মুম্বই: মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগ আয়োজিত ‘জশন-এ-উর্দু’ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। কিন্তু অনুষ্ঠানের ঠিক আগের রাতে, ৩১ জানুয়ারি তাঁকে জানানো হয় যে তাঁর আসার প্রয়োজন নেই। এখানেই শেষ নয়, অভিনেতার অভিযোগ, দর্শকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মিথ্যা প্রচার করেছে যে তিনি নিজেই নাকি আসতে চাননি। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ নাসিরুদ্দিন ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর কলামে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বড় বয়ান দিলেন।
কেন বাদ পড়লেন নাসিরুদ্দিন?
নিবন্ধে নাসিরুদ্দিন শাহ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তাঁর সরকার-বিরোধী অবস্থানের কারণেই তাঁকে অনুষ্ঠান থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। তিনি লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি ছিল, তিনি নাকি দেশের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এই অভিযোগকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ৭৫ বছর বয়সী অভিনেতা বলেন, “আমি ওই আধিকারিককে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি, আমার এমন একটা বয়ান দেখান যেখানে আমি ভারতের নিন্দা করেছি।”
‘বিশ্বগুরু’কে কটাক্ষ ও বর্তমান পরিস্থিতি Naseeruddin Shah University snub
বর্তমান শাসনের সমালোচনা করতে গিয়ে নাসিরুদ্দিন বলেন, “আমি কখনোই স্বঘোষিত ‘বিশ্বগুরু’র প্রশংসা করিনি। তাঁর আচরণে আমি বিরক্ত এবং গত ১০ বছরে তাঁর কোনো কাজই আমাকে মুগ্ধ করেনি। আমি দেশের নেতৃত্বের সমালোচনা করেছি, কিন্তু তার মানে দেশদ্রোহিতা নয়।” তিনি বর্তমান ভারতের পরিস্থিতিকে জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত উপন্যাস ‘১৯৮৪’-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, দেশে এখন ‘থট পুলিশ’ (চিন্তার ওপর নজরদারি) এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। যেখানে নেতার প্রশংসা না করাকেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
একাধিক ইস্যুতে ক্ষোভ
নাসিরুদ্দিন শাহ তাঁর নিবন্ধে বেশ কিছু স্পর্শকাতর ইস্যু তুলে ধরেছেন৷
- ছাত্র আন্দোলনকারীদের বছরের পর বছর বিনা বিচারে জেলে আটকে রাখা হচ্ছে৷
- গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্তদের জামিন পাওয়া।
- গোরক্ষক বাহিনীর দৌরাত্ম্য ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে ঘৃণা ভাষণ।
- পাঠ্যবই থেকে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা।
ক্ষোভের সঙ্গে তিনি লিখেছেন, “এই ঘৃণা আর কতদিন চলবে? এটা সেই দেশ নয় যেখানে আমি বড় হয়েছি এবং যা ভালোবাসতে শিখেছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মিথ্যাচার’ নিয়ে সরব
নাসিরুদ্দিন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন ভেবে তিনি এই অনুষ্ঠানের জন্য মুখিয়ে ছিলেন। কিন্তু কোনো ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়াই তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের ‘মিথ্যা’ অজুহাতকে তিনি ‘ক্ষতস্থানে নুনের ছিটে’ দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছেন।




















