19 C
Kolkata
Sunday, February 5, 2023

ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রথম ব্যারিস্টার ছিলেন নারীশিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ

- Advertisement -

বিশেষ প্রতিবেদন: তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রথম ব্যারিস্টার। নারীশিক্ষা বিস্তারের অন্যতম নেতা। তিনি মনমোহন ঘোষ (Manmohan ghosh)। ১৮৬২ থেকে ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে থাকাকালীন ইউনিটারিয়ান সংস্কারক মেরি কার্পেন্টারের সাথে মনমোহনের বন্ধুত্ব হয়। মেরি ১৮৬৯ খ্রিঃ নারীশিক্ষা বিস্তারের পরিকল্পনা নিয়ে কলকাতায় এলে মনমোহন তার সর্বাপেক্ষা উৎসাহী সমর্থকদের একজন হয়ে ওঠেন। তারা কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়ান রিফর্ম অ্যাসোসিয়েশনের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি নর্মাল স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হন।

- Advertisement -

অ্যানেট অ্যাক্রয়েড নামে আরও একজন ইউনিটারিয়ান সংস্কারকের সাথেও মনমোহনের বন্ধুত্ব হয়েছিল। ১৮৭২ খ্রিঃ অক্টোবরে নারীশিক্ষার প্রসারার্থে ভারত সফরের সময় মনমোহনের বাড়িতে তিনি অতিথি হয়েছিলেন। মনমোহন ঘোষের স্ত্রী স্বর্ণলতা অ্যানেট অ্যাক্রয়েডকে মুগ্ধ করেন, কিন্তু কেশবচন্দ্র সেনের “মুক্তিপথভ্রষ্টা হিন্দু স্ত্রীকে” দেখে অ্যাক্রয়েড মর্মাহত হন।

- Advertisement -

হিন্দু মহিলা বিদ্যালয়ের সাথে মনমোহন ঘোষ জড়িত ছিলেন, এবং অ্যানেট অ্যাক্রয়েডের বিয়ের পর বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয় নাম দিয়ে বিদ্যালয়টির পুনর্গঠনে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। এর পর বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয় ও বেথুন স্কুলের একীকরণে তিনি প্রধান ভূমিকা নেন।মনমোহন ঘোষের মৃত্যুকালে সংযুক্ত বিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল এবং মেয়েদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত পঠনপাঠন সেখানে চালু করা গিয়েছিল। তার কৃষ্ণনগরের বসতবাটি টি বর্তমানে কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুল হিসেবে পরিচিত।বিলেত থেকে ফেরার পর তার প্রথম কাজ ছিল তার স্ত্রীকে শিক্ষাদানের জন্য লরেটো কনভেন্টের মিশনারিদের নিযুক্ত করা। এই শিক্ষা শেষ হওয়ার পরেই সস্ত্রীক মনমোহন সংসারজীবন আরম্ভ করেন।

লিংকন’স্ ইন্ থেকে মনমোহন ঘোষ ওকালতি করার ডাক পেয়েছিলেন, কিন্তু ১৮৬৬ খ্রিঃ তিনি ভারতে ফিরে আসেন। এই সময়ে তার পিতৃবিয়োগ হয় এবং তিনি ১৮৬৭ খ্রিঃ কলকাতা হাইকোর্টে ব্যারিস্টারি শুরু করেন।
কলকাতা হাইকোর্টে কর্মরত প্রথম ভারতীয় ব্যারিস্টার ছিলেন মনমোহন। ১৮৬২ ইংল্যান্ডের লিংকন’স্ ইন্ থেকে ডাক পাওয়া প্রথম ভারতীয় জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুর পাকাপাকিভাবে ইংল্যান্ডে থাকতে শুরু করেন; তিনি কলকাতায় থাকেননি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লিনকন’স্ ইন্ থেকে তৃতীয় ভারতীয় হিসেবে ডাক পান ঊমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে।

সহজাত কর্মদক্ষতার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই মনমোহন ঘোষ ফৌজদারি আইনজীবী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। উকিল হিসেবে তার উচ্চপদস্থ ব্রিটিশ কর্মচারীদের লোভী স্বরূপ উদ্ঘাটন এবং নির্দোষ ভারতীয়দের আইনি সুরক্ষা প্রদানের প্রচুর নিদর্শন রয়েছে।