই আগামী ২৮শে ডিসেম্বর কাঞ্চনজঙ্ঘার বুকে নর্থবেঙ্গল ইউনাইটেড বিপক্ষে খেলতে নামবে হাওড়া-হুগলি দল। এই ম্যাচ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘ এখনই আমি এই ম্যাচ নিয়ে কিছু ভাবছি না। ছেলেরা আজকের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পুরো পয়েন্ট নিয়ে এসেছে। সেটা নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। এই জয়টাই আমরা সেলিব্রেট করতে চাই।’

‘জুলাই-যোদ্ধা’দের বন্ধুত্বের বার্তার পরেও নেপালে বাংলাদেশ বিরোধী বিক্ষোভ—দক্ষিণ এশিয়ায় কি সমীকরণ বদলাচ্ছে?

‘জুলাই-যোদ্ধা’দের বন্ধুত্বের বার্তার পরেও নেপালে বাংলাদেশ বিরোধী বিক্ষোভ—দক্ষিণ এশিয়ায় কি সমীকরণ বদলাচ্ছে?

পদ্মাপারে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগে উত্তাল কাঠমান্ডু-সহ একাধিক শহর। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপালে বাংলাদেশ বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও প্রবাসী গোষ্ঠীর তরফে দাবি করা হয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডু ছাড়াও পোখরা, বিরাটনগর, ললিতপুর-সহ একাধিক শহরে সাম্প্রতিক দিনে প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে নেপালের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। বিক্ষোভকারীদের একাংশ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানা যাচ্ছে।

প্রতিবাদকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের অগাস্টের পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, ভয়ভীতি ও সামাজিক চাপ বেড়েছে। মন্দির ভাঙচুর, বাড়িঘরে হামলা এবং জোর করে এলাকা ছাড়ার মতো অভিযোগ সামনে এসেছে বলে তাদের বক্তব্য। যদিও বাংলাদেশের প্রশাসন ও সরকারের তরফে একাধিকবার বলা হয়েছে, এই ধরনের অভিযোগ অতিরঞ্জিত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

নেপালে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে বিশেষভাবে উঠে এসেছে “দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড”-এর প্রসঙ্গ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই ঘটনাটি সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। যদিও এই ঘটনার তদন্ত নিয়ে বাংলাদেশে ভিন্ন মত রয়েছে এবং সরকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি আইন অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবুও নেপালের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন এটিকে সামনে রেখে প্রতিবাদ জোরদার করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ মাত্র দেড় বছর আগেই নেপালের সঙ্গেই বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছিল বাংলাদেশের তথাকথিত “জুলাই আন্দোলন” বা “জুলাই-যোদ্ধা” গোষ্ঠী। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে যে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে, তার নেতৃত্বদানকারী অংশ নিজেদের “জুলাই-যোদ্ধা” হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করে। সেই সময় ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থানকে কেন্দ্র করে তারা নেপালের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও ঐক্যের বার্তা প্রচার করেছিল।

সে সময় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয় যে ভারত-বিরোধিতা কোনও ধর্মীয় অবস্থান নয় এবং হিন্দু প্রধান দেশ নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্কই তার প্রমাণ। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য ছিল, তাদের লড়াই রাজনৈতিক ও ভূ-কৌশলগত, ধর্মভিত্তিক নয়। নেপালকে সামনে রেখে সেই বয়ান জোরদার করা হয়েছিল।

এরও আগে বাংলাদেশে “বয়কট ভারত” আন্দোলন শুরু হয়েছিল, যা সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন তুললেও বাস্তব ক্ষেত্রে তেমন সফল হয়নি বলে বিশ্লেষকদের মত। তবে ওই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভারত-বিরোধী মনোভাব সমাজের একাংশে প্রভাব ফেলেছিল। ২০২৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ চলাকালীনও বাংলাদেশের কিছু অংশে ভারত-বিরোধী স্লোগান ও প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল, যাকে অনেকেই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছিলেন।

জুলাই আন্দোলনের পর সেই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়। ধর্মীয় পরিচয় আড়াল রেখে আঞ্চলিক কূটনীতি ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের যুক্তি তুলে ধরা হয়। সেই প্রেক্ষিতেই নেপালকে “বন্ধু রাষ্ট্র” হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।

কিন্তু পরিস্থিতি বদলেছে। নেপালে সরকার পরিবর্তনের পর দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণেও রদবদল হয়েছে। নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলের একাংশের দাবি, অতীতে নেপালের মাটিতে সক্রিয় কিছু ভারত-বিরোধী নেটওয়ার্ক এখন নিষ্ক্রিয় হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-কেন্দ্রিক কিছু তৎপরতা নিয়েও কাঠমান্ডু আগের তুলনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের ইঙ্গিত।

এই আবহেই নেপালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এক সময় যে দেশকে সামনে রেখে ভারত-বিরোধী কৌশল সাজানো হয়েছিল, সেই নেপালেই এখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সুরক্ষার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসছে।

বাংলাদেশ সরকার অবশ্য বারবার জানিয়েছে, দেশটিতে সব ধর্মের নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করেন এবং কোনও ধরনের সাম্প্রদায়িক হিংসা রাষ্ট্র সমর্থিত নয়। পাশাপাশি গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার আবেদনও জানানো হয়েছে।

তবে বাস্তবে নেপালে চলা এই বিক্ষোভ দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন চাপ তৈরি করছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। এক সময়ের “বন্ধুত্বের বার্তা” দেওয়া দেশেই যখন প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে, তখন জুলাই আন্দোলনের আদর্শ ও অবস্থান নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

BSL: পাওলোর গোলে বাজিমাত হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্সের, বৃথা লড়াই অঙ্কনদের

BSL: পাওলোর গোলে বাজিমাত হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্সের, বৃথা লড়াই অঙ্কনদের

বেঙ্গল সুপার লিগে (BSL) অনবদ্য জয় ছিনিয়ে নিল হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্স‌। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এদিন বিকেল চারটে নাগাদ কল্যাণীর বুকে পরবর্তী ম্যাচ খেলতে নেমেছিল হোসে ব্যারেটোর ছেলেরা। যেখানে তাঁদের লড়াই করতে হয়েছিল নর্থ ২৪ পরগনা এফসির বিপক্ষে। সম্পূর্ণ সময়ের শেষে ৩-২ গোলের ব্যবধানে এই ম্যাচে এসেছে জয়। এদিন হাওড়া-হুগলি দলের হয়ে গোল করেন যথাক্রমে সাহিল হরিজন, ফ্রাঙ্ক উইলিয়াম এবং পাবলো সিজার। অন্যদিকে, উত্তর চব্বিশ পরগনার হয়ে গোল করেন যথাক্রমে কুইন্টানা অর্টুজার এবং অঙ্কন ভট্টাচার্য।

যারফলে চার ম্যাচে নয় পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে আসলো সাহিলদের দল। অন্যদিকে, চার ম্যাচে জয় পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে নামল নর্থ চব্বিশ পরগনা‌। বলাবাহুল্য, এদিন প্রথম থেকেই যথেষ্ট আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা গিয়েছিল হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্সের ফুটবলারদের। যারফলে গোলের মুখ খুলতে খুব একটা ঝক্কি পোহাতে হয়নি। ম্যাচের ২৭ মিনিটের মাথায় চলে আসে প্রথম গোল। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের নাস্তানাবুদ করে দলকে এগিয়ে দেন সাহিল হরিজন। যা নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল ওয়ারিয়র্সদের। কিন্তু সেটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

৩২ মিনিটের মাথায় গোল করে দলকে সমতায় ফেরান কুইন্টানা অর্টুজা।‌ তারপর থেকেই বেশ কিছুটা সাবধানতার সাথে খেলতে দেখা যায় দুই দলের ফুটবলারদের। তারপর ৪৫ মিনিটের মাথায় সুযোগ বুঝেই ফের গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফ্রাঙ্ক উইলিয়াম। প্রথমার্ধের শেষে ২-১ গোলের ব্যবধানেই এগিয়ে ছিল হোসে ব্যারেটোর ছেলেরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ঘন ঘন আক্রমণে ঝড় তুলে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল প্রতিপক্ষ ফুটবল দল। তারপর ৫৭ মিনিটের মাথায় তেইশ নম্বর জার্সিধারী ফুটবলার অঙ্কন ভট্টাচার্যের করা গোলে সমতায় ফেরে নর্থ চব্বিশ পরগনা।

কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের শেষ লগ্নে একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করতে দেখা গিয়েছিল ব্যারেটোর ছেলেদের। নির্ধারিত নব্বই মিনিটে খেলার ফলাফল এক থাকলেও অতিরিক্ত চার মিনিটের মধ্যেই গোল করে দলের জয় ছিনিয়ে নেন পাওলো সিজার। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের সেরা ও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

BSL: প্রথমার্ধের শেষ, ২-১ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্স এফসি

BSL: প্রথমার্ধের শেষ, ২-১ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্স এফসি

নির্ধারিত সূচি অনুসারে আজ বেঙ্গল সুপার লিগের (BSL) পরবর্তী ম্যাচে নেমেছে হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্স। যেখানে তাঁদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নর্থ ২৪ পরগনা এফসি। ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে ম্যাচের প্রথমার্ধ। যেখানে ২-১ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে হাওড়া-হুগলি দল। এই দলের হয়ে এখনও পর্যন্ত গোল পেয়েছেন যথাক্রমে সাহিল হরিজন এবং কাঙ্গা ফ্রাঙ্ক উইলিয়াম। অন্যদিকে, নর্থ ২৪ পরগনার হয়ে গোল করেন কুইন্টানা অর্টুজার। বলাবাহুল্য, এদিন প্রথম থেকেই যথেষ্ট আক্রমনাত্মক মেজে দেখা গিয়েছে হাওড়া-হুগলি ওয়ারিয়র্সের ফুটবলারদের।

ম্যাচের প্রথম কোয়ার্টারের মাঝামাঝি সময় থেকেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে বারংবার হানা দিতে দেখা গিয়েছিল ব্যারেটোর ছেলেদের। স্বাভাবিকভাবেই গোল তুলে নিতে খুব একটা সমস্যা পোহাতে হয়নি। ম্যাচের ২৭ মিনিটের মাথায় চলে আসে প্রথম গোল। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের নাস্তানাবুদ করে দলকে এগিয়ে দেন সাহিল হরিজন। যা নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছিল ওয়ারিয়র্সদের। কিন্তু সেটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩২ মিনিটের মাথায় গোল করে দলকে সমতায় ফেরান কুইন্টানা অর্টুজা।‌ তারপর থেকেই বেশ কিছুটা সাবধানতার সাথে খেলতে দেখা যায় দুই দলের ফুটবলারদের।

তারপর ৪৫ মিনিটের মাথায় সুযোগ বুঝেই ফের গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফ্রাঙ্ক উইলিয়াম। প্রথমার্ধের শেষে ২-১ গোলের ব্যবধানেই এগিয়ে রয়েছে হোসে ব্যারেটোর ছেলেরা।

DRDO-র বড় সাফল্য! আকাশ–এনজি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা সফল

DRDO-র বড় সাফল্য! আকাশ–এনজি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা সফল

ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) জানিয়েছে, আকাশ–এনজি (Akash NG) ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহারকারী মূল্যায়ন পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই পরীক্ষায় নির্ধারিত সমস্ত PSQR (Preliminary Staff Qualitative Requirements) পূরণ করেছে ক্ষেপণাস্ত্রটি।

DRDO-র তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় আকাশ–এনজি বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে ছিল সীমান্তের কাছাকাছি নিম্ন উচ্চতায় উড়তে থাকা লক্ষ্য, পাশাপাশি দীর্ঘপাল্লার ও উচ্চ উচ্চতায় থাকা লক্ষ্যবস্তুও। বিভিন্ন রেঞ্জ ও উচ্চতায় ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আকাশ–এনজি হল বিদ্যমান আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আধুনিক সংস্করণ। এতে ব্যবহৃত হয়েছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আরএফ (RF) সিকার, যা লক্ষ্যবস্তুকে আরও নির্ভুলভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটি সলিড রকেট মোটর দ্বারা চালিত, যা দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে।

বর্তমান আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন, ফাইটার জেট, হেলিকপ্টার ও অন্যান্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের প্রয়োজন ক্রমেই বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতেই আকাশ–এনজি ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও মজবুত করবে বলে ধারণা।

DRDO জানিয়েছে, এই সফল ব্যবহারকারী মূল্যায়ন পরীক্ষার পর আকাশ–এনজি ক্ষেপণাস্ত্রকে সেনাবাহিনীর ব্যবহারের জন্য আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া যাবে। ভবিষ্যতে এটি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

চুঁচুড়ায় শুরু নরেন্দ্রকাপ মহিলা ফুটবল টুর্নামেন্ট, অংশ নিচ্ছে ৮ দল

চুঁচুড়ায় শুরু নরেন্দ্রকাপ মহিলা ফুটবল টুর্নামেন্ট, অংশ নিচ্ছে ৮ দল

হুগলি জেলা বিজেপি নেতৃত্বের উদ্যোগে শনিবার থেকে শুরু হল নরেন্দ্রকাপ (Narendra Cup) মহিলা ফুটবল টুর্নামেন্ট। চুঁচুড়া স্টেশন সংলগ্ন যুবসংঘের মাঠে আজ দুপুর ১২টা নাগাদ এই দু’দিনব্যাপী টুর্নামেন্টের শুভ সূচনা হয়। প্রতিযোগিতায় হুগলি জেলার মোট ৮টি মহিলা ফুটবল দল অংশ নিচ্ছে।

উদ্বোধনী দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় শ্যামাপ্রসাদ একাদশ এবং চিত্তরঞ্জন একাদশ। ম্যাচ ঘিরে মাঠে কয়েকশো দর্শকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় মানুষজনের উৎসাহে পুরো মাঠেই উৎসবের আবহ তৈরি হয়।

এই টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন হুগলি জেলা বিজেপির সভাপতি গৌতম চ্যাটার্জি। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সম্পাদক দীপাঞ্জন গুহ, হুগলি জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ, সম্পাদিকা অরুপা সামন্ত, বেবী তিওয়ারী সহ বিজেপির একাধিক স্থানীয় নেতা ও কর্মী।

আয়োজকদের মতে, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে জেলার মহিলা ফুটবলারদের প্রতিভা তুলে ধরার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাম ও জেলা স্তরে মহিলা ফুটবলের অংশগ্রহণ বাড়লেও নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ এখনও সীমিত—এই টুর্নামেন্ট সেই শূন্যতা কিছুটা হলেও পূরণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দু’দিন ধরে চলা এই টুর্নামেন্টে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের আশা, স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে মহিলা ফুটবলের প্রতি দর্শক ও তরুণীদের আগ্রহ আগামী দিনে আরও বাড়বে।

বাংলাদেশে হিন্দু যুবক হত্যার প্রতিবাদে ব্যান্ডেলে বিক্ষোভ মিছিল

বাংলাদেশে হিন্দু যুবক হত্যার প্রতিবাদে ব্যান্ডেলে বিক্ষোভ মিছিল

বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের ব্যান্ডেল এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল (Hindu protest) অনুষ্ঠিত হল। জাগ্রত হিন্দু সমাজ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই মিছিল ব্যান্ডেল মোড় থেকে শুরু হয়ে খাদিনামোড় পর্যন্ত যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল প্রায় ৪টা নাগাদ শুরু হওয়া এই মিছিলে কয়েকশো স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেন। মিছিল চলাকালীন প্রতিবাদকারীরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার দাবি তোলেন।

এই কর্মসূচিতে কয়েকজন বিজেপির স্থানীয় নেতাকেও মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনও দলীয় কর্মসূচি নয়, বরং সাম্প্রতিক ঘটনার প্রতিবাদে সামাজিক উদ্যোগ হিসেবেই এই মিছিল ডাকা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন ও সহিংসতার অভিযোগ ঘিরে বিভিন্ন জায়গায় উদ্বেগ ও প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যের একাধিক এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি সংগঠিত হচ্ছে।

এদিনের মিছিলটি রবীন্দ্রনগর হয়ে জিটি রোড ধরে সুকান্ত নগর পর্যন্ত অগ্রসর হয় এবং সেখানেই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। গোটা কর্মসূচি চলাকালীন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

আয়োজকদের দাবি, এই ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁরা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনতে চান এবং আন্তর্জাতিক স্তরে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে চান। আগামী দিনে আরও কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

যুবভারতীতে মেসি-কাণ্ডে ‘বিস্ফোরক’ ভাইচুং, নিশানায় কে?

bhaichung-bhutia-open-up-lionel-messi-yuva-bharati-stadium-football-controversy

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির উপস্থিতি ঘিরে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন ভারতীয় ফুটবলের (Football) আইকন ভাইচুং ভুটিয়া। গোটা ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে নাম না করেই রাজনৈতিক নেতা ও ভিআইপিদের আচরণের তীব্র সমালোচনা করলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক।

গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসিকে ঘিরে মাঠের ভিতরে অতিরিক্ত ভিড়, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দাপট এবং প্রকৃত ফুটবলপ্রেমীদের বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গে ভাইচুং বলেন, “খেলার মাঠে খেলোয়াড়দেরই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। রাজনৈতিক নেতা বা অন্যান্য ভিআইপিদের মেসির চারপাশে ভিড় করে জড়িয়ে ধরা বা হ্যান্ডশেক করা একেবারেই উচিত হয়নি। এতে গোটা আয়োজনের মর্যাদা নষ্ট হয়েছে।”

নাম না করলেও সদ্য পদত্যাগ করা রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস-সহ মেসিকে ঘিরে থাকা রাজনৈতিক মহলের প্রতি তাঁর কটাক্ষ স্পষ্ট। ভাইচুংয়ের বক্তব্যে উঠে আসে, আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল ইভেন্টে ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং শৃঙ্খলার অভাব কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, যুবভারতীতে আমন্ত্রণ থাকলেও বাইচুং নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি জানান, আয়োজকদের অনুরোধ করে দিল্লিতেই মেসির সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করেন। কারণ হিসেবে বলেন, তাঁর ছেলে দিল্লিতে পড়াশোনা করে এবং ছেলের জোরাজুরিতেই তিনি দিল্লিতে গিয়ে মেসির সঙ্গে দেখা করেন। হাসিমুখে ভাইচুং বলেন, “আমার ছেলে আমাকে দেখে নয়, মেসিকে দেখেই ফুটবলের ভক্ত।”

এই প্রসঙ্গের পাশাপাশি ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী প্রাক্তন অধিনায়ক। খুব শীঘ্রই আইএসএল শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শনিবার নেপালের এপিএফ ক্লাবকে হারিয়ে সাফ ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হওয়া ইস্টবেঙ্গল মহিলা দলকেও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান বাইচুং।

২০০৩ সালে তাঁর নেতৃত্বেই ইস্টবেঙ্গল জিতেছিল আসিয়ান কাপ, যা ছিল ক্লাবের প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি। ২২ বছর পর লাল-হলুদের মহিলা দলের হাত ধরে ফের আন্তর্জাতিক সাফল্য আসায় স্বাভাবিকভাবেই আবেগপ্রবণ পাহাড়ি বিছে। প্রাক্তন ক্লাবের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে গর্বিত ভাইচুংয়ের চোখে, এটি ভারতীয় ফুটবলের জন্যও এক বড় প্রাপ্তি।

ম্যারাথনে মেসির মূর্তি কটাক্ষে নিন্দুকদের তুলোধোনা সুজিতের

sujit-bose-reacts-at-tata-marathon-kolkata

কলকাতা: ২১ ডিসেম্বর রবিবার শীতের সকালে অনুষ্ঠিত হল টাটা ম্যারাথন (Sujit Bose reacts at Tata Marathon)। প্রত্যেক বছরই টাটার আয়োজনে এই ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়। আজ এই ম্যারাথনের বাড়তি প্রাপ্তি যোগ ছিলেন রাজ্যের দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন প্রত্যেক বছরই এই ম্যারাথনের অনুষ্ঠানে আসেন তিনি এবং জুনিয়র থেকে সিনিয়র আনন্দ রান পুরোটাই উপভোগ করেন।

কলকাতায় মেসির সফর এবং বিশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সুজিত বসু বলেন এই নিয়ে রাজ্যের তদন্ত কমিটি তদন্ত করছে কিন্তু শ্রীভূমিতে মেসির যে মূর্তি উন্মোচিত হয়েছে তা নিয়ে স্বয়ং ফুটবলের রাজপুত্র সমাজ মাধ্যমে লিখেছেন। তাই তিনি নিন্দুকদের কথায় গুরুত্ব দিতে নারাজ। মেসির নব উন্মোচিত মূর্তি নিয়ে এর আগেও প্রচুর বিতৰ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এই মূর্তি উন্মোচনকে কটাক্ষ করেছেন আবার কেউ কেউ খুব নিম্নমানের শিল্পকর্ম বলেও কটাক্ষ করেছেন।

বাংলাদেশ আবহে চিকেন নেক রক্ষায় নয়া পদক্ষেপ ভারতীয় সেনার

কিন্তু সুজিত বসু এই নিন্দুকদের পাত্তাই দিচ্ছেন না এমনটাই শোনা গিয়েছে তার বক্তব্যে। তিনি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যেখানে মেসি এই মূর্তি নিয়ে উচ্ছসিত সেখানে অন্যদের কথার কোনও গুরুত্ব নেই। তবে বাড়তি বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি মুখ খোলেননি এবং পুরোটাই রাজ্যের তদন্ত কমিটির হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।

সম্প্রতি কলকাতায় মেসির ‘GOAT India Tour 2025’-এর অংশ হিসেবে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে লেকটাউনে উন্মোচিত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৭০ ফুটের লোহার মেসি মূর্তি। মেসি নিজে ভার্চুয়ালি এর উদ্বোধন করেছেন, বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে মেসির ভঙ্গিমায় তৈরি এই মূর্তি দেখে মেসি নিজে এবং তার টিম খুব খুশি হয়েছেন—এ কথা আগেই জানিয়েছিলেন সুজিত বসু।

কিন্তু মূর্তি উন্মোচনের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় বিতর্ক। অনেকে মূর্তির গুণগত মান নিয়ে কটাক্ষ করেছেন, কেউ বলেছেন এটা নিম্নমানের শিল্পকর্ম, কেউ আবার পুরো উদ্যোগকেই রাজনৈতিক প্রচার বলে কটাক্ষ করেছেন। এমনকি মূর্তির নির্দিষ্ট কিছু অংশ নিয়ে হাস্যরসের ঝড় উঠেছে নেটদুনিয়ায়। মেসির মূর্তি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। মাত্র ৪০ দিনে তৈরি এই বিশালাকার মূর্তি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেসি মূর্তি হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।

শিল্পী মন্টি পালের নেতৃত্বে তৈরি এই কাজে সুজিত বসুর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছিল প্রবল। কলকাতা ফুটবলপ্রেমী শহর, মারাদোনা থেকে রোনালদিনহো অনেক কিংবদন্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। মেসির এই সফর এবং মূর্তি তারই ধারাবাহিকতা। কিন্তু মূর্তির চেহারা নিয়ে সমালোচনা থামছে না। অনেকে বলছেন, এটা মেসির মতো দেখতে হয়নি, বিশেষ করে কিছু অংশে ভুল রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার সর্বত্র মিম আর কটাক্ষের বন্যা। তবু সুজিত বসু অটল। তিনি বলছেন, এটা শুধু মূর্তি নয়, এটা কলকাতার ফুটবলপ্রেমের প্রতীক। মেসি নিজে খুশি, ভক্তদের একাংশ উচ্ছ্বসিত এটাই যথেষ্ট।

বিপ্লবীদের দম শেষ! বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে আটক বহু

bangladesh-protests-indian-consulate-chittagong-osman-hadi-arrests

বাংলাদেশে (Bangladesh) তথাকথিত ‘বিপ্লবী’ আন্দোলনের দম শেষ হতে শুরু করেছে—এমনই ইঙ্গিত মিলল চট্টগ্রামে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে ঘিরে। আততায়ীদের গুলিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই গোটা বাংলাদেশে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে রাজধানী ঢাকা-সহ একাধিক শহরে, বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস-এর সামনে।

চট্টগ্রাম শহরে বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারতীয় দূতাবাসের সামনের চিত্র ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। কয়েকশো বিক্ষোভকারী সেখানে জড়ো হয়ে উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে শুরু করেন। “বিপ্লব জিন্দাবাদ”, “খুনের বিচার চাই”—এই ধরনের স্লোগানে মুহূর্তের মধ্যে এলাকা গমগম করতে থাকে। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই কালো ব্যাজ পরে এবং হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় নামেন। তাঁদের দাবি ছিল, ওসমান হাদির হত্যার পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

তবে এই বিক্ষোভ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, টেনেটুনে এক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। শুরুতে পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও, বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এবং স্লোগান আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠায় প্রশাসন দ্রুত সক্রিয় হয়। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় দূতাবাস চত্বর ও আশপাশের রাস্তায়। ব্যারিকেড বসিয়ে বিক্ষোভকারীদের এগোনো আটকানো হয়।

এক পর্যায়ে পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়—বেআইনি জমায়েত ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বিক্ষোভকারীদের। কিন্তু সেই নির্দেশ মানা না হওয়ায় পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়। ধীরে ধীরে লাঠিচার্জ ও ধাওয়ার মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এই সময় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। যদিও ঠিক কতজন আটক হয়েছেন, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

পুলিশি তৎপরতার পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে। বর্তমানে চট্টগ্রামে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে কোনও উত্তেজনা নেই। এলাকাটি সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “জননিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনও রকম অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।”

ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে ‘বিপ্লব’-এর ডাক দেওয়া হয়েছিল, চট্টগ্রামের ঘটনায় তার বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। তাঁদের মতে, আবেগঘন স্লোগান আর ক্ষণস্থায়ী জমায়েত ছাড়া এই আন্দোলনের কোনও সুসংগঠিত রূপরেখা নেই। প্রশাসনের সামান্য কড়া পদক্ষেপেই বিক্ষোভ ভেঙে পড়ছে, যা তথাকথিত বিপ্লবী শক্তির দুর্বলতাকেই প্রকাশ করছে।

অন্যদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থকেরা দাবি করছেন, আন্দোলন এখনও শেষ হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশি দমন নীতি দিয়ে ক্ষোভ চেপে রাখা গেলেও বিচার না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, অন্তত এই মুহূর্তে চট্টগ্রামে ‘বিপ্লবে ইতি’ টানতেই বাধ্য হয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

সব মিলিয়ে, ওসমান হাদির মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হওয়া উত্তাল পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে। ভারতীয় দূতাবাসের সামনে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। প্রশাসনের কড়া অবস্থান এবং দ্রুত পদক্ষেপে পরিষ্কার, বাংলাদেশে কূটনৈতিক স্থাপনাকে ঘিরে কোনও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা মেনে নেওয়ার পথে হাঁটছে না সরকার।

ঢাকায় প্রথম আলো দপ্তরে হামলা, হাদির মৃত্যুকে ঘিরে অশান্তি

bangladesh-protests-indian-consulate-chittagong-osman-hadi-arrests

বাংলাদেশে ফের ভয়াবহ অস্থিরতার ছবি (Bangladesh unrest protests) সামনে এল। ঢাকা শহরের কারওয়ান বাজার এলাকায় অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রথম সারির দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার দপ্তরে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে যুবনেতা ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ক্ষোভ থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। অভিযোগ, ইনকিলাব মঞ্চ–এর বিক্ষোভকারীরা প্রথম আলো ভবনে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়, অফিসের আসবাব, কাচ, কম্পিউটার এবং নথিপত্র নষ্ট করে দেওয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের দাবি—ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা “পক্ষপাতদুষ্ট” ছিল এবং প্রকৃত সত্য আড়াল করা হয়েছে। এই অভিযোগকে সামনে রেখেই উত্তেজিত জনতা প্রথম আলো ভবনের দিকে মিছিল করে আসে। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে ভবনে ঢুকে হামলা চালানো হয়। ঘটনার সময় অফিসে কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মীদের অনেকেই আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

শুধু ঢাকা নয়, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অংশে একই সঙ্গে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বলে খবর। একাধিক জায়গায় রাস্তা অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিতে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কয়েকটি এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবায় সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।

ওসমান হাদির মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সরকারিভাবে মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি, কিন্তু বিরোধী ও যুব সংগঠনগুলির একাংশ এটিকে “রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের ফল” বলে দাবি করছে। অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার জন্য কিছু সংগঠিত গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে হিংসা ছড়াচ্ছে।

বাংলাদেশের সাংবাদিক মহল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিভিন্ন প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমের উপর এই ধরনের হামলা সরাসরি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাত। প্রথম আলো কর্তৃপক্ষও এক বিবৃতিতে জানায়, সংবাদ পরিবেশনের কারণে কোনও মিডিয়া হাউসকে লক্ষ্য করে হামলা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বার্তা বহন করে।

ঘটনার পর আন্তর্জাতিক স্তরেও উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে, বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুব আন্দোলন এবং সংবাদমাধ্যমের উপর ক্রমবর্ধমান চাপ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। প্রশাসনের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, সহিংসতা থামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশে চলমান এই সহিংস বিক্ষোভ কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে গোটা দক্ষিণ এশিয়াতেই নজরদারি চলছে।

লোবেরার তত্বাবধানে অনুশীলন শুরু বাগানের, অনুপস্থিত এই তিন ফুটবলার

mohun-bagan-sg-first-training-under-new-coach-sergio-lobera

মোহনবাগান সুপার জায়ান্টে (Mohun Bagan SG) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল সার্জিও লোবেরা-যুগ। হোসে মলিনার বিদায়ের পর বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই যুবভারতীর অনুশীলন গ্রাউন্ডে স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ডের অধীনে উৎসাহী ফুটবলারদের নতুন করে তৈরি হওয়ার দৃশ্য যেন নতুন অধ্যায়ের সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

আইএসএল অনিশ্চয়তা ঘিরে বাগানের চিঠি, এআইএফএফের দায়সারা জবাব

বিকেল চারটার আগেই মাঠে হাজির হন লোবেরা। ঘড়ির কাঁটা ৪.৩০ ছুঁতেই অনুশীলনের বাঁশি বাজান তিনি। প্রথম দিন থেকেই তাঁর প্রশিক্ষণধারার সুনির্দিষ্ট পরিচয় মেলে শৃঙ্খলা, গতি, ছোট পাসিং, পজিশনিং এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপর বিশেষ নজর।

কৌশলগত বৈঠকেই সূচনা

অনুশীলনের আগের দিনই দলের ফুটবলারদেরসঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছিলেন লোবেরা। জানা গিয়েছে, সেখানে তিনি তুলে ধরেন বাগানের আগামী দিনের রণকৌশল ও তাঁর ফুটবল দর্শনের মূল দিকগুলি। এদিন অনুশীলন শুরুর আগেও ফুটবলারদের নিয়ে হয় আরও এক দফা আলোচনা। এই থেকেই স্পষ্ট মাঠে পজিশনাল প্লে ও গতিময় পাসিং ফুটবলের মাধ্যমে মোহনবাগানকে নতুন ধারায় গড়ে তুলতে চান তিনি।

প্রথম ৩০ মিনিট জুড়ে বাগান ফুটবলারদের দৌড়ে ঘাম ঝরাতে দেখা যায়। তারপরই শুরু হয় মূল অনুশীলন। দলকে দু’ভাগে ভাগ করে ছোট-ছোট পাসে খেলা, ওয়ান-টাচে পজিশন বদল, দ্রুত জায়গা নেওয়া লোবেরার নির্দেশনায় যেন ফুটবলাররা শুরু থেকেই তাল মিলিয়ে দিতে চান। সহকারি কোচ ডিও গ্রাসিয়াও ছিলেন পুরোপুরি সক্রিয়। তিনি পরিষ্কারভাবে ফুটবলারদের বোঝাতে থাকেন যে লোবেরা কোন পরিস্থিতিতে ঠিক কী চাইছেন।

দিনের শেষে নজর কাড়ল কোচের বিশেষ সময়। অনুশীলন শেষে লোবেরা দীর্ঘক্ষণ গম্ভীরভাবে কথা বললেন মনবীর সিংয়ের সঙ্গে। এফসি গোয়া থেকেই তাদের পূর্বের সম্পর্ক। লোবেরা স্পষ্ট করলেন, মনবীর দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং তাঁর উপর আস্থা রয়েছে।

তিন তারকার অনুপস্থিতি

তবে প্রথম দিনের অনুশীলনে অনুপস্থিত ছিলেন তিন বড় নাম। অপুইয়া শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাঠে এলেও অনুশীলনে যোগ দিতে পারেননি। সাহাল আব্দুল সামাদ পারিবারিক কারণে অনুপস্থিত। লিস্টন কোলাকোকে না দেখা গেলেও তাঁর অনুপস্থিতির কারণ জানায়নি বাগান ম্যানেজমেন্ট।

mohun-bagan-sg-first-training-under-sergio-lobera

শুরুতেই তেজস্বী, লোবেরার ছোঁয়া স্পষ্ট

সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রথম দিন থেকেই দলের মধ্যে নতুন এক উৎসাহ তৈরি করেছেন সার্জিও লোবেরা। তাঁর প্রশিক্ষণে ফিটনেস, দ্রুততা ও পাস ভিত্তিক আধুনিক ফুটবলের যে ছাপ পড়ে, তা মোহনবাগানের অনুশীলনেও স্পষ্ট। সমর্থকরাও আশা করতেই পারেন, লোবেরা-যুগে বাগান নতুন এক ছন্দে উঠবে। আর প্রথম দিনের অনুশীলন যেন সেই নবযাত্রার প্রতিশ্রুতি।

ডুয়ার্সে তৃণমূলকে বড় ধাক্কা! ফালাকাটায় ৩০ পরিবার বিজেপিতে যোগ

duars-falakata-30-families-join-bjp-tasati-tea-garden

আলিপুরদুয়ার জেলার ডুয়ার্স অঞ্চলে আবারও রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। রবিবার ফালাকাটা ব্লকের তাসাটি চা বাগানে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে একযোগে ৩০টি পরিবার বিজেপিতে (BJP) যোগ দিল। ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে উত্তেজনা ও চর্চার সৃষ্টি হয়েছে।

ফালাকাটার বিজেপি বিধায়ক দীপক বর্মন নিজ হাতে যোগদানকারীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানান। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ডুয়ার্সের চা শ্রমিক এলাকার মানুষের আস্থাই প্রমাণ করছে—তৃণমূলের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে এবং বিজেপির প্রতি সমর্থন সুসংহত হচ্ছে।

🏞️ তাসাটি চা বাগানে জমকালো যোগদান অনুষ্ঠান

এদিন তাসাটি চা বাগানের খুদি লাইনে বিজেপির পক্ষ থেকে একটি ছোট হলেও সুশৃঙ্খল যোগদান অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। চা শ্রমিক পরিবারগুলির উপস্থিতিতে এলাকাটি কার্যত ছোটখাটো রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হয়। বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে একে একে ৩০টি পরিবার মঞ্চে উঠে নিজেদের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন।

যারা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই মূলত চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের সদস্য—মহিলারা, যুবরা, প্রবীণ শ্রমিক—সবাই এতে অংশ নেন। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছেন, এই যোগদান ভবিষ্যৎ নির্বাচনের আগে শ্রমিক অঞ্চলে বিজেপির শক্তি আরও বাড়াবে।

🎙️ বিধায়ক দীপক বর্মনের বক্তব্য — “চা শ্রমিকদের পাশে সবসময় বিজেপি”

যোগদানকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন বলেন—

“ডুয়ার্সের চা শ্রমিকদের উন্নয়নের কথা তৃণমূল গত ১০ বছরে শুধু বলেছে, কাজ করেনি। মানুষ আর প্রতিশ্রুতি চায় না, বাস্তব উন্নয়ন চায়। বিজেপি সেই উন্নয়নকে প্রতিশ্রুতি নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখছে।”

তিনি আরও দাবি করেন—

“চা বাগানে স্বাস্থ্য পরিষেবা, আবাসন, পানীয়জল—সব ক্ষেত্রেই দুরবস্থা। তৃণমূল শুধু ভোটের আগে বাগান এলাকায় আসে। কিন্তু বিজেপি সারাবছর মানুষের পাশে থেকে সমস্যার সমাধানে লড়াই করে।”

বিধায়ক এও বলেন, আগামী দিনে ডুয়ার্সের প্রতিটি চা বাগান এলাকায় বিজেপি আরও শক্তিশালী হবে।

👥 বিজেপি নেতৃত্বদের উপস্থিতি

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—

  • বিজেপি নেতা জয় সূত্রধর,

  • ফালাকাটা এক নম্বর মণ্ডলের সভাপতি অনুপ দাস,

  • স্থানীয় বিজেপি কর্মী–সমর্থকরা,

  • চা শ্রমিক সংগঠনের কয়েকজন স্থানীয় সদস্য।

তাঁরা প্রত্যেকেই যোগদানকারীদের অভ্যর্থনা জানিয়ে ভবিষ্যতে দলীয় সংগঠনে যুক্তভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

📌 কেন তৃণমূল ছাড়লেন ৩০টি পরিবার?

যোগদানকারীদের মতে, তাঁদের ক্ষোভের মূল কারণ—

  • বাগানে ন্যায্য মজুরি না পাওয়া

  • আবাসন সমস্যা

  • বাগানের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অভাব

  • পানীয়জলের দুরবস্থা

  • রাস্তা ও মৌলিক পরিকাঠামোর অবনতি

  • স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ

  • সরকারি প্রকল্পে বঞ্চনার অভিযোগ

এক যোগদানকারী বলেন—

“আমরা তৃণমূলকে বহু সুযোগ দিয়েছি। কিন্তু আমাদের এলাকা থেকে ভোট নিলেও কাজ হয়নি। তাই উন্নয়নের স্বার্থে বিজেপিকে সুযোগ দিতে চাই।”

🗺️ ডুয়ার্সের চা বলয়ে পরিবর্তনের সঙ্কেত?

ডুয়ার্স, ডুয়ার্সের চা বাগান অঞ্চল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বহু বাগান শ্রমিক পরিবার থাকে, যাদের ভোট একত্রে গেলে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে। গত কয়েক বছরে বিজেপি এই অঞ্চলে সাংগঠনিকভাবে বড় বাড়ন্ত দেখেছে।

২০১৯ ও ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি ডুয়ার্সে বড় আকারে বাড়তি ভোট পেয়েছিল।

তাই এই ৩০টি পরিবারের যোগদানকে বিজেপির দাবি অনুযায়ী “পরিবর্তনের লক্ষণ” হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাসাটি চা বাগানের এই যোগদান অনুষ্ঠান নিছক একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়—ডুয়ার্সের চা বাগান এলাকায় ভোট রাজনীতিতে পরিবর্তনের নতুন বার্তা দিচ্ছে। জেলার রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—

  • চা শ্রমিকদের সমস্যা কি আগামী নির্বাচনে বড় ইস্যু হবে?

  • তৃণমূল কি শ্রমিক অঞ্চল হারাচ্ছে?

  • বিজেপির সংগঠন কি আরও শক্তিশালী হচ্ছে?

আসন্ন মাসগুলোতেই এই প্রশ্নগুলোর উত্তর স্পষ্ট হবে। তবে আপাতত বিজেপি ডুয়ার্সে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধিতে আরেকটি নতুন সংযোজন পেল—তাসাটি চা বাগানের ৩০টি পরিবার তাঁদের পাশে দাঁড়ালেন।

দু’দিনের ভারত সফরে পৌঁছালেন ভ্লাদিমির পুতিন

দু’দিনের ভারত সফরে পৌঁছালেন ভ্লাদিমির পুতিন

দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে এলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও ভূ-রাজনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে। এই সফরকে ‘গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মুহূর্ত’ বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।

হুমায়ূন বিতর্কে বিস্ফোরক সজল ঘোষ, মুর্শিদাবাদে তাপ বাড়ল

হুমায়ূন বিতর্কে বিস্ফোরক সজল ঘোষ, মুর্শিদাবাদে তাপ বাড়ল

মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক অঙ্গন আরও তপ্ত।! হুমায়ূন কবীরের বাবরি ইস্যুকে (Babri Controversy) কেন্দ্র করে সাসপেনশনের পর এবার সরব BJP নেতা সজল ঘোষ। তাঁর তীব্র মন্তব্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্যে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা—এই বিতর্ক আরও কত দূর গড়াবে?

তালসারীতে ৩০ ফুট, ৫০ কুইন্টালের দৈত্যাকার হাঙ্গর!

rare-30-foot-shark-found-at-talsari-beach-india

তালসারী বিচে হঠাৎই তীরে উঠে এলো বিশালাকারের একটি বিরল প্রজাতির হাঙ্গর (Rare Shark Found)। ৩০ ফুট লম্বা ও ওজন প্রায় ৫০ কুইন্টাল। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজ্ঞানী ও বনদপ্তর ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে, কীভাবে গভীর সমুদ্র থেকে এটি তীরে এসে পড়ল তা জানতে।

‘RSS-মার্কা মুখ্যমন্ত্রী’ বলে মমতাকে তোপ সাসপেন্ডেড হুমায়ুনের

Police Detain Humayun Kabir’s Son in Connection with Inquiry

বাবরি মসজিদের শিলান্যাস ঘিরে মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে আজীবনের জন্য সাসপেন্ড করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন হুমায়ুন। সাফ জানিয়ে দেন—দল ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি তাঁর শেষ হয়ে গিয়েছে, এবং খুব শিগগিরই তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক দল ঘোষণা করবেন।

বিধায়ক পদে ইস্তফা

হুমায়ুন কবীর বলেন, “কালকেই রিজাইন দিয়ে দেব। নতুন দল গড়ছি। কাল অথবা সোমবারই বিধায়ক পদে ইস্তফা দেব। আপনাদের কাছেই শুনলাম দল আমাকে সাসপেন্ড করেছে! ফিরহাদ হাকিমের কথার কৈফিয়ত দেব না—যা পারে করুক। ২০১৫ সালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও কোনও নোটিস না দিয়ে আমায় সাসপেন্ড করেছিলেন।”

দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর ঘণ্টা দু’য়েকের মধ্যে তিনি জানান, জেলা সভাপতির সঙ্গে কথা বলে বহরমপুরে সাংবাদিক বৈঠক করবেন। শোনা যাচ্ছে, ২২ ডিসেম্বর তিনি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটাতে চলেছেন। তাঁর দাবি, ৩১ সদস্য ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন এবং দল হবে “ধর্মনিরপেক্ষ”। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল এবং BJP—উভয়ের বিরুদ্ধেই লড়াই করবেন বলেও ঘোষণা করেছেন ভরতপুরের বিধায়ক।

বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য— “নিজের টাকায় মুসলিমদের জন্য মসজিদ গড়তে বাধা কেন? যখন ক্লাবগুলোকে সরকার টাকা দেয়? উন্নয়নের নামে তোলাবাজি চলে? মসজিদ তো গড়বই। এই RSS-মার্কা মুখ্যমন্ত্রীর থেকে আগামী দিনে কেউ যদি BJP-র মুখ্যমন্ত্রী হন, তাতেও স্বাগত।”

কেন সাসপেন্ড করল তৃণমূল?  TMC MLA Suspended Babri Masjid

সাংবাদিক বৈঠকে শহর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান, দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্মতিতেই হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

ফিরহাদের অভিযোগ, “তৃণমূল ঘৃণার রাজনীতি বরদাস্ত করে না। উনি রেজিনগরের মানুষ, কিন্তু ভরতপুরের বিধায়ক হয়েও বেলেডাঙার মতো ধর্মীয়ভাবে স্পর্শকাতর এলাকায় বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করতে চাইছেন কেন? এতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সম্ভাবনা রয়েছে। BJP-র উস্কানিতেই তিনি বিভাজনের রাজনীতি করছেন।”

মন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, যারা ধর্মকে হাতিয়ার করে রাজনীতি করতে চান—তাদের সঙ্গে তৃণমূল কোনও সম্পর্ক রাখবে না।

BJP-র তীব্র আক্রমণ: ‘মমতা বাবরের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন’

হুমায়ুনের সাসপেনশনকে “নাটক” বলে কটাক্ষ করেছে BJP। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন,
“যখন উনি বলেছিলেন—ওরা ৩০ শতাংশ, আমরা ৭০ শতাংশ; যখন বলেছিলেন কেটে ভাসিয়ে দেব—তখন তৃণমূল কী করছিল? আজকের ঘটনা স্রেফ রাজনৈতিক নাটক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাবরের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন। ভারতের মানুষ এই রাজনীতি মেনে নেবে না।”

রাজনৈতিক অঙ্ক আরও জটিল

২২ ডিসেম্বর হুমায়ুনের নতুন দল ঘোষণার সম্ভাবনা রাজনৈতিক মহলে নতুন তরঙ্গ তুলেছে। মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের সংগঠনগত সমীকরণে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। একইসঙ্গে তৃণমূল, BJP এবং হুমায়ুন কবীর—তিন শিবিরেই উত্তেজনা তুঙ্গে।