ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত পরিদর্শনে ইস্টার্ন কমান্ড প্রধান

ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিরতার আবহে (India Bangladesh border security review)নিরাপত্তা প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলার বেলোনিয়া সীমান্ত ফাঁড়ি পরিদর্শন করলেন ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন…

eastern-command-chief-inspects-india-bangladesh-border-belonia

ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক অস্থিরতার আবহে (India Bangladesh border security review)নিরাপত্তা প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ত্রিপুরার দক্ষিণ জেলার বেলোনিয়া সীমান্ত ফাঁড়ি পরিদর্শন করলেন ভারতীয় সেনার ইস্টার্ন কমান্ডের জিওসি-ইন-চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর সি তিওয়ারি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন একাধিক সিনিয়র সামরিক আধিকারিক। সীমান্তে এই উচ্চপর্যায়ের সফরকে নিছক রুটিন ভিজিট হিসেবে দেখছে না প্রতিরক্ষা মহল। বরং একে স্পষ্টভাবে ‘অপারেশনাল রেডিনেস যাচাই’ বলেই মনে করা হচ্ছে।

বেলোনিয়া সীমান্ত ফাঁড়িতে পৌঁছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল তিওয়ারি প্রথমে সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার খোঁজ নেন। নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা, টহলদারি, ইন্টেলিজেন্স ইনপুটের ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময়সীমা—সব দিক খুঁটিয়ে দেখা হয়। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে সেনা ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় কতটা মজবুত, তাও পর্যালোচনা করা হয়।

Advertisements

পদ্মাপাড়ের হাত ধরে বাংলাও ভুলবে ছায়ানট? বিস্ফোরক বিজেপি

সেনা সূত্রের দাবি, এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ‘রেডিনেস চেক’। অর্থাৎ, যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে বাহিনী কতটা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম, তা সরেজমিনে যাচাই করা। সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, বেআইনি গতিবিধি কিংবা হঠাৎ উত্তেজনার মতো পরিস্থিতিতে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে এই সমস্ত বিষয়েই জোর দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতার খবর এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনার জল্পনা প্রতিরক্ষা মহলের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যদিও ভারতীয় সেনা বা বিএসএফের তরফে কোনো নির্দিষ্ট হুমকির কথা প্রকাশ্যে বলা হয়নি, তবুও পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি নজরে রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই যে এই সফরের মূল লক্ষ্য, তা স্পষ্ট।

পরিদর্শনের সময় লেফটেন্যান্ট জেনারেল তিওয়ারি ফিল্ড কমান্ডারদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সীমান্তে মোতায়েন জওয়ানদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে তাঁদের মনোবল, কাজের চাপ এবং লজিস্টিক সহায়তার বিষয়েও খোঁজ নেন। প্রতিরক্ষা সূত্রে জানানো হয়েছে, সেনা প্রধানের বার্তা ছিল পরিষ্কার সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই অগ্রাধিকার, তবে প্রয়োজনে কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাহিনীকে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে হবে।

এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ত্রিপুরার ভূগোল। রাজ্যটির দীর্ঘ অংশ বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা এবং অতীতে এই অঞ্চল দিয়ে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে বেলোনিয়ার মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি ও প্রস্তুতির মান কতটা উন্নত, তা সরাসরি দেখে নেওয়াই ছিল এই পরিদর্শনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সফর শুধু বাহিনীর প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য নয়, বরং একটি কৌশলগত বার্তাও বহন করে। একদিকে সীমান্তে কর্মরত জওয়ানদের মনোবল বাড়ে, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ ও সংশ্লিষ্ট মহলকে জানিয়ে দেওয়া হয় ভারত পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং কোনও রকম ঝুঁকি নেওয়ার প্রশ্ন নেই।

সেনা সূত্রে শেষ পর্যন্ত জানানো হয়েছে, সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ভারতীয় সেনা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। বেলোনিয়া সীমান্ত ফাঁড়িতে ইস্টার্ন কমান্ড প্রধানের এই উপস্থিতি কার্যত সেই প্রস্তুতিরই প্রকাশ্য ইঙ্গিত।