শ্রীঘরে সুজিত ! নিশীথের হুশিয়ারিতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন অরূপও

কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার ক্রীড়ামহলেও বড় ঝড়ের ইঙ্গিত। (Nisith Pramanik)পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক দায়িত্ব নিয়েই কড়া বার্তা দিলেন পূর্বতন…

nisith-pramanik-probe-messi-incident-kolkata

কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার ক্রীড়ামহলেও বড় ঝড়ের ইঙ্গিত। (Nisith Pramanik)পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক দায়িত্ব নিয়েই কড়া বার্তা দিলেন পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই তিনি ঘোষণা করেছেন, বহুল বিতর্কিত ‘মেসি কাণ্ড’-এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ওই ঘটনার সমস্ত ফাইল তলব করা হয়েছে এবং তদন্তে অনিয়ম বা প্রভাবশালীদের ভূমিকা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ফুটবল বিশ্বতারকা লিও মেসি কলকাতায় এসেছিলেন। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী মোটা টাকার টিকিট কেটে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়েছিলেন শুধুমাত্র মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায়। কিন্তু সেই আয়োজনই পরে পরিণত হয় বিশৃঙ্খলায়।

Advertisements

আরও দেখুনঃ চন্দ্রনাথ খুন তদন্তে মধ্যমগ্রাম পৌঁছল CBI

অভিযোগ, অনুষ্ঠানের দিন মাঠের ভিতরে অতিরিক্ত ‘ভিআইপি’ প্রবেশ, নিরাপত্তার অভাব এবং চরম অব্যবস্থাপনার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের মাঠে ঢুকে সেলফি তোলার হিড়িক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে যে, মেসি মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান বলে অভিযোগ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সাধারণ দর্শকরা। স্টেডিয়ামের একাধিক অংশে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে এবং নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন অনেকে।

সেই সময় বিরোধীরা অভিযোগ করেছিল, সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের কথা না ভেবে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সুবিধা দেওয়াতেই গোটা অনুষ্ঠান ব্যর্থ হয়। যদিও তৎকালীন সরকার সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। তবে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর আবার নতুন করে সামনে উঠে এসেছে সেই বিতর্ক।

মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “রাজ্যের মানুষ টিকিট কেটে মাঠে গিয়েছিলেন মেসিকে দেখতে। কিন্তু তাঁদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে। কেন এই বিশৃঙ্খলা হল, কারা দায়িত্বে ছিলেন এবং কেন সাধারণ দর্শকরা বঞ্চিত হলেন, সবটাই খতিয়ে দেখা হবে।” তিনি আরও বলেন, পুরো রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে জমা দেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শুধু মেসিকাণ্ড নয়, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ক্রীড়া ক্ষেত্রে ‘অন্তর্ঘাত’ এবং ‘পরিবারতন্ত্র’-এর অভিযোগও তুলেছেন নিশীথ প্রামাণিক। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া প্রশাসনে স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পুরো ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করত। ফলে প্রকৃত খেলোয়াড় ও সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীরা বঞ্চিত হয়েছেন।

এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। বিশেষ করে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুজিত বসুর গ্রেফতারের পর এবার ক্রীড়া প্রশাসন ঘিরেও তদন্তের ইঙ্গিত মিলছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ নিশীথ প্রামাণিকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মানের কোনও অনুষ্ঠানে এমন বিশৃঙ্খলা বাংলার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাই প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা জরুরি।