পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আবারও নির্বাচনের আগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। (Nandigram)ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক সংঘর্ষ, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ঝড়। রাতের অন্ধকারে বোমাবাজি এবং তাজা বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়, যা নিয়ে আতঙ্কে সাধারণ মানুষ।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই নন্দীগ্রাম কেন্দ্রেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী-এর হাইভোল্টেজ লড়াই নজর কেড়েছিল গোটা রাজ্যের। সেই কেন্দ্রেই ২০২৬-এর নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এবার লড়াইয়ের সমীকরণেও এসেছে নতুন মোড়। শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে তাঁর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী পবিত্র কর, যা এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আরও দেখুনঃ টার্গেট ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’? নদীয়ায় বাদ আড়াই লক্ষ মহিলার ভোট! ‘চক্রান্ত’ দেখছে তৃণমূল
এই আবহেই নন্দীগ্রামের দাউদপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা চরমে। বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সংখ্যালঘু সেলের সাধারণ সম্পাদক আব্বাস বেগ অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ান তাঁকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, গত ১৫ এপ্রিল নয়নানে পবিত্র করের সমর্থনে অনুষ্ঠিত একটি পথসভা থেকে তাঁকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি এবং হুমকি দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর আব্বাস বেগ নন্দীগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগ জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁর দাবি, ১৬ এপ্রিল গভীর রাতে তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজি করা হয়। ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং রাতেই নন্দীগ্রাম থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
আব্বাস বেগের আরও দাবি, পুলিশ তাঁর বাড়ির পাশ থেকে তাজা বোমা উদ্ধার করেছে, যা এই ঘটনাকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ান। তাঁর বক্তব্য, তিনি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে হুমকি দেননি এবং আব্বাস বেগ কোনও উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক নেতা নন। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, যদি সত্যিই কোনও হুমকির ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তার ভিডিও প্রমাণ থানায় জমা দেওয়া হোক।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। একদিকে বিজেপি এই ঘটনাকে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে তৃণমূল পুরো অভিযোগকেই ভিত্তিহীন বলে দাবি করছে। ফলে ভোটের আগে নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। তাঁদের মতে, ভোটের সময় এলেই এলাকায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে রাতের বোমাবাজির ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ সূত্রে খবর, সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




















